মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান
উত্তরা নিউজ


রাজধানীতে কৃষি শুমারির তথ্য সংগ্রহে নানামুখী সমস্যা !






স্টাফ রিপোর্টার: গত ৯ জুন থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে কৃষি শুমারির কার্যক্রম। সরকারি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত মতে, দেশে চলমান কৃষি শুমারি বিশ্বখাদ্য ও কৃষি সংস্থার ওয়ার্ল্ড প্রোগ্রাম ফর দ্য সেনসাস অব এ্যাগ্রিকালচার ২০২০-এর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। সারাদেশের এক লাখ ৬৭ হাজার ছয়টি এলাকায় চলছে গণনা কার্যক্রম। আর এই গণনা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন এক লাখ ৩৮ হাজার ৮১৫ জন গণনাকারী। এর বাইরেও রয়েছেন আরও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ। জানা যায়, প্রতি দশ বছর পরপর এই শুমারি পরিচালিত হয় শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ে। এ শুমারির মাধ্যমে ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল অবধি বাংলাদেশের কৃষির অবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া সম্ভব যা পরবর্তীতে রেফারেন্স পয়েন্ট, গবেষণা এবং পলিসি গ্রহণে সহায়তা করবে বলে জানা যায়। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে আরও জানা যায়, ‘কৃষি শুমারি-২০১৯’ ৩৪৫ কোটি টাকার একটি বড় অংকের প্রকল্প।

সরকারের এত বড় প্রকল্পে আশানুরূপ ফল আসবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন সকলেই। কিন্তু এই প্রত্যাশা পূরণে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবে রাজধানীতে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারীরা? এমন প্রশ্নের জবাবে খুঁজে পাওয়া যায় এক হতাশার চিত্র। তথ্য সংগ্রহকারীদের সাথে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঈদের পর গ্রাম থেকে এখনও ঢাকাতে ফিরেননি অনেকেই। যা গ্রাম অঞ্চলগুলোতে তথ্য সংগ্রহকারীদের জন্য ভালো ভূমিকা রাখবে বটে এক্ষেত্রে রাজধানীতে তথ্য সংগ্রহকারীদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে। যেহেতু তথ্য সংগ্রহের কাজ, আর তাই প্রত্যেকের তথ্য সংগ্রহের নিমিত্তে একই বাড়িতে ৫ থেকে ৭ বারের অধিক গিয়ে গিয়ে মালিক-ভাড়াটিয়াদের সন্ধান করতে হচ্ছে। যা নির্দিষ্ট সময়ে বিশাল তথ্য সংগ্রহকে অনেকটা বাধাগ্রস্থ করছে। আবার যারা রাজধানীর বিভিন্ন সেক্টর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে বসবাস করছেন তারা তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করছে। যার ফলে সঠিক তথ্য সংগ্রহে নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে রাজধানীতে কৃষি শুমারির তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মীরা।

রাজধানীর দক্ষিণখান ও তুরাগের কয়েকজন তথ্য সংগ্রহকারীর সাথে কথা বলে এমনটাই জানা যায়। তারা জানায়, অনেক বাসায় ঈদের পর এখনও ভাড়াটিয়া আসেনি। ফলে ঐসকল বাসায় আমাদেরকে বার বার যেতে হচ্ছে। এদিকে নির্দিষ্ট সময়ে আগে তথ্য সংগ্রহ কতটুকু সম্পন্ন হবে, তা বুঝে উঠতে পারছি না। আবার অনেক বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও সঠিক তথ্য দিচ্ছেনা । এক্ষেত্রে তারা ভ্যাট, ট্যাক্সের আওতায় পড়াকে কারণ মনে করছে।

তবে কি উপায়ে রাজধানীর এই এলাকাগুলোতে সুষ্ঠুভাবে কৃষি শুমারির কাজ পরিচালিত হতে পারে? এক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহকারীরা রাজধানীতে আরও ভালভাবে প্রচার এবং সময় বৃদ্ধির কথা জানান।

সবশেষে বলা যায়, চলমান কৃষি শুমারিতে উপরোক্ত সমস্যাসমূহ নিরসনে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে রাজধানীতে ব্যর্থ হতে পারে ‘কৃষি শুমারি-২০১৯’ এর সঠিক তথ্য সংগ্রহের কাজ। আর তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে দেখা।