রাজকোটে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে রান উৎসবের আশা, সাথে বৃষ্টির আশঙ্কা


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০১৯ - ০৭:৪৭:২৫ অপরাহ্ন

রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি হয়েছে দুটি। দুই ম্যাচেই হয়েছে রান উৎসব। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচেও সম্ভবত ব্যতিক্রম হবে না।

২০১৩ সালে এই মাঠে হয়েছিল প্রথম টি-টোয়েন্টি। অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ভারত ৬ উইকেটে জিতেছিল দুই বল বাকি থাকতে। চার বছর পর ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ড আগে ব্যাট করে কলিন মানরোর সেঞ্চুরিতে ২ উইকেটে তুলেছিল ১৯৬ রান। জবাবে ভারত করেছিল ৭ উইকেটে ১৫৬।

এই মাঠে হওয়া দুটি ওয়ানডের চার ইনিংসেও আড়াইশর নিচে রান হয়নি। এর মধ্যে এক ম্যাচের দুই ইনিংসেই ছাড়িয়েছিল তিনশ। রান উঠেছে দুটি টেস্টেও। বৃহস্পতিবার এই মাঠেই সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে ভারত ও বাংলাদেশ।

ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে উইকেট নিয়ে ভারতের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রোহিত শর্মা বললেন, ‘উইকেট ভালোই দেখাচ্ছে। রাজকোট সব সময় ব্যাট করার জন্য ভালো ট্র্যাক। বোলারদেরও কিছুটা সহায়তা দেয়। এটা ভালো উইকেটই হবে। আমি নিশ্চিত যে দিল্লির চেয়ে ভালো হবে।’

একই সুর বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর কণ্ঠেও, ‘আমি জানি না এখানকার উইকেট কেমন হবে। তবে গড় রান যেটা বলে ১৭০-১৮০ রানের মতো স্কোর হয়ে থাকে। মানে অনেক বড় স্কোর হয়ে থাকে। আশা করি, উইকেট হয়তো ভালো হবে।’

এক গ্রাউন্ডস্টাফের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, উইকেটে ঘাস প্রায় নেই। ফলে সহজেই রান আসবে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বুধ ও বৃহস্পতিবার রাজকোটে প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। রাজকোট থেকে রাইজিংবিডির ক্রীড়া প্রতিবেদক ইয়াসিন হাসান অবশ্য জানিয়েছেন, বুধবার বিকেল পর্যন্তও মাঠে অনেক রোদ ছিল।

ভারতের আবহাওয়া অফিসের মতে, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সময়ের মাঝে গুজরাটে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘মাহা’। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গুজরাট ও মহারাষ্ট্রে প্রবল বৃষ্টিপাত হতে পারে।

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের ভেন্যু রাজকোটের অবস্থান গুজরাট উপকূল থেকে ১০০ কিলোমিটারের মতো দূরে।

বৃষ্টি হলে উইকেটের আচরণও পরিবর্তন হয়ে যাবে। গ্র্যান্ডসম্যান মানসুখভাই তেরাইয়া টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, বৃষ্টির শঙ্কার পর থেকেই উইকেট ঢেকে রাখা হয়েছে। বৃষ্টি হলে অবস্থা পুরোপুরি পরিবর্তন হয়ে যাবে।

সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামের ড্রেনেজ সুবিধা অবশ্য ভালো। ম্যাচ শুরু হবে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায়। সকালে বৃষ্টি হলেও সন্ধ্যায় ম্যাচ আয়োজনে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন স্টেডিয়ামের সেক্রেটারি হিমাংশু শাহ।

‘ম্যাচের দিন সকালে যদি বৃষ্টি হয় এবং দিনের বাকি সময়ে বৃষ্টি আর না হয়, তাহলে ম্যাচ হবে বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী। আমাদের ভালো ড্রেনেজ সুবিধা এবং অভিজ্ঞ গ্রাউন্ড স্টাফ আছে। ওরা যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় সক্ষম। আমরা শুধু প্রার্থনা করব বৃষ্টি যেন খুব বেশি না হয়’- বলেছেন হিমাংশু শাহ।

বৃষ্টি হলে আউটফিল্ড স্লো হয়ে যাবে। তখন রান করাও কঠিন হয়ে যাবে। হিমাংশু শাহ মনে করিয়ে দিয়েছেন সেটাও, ‘যদি ভারী বৃষ্টি হয় তাহলে আউটফিল্ড স্লো হয়ে যাবে এবং রান করাটা সহজ হবে না। তখন বাউন্ডারি মারা কঠিন হবে। আউটফিল্ডে বল দ্রত যাবে না।’