রাজনীতিতে হতাশা বা ব্যর্থতার কোন স্থান নেই


» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ১৯ জুলাই ২০১৯ - ০৫:০৫:৫৯ অপরাহ্ন

চাঁদপুর জেলার কৃতি সন্তান সুজিত রায় নন্দী। ছোট বেলায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়ান তিনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করে ছাত্র রাজনীতির সবকটি ধাপ পেরিয়ে বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও সদ্বালাপী মানুষ। দলে তার রয়েছে ক্লিন ইমেজ। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের সিনিয়র নেতাদের একান্ত স্নেহ ভাজন সুজিত রায় নন্দী। তার এই বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকার।

উত্তরা নিউজ: আপনার রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের কিছু স্মৃতিগাঁথা ঘটনা বলুন?
সুজিত রায় নন্দী: আমি চাদঁপুর জেলা সদরের ৯নং বালিয়া ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেছি। ছোট বেলা থেকেই দেখেছি আমার পরিবার রাজনৈতিক সচেতন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে গড়া আমাদের পূর্ব পুরুষগণ। তারই ধারাবাহিকতায় আমি ও আমাদের পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হই। আমি আমার নিজ ইউনিয়ন পরিষদের ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম, সেটাই আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ট অধ্যায়। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে রাজনীতির মাঠে নিজেকে আরও বড় পরিসরে মেলে ধরার সর্বাতক চেষ্টা করি। এরই ধারাবাহিকতায় আমি ১৯৮৭ সালে ঢাবি জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হই। পরে  ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগণ্ণাথ হল ছাত্র সংসদের এজিএস নির্বাচিত পরবর্তীতে জিএস হিসাবে দায়িত্ব পালন করি। ১৯৮৯ সালে ঢাবি ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হয়েছি। ১৯৯২ সালে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পাই। ১৯৯৪ সালে ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। ১৯৯৮ সালে কেন্দ্রীয়ভাবে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি। ২০০১ সালে ছাত্রলীগের জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার।

উত্তরা নিউজ: কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে পদ পেলেন কখন?
সুজিত রায় নন্দী: আমি ২০০৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সহ-সম্পাদক, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হই। ২০১২ সালে পুনরায় আবার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। পরে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনে সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতৃক ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বাইশ জনের মাঝে আমাকে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

উত্তরা নিউজ: রাজনীতিতে এখন পর্যন্ত নিজের কার্যক্ষমতা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোন অপ্রাপ্তি আছে কি?
সুজিত রায় নন্দী: রাজনীতিতে হতাশা বা ব্যর্থতার কোন স্থান নেই। রাজনীতি হচ্ছে ব্রত। জনগণের সেবায় নিজেকে সারাজীবন নিয়োজিত রাখা। চাওয়া-পাওয়া মুখ্য নয়। ধৈর্য্য সব কিছুর জন্য প্রয়োজন। আর রাজনীতিতে ধৈর্য্য সবচেয়ে বেশি জরুরি। তবেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই আমার কাছে সব। তিনি ক্ষমতায় আছেন, আমরা তার কর্মী এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এর চেয়ে বেশি আর কি পাওয়ার আছে? তবে আমি রাজনীতি করি জনগণের জন্য। জনগণের ভালোবাসাই আমার সব চেয়ে বড় পাওয়া। সারাদেশের মানুষ আমাকে ভালজানে এটাই আমার শক্তি। আমি চাওয়া-পাওয়ার উর্ধ্বে একজন মানুষ। তবে অবশ্যই রাজনীতিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই আমার আশ্রয়স্থল। তিনি আমাকে স্নেহ করেন। এর চেয়ে বড় পাওয়া আমার কাছে আর কিছু নেই।

উত্তরা নিউজ: আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে পদ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোন উন্নতি আশা করছেন কি?
সুজিত রায় নন্দী: আমি রাজনীতি করি জনগণের জন্য। হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দল যারা করেন, তারা কেউ কোন পদপদবীর আশায় রাজনীতি করেন না। তবে যেহেতু রাজনীতি আমার ব্রত। পদ থাকলে কাজ করতে একটু সুবিধা হয়, এই আরকি। আমি জীবনে কখনও হতাশ হইনি। আর রাজনীতিতে হতাশা বা ব্যর্থতার কোন স্থান নেই। নেত্রী আমাকে যেখানে স্থান দিবে সেখানেই কাজ করব। আমি আশাবাদী মানুষ। সারাজীবন আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই। সেটা পদ থাকুক আর না থাকুক। আমি আমার কাজ করে যবো।

উত্তরা নিউজ: আপনি যে নির্বাচনী আসনে রয়েছেন, সেই একই আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী দিপুমনি নির্বাচন করেন, তাহলে আপনার অবস্থান কি?
সুজিত রায় নন্দী: আমি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার মানুষের পাশে আছি। ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল সে সময় এ আসন থেকে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তবে জরুরি অবস্থার কারণে সে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। এরপর ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে দলের তৃণমূলের ভোটে আমি প্রথম হই। পরে জননেত্রী যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তার পক্ষেই আমি কাজ করেছি। ২০১৪ সালেও জনমত এবং দলের তৃণমূল আমার পক্ষে থাকা সত্ত্বেও আমি মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হই। তারপরও আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দল সিদ্ধান্ত নেবে কাকে মনোনয়ন দেবে। তবে আশা করছি, আগামীতে দল আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে। আমি নৌকার লোক। নৌকার পক্ষেই সব সময় কাজ করে যাবো। রাজনীতিতে হতাশার জায়গা নেই। এর বাইরে আর কিছু বলার নেই।

উত্তরা নিউজ: দেশের বেশ কিছু জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, এবং ইতোমধ্যে বিএনপি পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণের ব্যবস্থা করছে না। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?
সুজিত রায় নন্দী: আমি আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে বলতে পারি সরকার প্রথম থেকেই বন্যার্তদের সাহায্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। দেশের যেসব জায়গা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে, সেখানে আমাদের সংগঠনের পক্ষে দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিএনপি বিরোধীতার জন্য বিরোধীতা করছে। তারা রাজনীতির ময়দানে দেউলিয়া হয়ে বেফাঁস কথা বলে বেড়াচ্ছে। অদর্শহীন দল হলে যা হয় আর কি।