রসালো পিঠায় জিভে জল


» Md. Neamul Hasan Neaz | | সর্বশেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২০ - ১১:২৮:০৫ পূর্বাহ্ন

পৌষের আগমনের সাথে সাথে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় উপকূলে এখন শীতের আমেজ চলছে। ঘরে ঘরে খেজুরের রসের পিঠা বানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন মায়েরা। সদ্য বিবাহিত ছেলে-মেয়ের আত্মীয়দের আমন্ত্রণের ধুম পড়েছে প্রায় প্রত্যেকটি পরিবারে।

শীত শুরু হওয়ার সাথে সাথে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলীয় অঞ্চলের গাছিরা। শীত হলো খেজুর রস আহরণের মৌসুম। খেজুর রস থেকে তৈরি পিঠার উৎসব আবহমান বাংলার একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। রসের পিঠা-পায়েস বাঙালিন খাদ্য তালিকায় এখনও জনপ্রিয়।

গাছিরা জানান, বছর জুড়ে খেজুর গাছ অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকলেও শীতকালে উপকূলের চাষিদের কাছে এ গাছের কদর বেড়ে যায়। আর এ রস জ্বাল দিয়ে ঝোলা গুড়, দানা গুড় ও পাটালি তৈরি করা হয়। খেজুরের রস থেকে একসময় বাদামি চিনিও তৈরি করা হতো। এর স্বাদ ও ঘ্রাণ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

খেজুর গাছের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, যত বেশি শীত পড়বে, তত বেশি মিষ্টি রস দেবে। শীতের সকালে খেজুর রস পান শরীর ও মনে প্রশান্তি এনে দেয়। এর গুড় আবহমান বাংলার সংস্কৃতির অনুষঙ্গ।

এখন পটুয়াখালীর গাছিদের খেজুর রস সংগ্রহের পালা চলছে। তারা মাটির হাঁড়ি এবং প্ল্যাস্টিকের বোতলেও খেজুর রস আহরণ করছে। পুরো মৌসুম জুড়ে চলবে রস, গুড়, পিঠা-পুলি, পায়েস খাওয়ার পালা। নতুন গুড়ের মিষ্টি গন্ধে ধীরে ধীরে আমোদিত হয়ে উঠছে গ্রাম-বাংলা।

পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার রতনদী গ্রামের এক গাছি বলেন, বছরের অন্যদিনে আমাদের কদর না থাকলেও শীতে আমাদের কদর বেড়ে যায়। কারণ, সবাই তো গাছির কাজ করতে পারে না। নতুন করে তো আর কেউ গাছি হচ্ছে না। একসময় গাছি হওয়া অনেকের স্বপ্ন ছিলো।

এক বৃদ্ধা স্মৃতিচারণ করে বলেন, আজ থেকে প্রায় ৩০-৪০ বছর আগে এই শীতের সময় আমাদের মা-চাচিরা যে শীতের পিঠা বানাইতো, তা তোমরা দেহো নাই। সকাল বেলা খেজুরের রসের ভিজানো পিঠা দেখলে, জিব্বায় জল আইসা যাইতো। এখন তো আমাদের পোলার বউরা পিঠা বানানোর সময় পায় না।

স্থানীয় কলেজের এক শিক্ষক বলেন, খেজুর গাছ আমাদের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এর পরিকল্পিত আবাদ তেমন নেই। অথচ নির্বিচারে খেজুর গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। যা পল্লী বাংলার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। খেজুর গাছ থেকে সুমিষ্ট রস, গুড় আহরণ কেবল আমদের রসনা তৃপ্তির জন্য নয়, আমাদের পরিবেশ ও প্রাণ প্রকৃতির ভারসাম্য সুরক্ষায় খেজুর গাছের বাগান করা জরুরি।’