রাতের আঁধারে ভিক্ষুকের দরজায় ত্রাণ নিয়ে নওগাঁর ডিসি


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২০ - ০৯:৩৮:০৭ অপরাহ্ন

নওগাঁ সংবাদদাতা: নওগাঁ শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া এলাকায় সরকারি জমিতে টিনের তৈরি একটি ঘরে থাকেন প্রায় ৭০ বছর বয়সের সাবিয়া বেগম । মানুষের বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে জীবন চলে তাঁর। কিন্তু করোনাভাইরাস আতঙ্কে এখন কেউ বাড়িতে ঢুকতে দেন না। ফলে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছিল তাঁর। অন্যের ফেলে দেওয়া ভাত ধুয়ে খাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তাঁর এমন একটি ছবি ফেসবুকে দেখে খাবার পৌঁছে দেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ।
জানা গেছে, শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) দুপুরে উত্তপ্ত রোদে নওগাঁ শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া বিহারি কলোনি মাঠে ৭০ বছরের বৃদ্ধা সাবিয়া বেগম একটি টিনের ওপর নষ্ট ভাত পানিতে পরিষ্কার করে শুকাচ্ছিলেন। আর এমন দৃশ্য দেখে নওগাঁ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রিয়াজ খান মোবাইলে ছবি তুলে তার ফেসবুকে পোস্ট করেন।’ পোস্টটি দেওয়ার পর মানুষ ওই বৃদ্ধাকে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ করেন।
বিষয়টি নজরে আসে জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদের। এরপর তিনি রাতের আঁধারে ওই কলোনির ২৫টি কর্মহীন পরিবারকে ঘর থেকে ডেকে ডেকে ত্রাণসামগ্রী দিয়েছেন। ত্রাণ পেয়ে ভীষণ খুশি বৃদ্ধা সাবিয়া। তিনি বলেন, তাঁর বাড়িতে এখন এক মাসের চাল–ডাল আছে। আপাতত তাঁর খাওয়া নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ বলেন, অনেক পরিবার যারা কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে আছেন। কারো কাছে চাইতে পারেন না। গভীর রাতে এসে ওসব পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিরতণ করা হচ্ছে। এতে করে জনসমাগমের ভিড় হবে না। খাবারের অভাবে কেউ অভুক্ত থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে যথেষ্ট বরাদ্দ আছে এবং বরাদ্দ আসছে। আমরা সবাইকে খাবার দেব।
তিনি বলেন, কেউ সাহায্য দিতে চাইলে একই ব্যক্তিকে না দিয়ে যিনি মূলত কর্মহীন হয়েছেন তাকে দেবেন। জেলার বিত্তবান মানুষ, দফতর বা সংস্থা, এনজিও অথবা রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন যারা সহায়তা দিতে চান, সবাইকে অনুরোধ করব একই ব্যক্তি যাতে বার বার সহায়তা না পায় তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে তালিকা করুন।
তিনি আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে অনুগ্রহ করে আপনারা সকলে নিজ নিজ বাড়িতে থাকুন, নিরাপদে থাকুন। করোনার হাত থেকে দেশকে রক্ষা করুন। কারও ঘরে খাবার না থাকলে আমাদেরকে অবহিত করুন। আমরা খাবার পৌঁছে দেয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।