রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ: কাউন্সিল ঘিরে সরব পদপ্রত্যাশীরা

শীর্ষ দুই পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়েই জটিল সমীকরণ

» Md. Neamul Hasan Neaz | | সর্বশেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ - ০৯:৪২:৩০ পূর্বাহ্ন

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল ১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে নগরের রাজনীতি। কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পদপ্রত্যাশীরা নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ যেমন বাড়িয়েছেন, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়ে উঠেছেন সক্রিয়। পদপ্রত্যাশীদের পোস্টার-ব্যানারে নগরে সড়কের মোড়গুলো রঙিন হয়ে উঠেছে।

মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করা হয় ৬ ফেব্রুয়ারি। রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে দিনব্যাপী অনুষ্ঠেয় এ কাউন্সিল সফল করতে গঠন করা হয়েছে ৯টি উপকমিটি।

সূত্রমতে, সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের বিকল্প দেখছে না নেতাকর্মীদের বড় অংশ। তবে এই পদ পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আরও দুই নেতা। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তার সমর্থক নেতাকর্মীরাও ফেসবুকে সমর্থন চাইছেন।

সূত্র জানায়, মহানগর কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুর রহমান সভাপতি হওয়ার জন্য কেন্দ্রে জোর তদবির করছেন। তার সমর্থক তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, কেন্দ্র থেকে ঘোষণার মাধ্যমে এখন সংগঠনের অধিকাংশ কমিটির শীর্ষ পদে নেতা বসানো হচ্ছে। বজলুর রহমান এ সুযোগটা নিতে চান।

সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ৯ জন ছোটাছুটি করছেন। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার পদটি ধরে রাখতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। তার সমর্থকরা ফেসবুকে ‘ডাবলু সরকার সমর্থকগোষ্ঠী’ নামে পেজ খুলে প্রচার শুরু করেছেন।

এ ছাড়াও দুই যুগ্ম সম্পাদক নাইমুল হুদা রানা ও মোস্তাক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক পিন্টু, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুজ্জামান শফিক, মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান বাবু ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ শরিফুল ইসলাম বাবু সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে আগ্রহী। তারা লিটন ও কেন্দ্রের সমর্থন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

মহানগর কমিটির নেতা নির্বাচন কাউন্সিলরদের মতামতে নাকি কেন্দ্রের মনোনয়নে হবে- জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল বলেন, যেভাবেই নেতা নির্বাচন হোক, কেন্দ্র চায় বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারী, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও ভূমি দখলকারীরা কেউ পদ পাবেন না। জননেত্রী শেখ হাসিনা চান ত্যাগী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতারা সারা দেশে সংগঠনের নেতৃত্বে আসবেন। রাজশাহী মহানগরেও তাই হবে।

কেমন নেতৃত্ব চান- জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী আহসানুল হক পিন্টু বলেন, রাজশাহীর তৃণমূল নেতাকর্মীরা চান টেন্ডারবাজ, দখলবাজ ও সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক যাতে কেউ মহানগরে নেতৃত্বে আসতে না পারেন। হাইব্রিড কেউ যেন পদ বাগিয়ে নিতে না পারে, এ ব্যাপারেও কেন্দ্রের সজাগ থাকা জরুরি।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ১ মার্চ যে সম্মেলন হবে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচির সূচনা হবে এ মাসে। সম্মেলনকে সামনে রেখে নগরীকে সাজানো হবে। আশা করি, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্মেলন হবে, নেতাকর্মীরা পছন্দের প্রার্থীকে মনোনীত করবেন।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয় ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর। ওই কাউন্সিলে খায়রুজ্জামান লিটন সভাপতি ও ডাবলু সরকার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের পাঁচটি সাংগঠনিক থানা ও ৩৭টি ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে। ওয়ার্ড ও থানা কমিটিগুলো নতুনভাবে না হওয়ায় ২০১৪ সালের করা ৩৯৫ জন কাউন্সিলর দিয়েই এবারে মহানগর কমিটির সম্মেলন হবে।