যে ব্যক্তি কসমের ওয়াজিব কাফ্‌ফারা অনাদায় রেখে মারা গেল


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০১৯ - ০১:২৮:০৮ অপরাহ্ন

যদি কোন মুসলিম কসমের ওয়াজিব কাফ্‌ফারা অনাদায় রেখে মারা যায় তাহলে তার অভিভাবকদের (ওয়ারিশদের) উপর ওয়াজিব পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টন করার আগে কাফ্‌ফারা আদায় করা।

কসমের কাফ্‌ফারা হচ্ছে: একটি গোলাম আযাদ করা কিংবা দশজন মিসকীনকে খাদ্য দান কিংবা তাদেরকে পোশাক দান।

তবে খরচ যেটাতে সবচেয়ে কম হয় সেটার মাধ্যমে কাফ্‌ফারা আদায় করা বাঞ্ছনীয় (বর্তমানে সেটা হচ্ছে খাদ্যদান)। যেহেতু এখন পরিত্যক্ত সম্পত্তির সাথে ওয়ারিশদের হক সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। যদি কাফ্‌ফারা আদায়ে বেশি খরচ হয় এতে ওয়ারিশরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে তারা যদি সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতিতে কাফ্‌ফারা পরিশোধ করতে চায় তাহলে এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত তাদেরই।

‘মুগনিল মুহতাজ’ কিতাবে (৬/১৯২) বলেন:

“কেউ যদি কাফ্‌ফারা অনাদায় রেখে মারা যান তখন ওয়াজিব হল তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে নিম্নতম মূল্যের শ্রেণী দিয়ে কাফ্‌ফারাটা আদায় করা।”[সমাপ্ত]

আর যদি মৃতব্যক্তি গরীব হয় এবং কোন সম্পদ রেখে না যায় তাহলে তার দায়িত্বে ওয়াজিব হওয়া কাফ্‌ফারা হচ্ছে তিনদিন রোযা রাখা। সেক্ষেত্রে মৃতের অভিভাবকের জন্য তার পক্ষ থেকে রোযা রাখা মুস্তাহাব। অভিভাবক রোযা রাখার স্থানে প্রতিদিনের বদলে একজন মিসকীনকে খাওয়াতে পারেন।

স্থায়ী কমিটির আলেমগণকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল:

এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তার উপর রমযানের দশটি রোযার কাযা পালন বাকী আছে। সে ব্যক্তি শাওয়াল মাসে সুস্থ হয়েছিল। কিন্তু তিনি কাযা পালনে অবহেলা করেছেন। মৃতব্যক্তির অভিভাবক কি তার পক্ষ থেকে রোযাগুলো রাখবে; নাকি অভিভাবকের রোযা রাখাটা শুধু মানতের রোযা ও কাফ্‌ফারার রোযার সাথে খাস?

জবাবে তারা বলেন: তিনি যে রোযাগুলো ভেঙ্গেছেন তার অভিভাবকের সে দিনগুলোর রোযা রাখা শরিয়তসম্মত। দলিল হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “যে ব্যক্তি এমতাবস্থায় মারা যায় তার উপর কিছু রোযা পালন বাকী আছে তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক রোযাগুলো পালন করবে”। এ হাদিসটি আম (সাধারণ)। সঠিক মতানুযায়ী এর বিধান রমযানের রোযা, মানতের রোযা, কাফ্‌ফারার রোযা সব রোযাকে শামিল করবে।[ফাতাওয়াল লাজনাদ দায়িমা (৯/২৬৩) থেকে সমাপ্ত]

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন:

“ভুলক্রমে হত্যার ক্ষেত্রে কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হয়…। আর যদি কোন লোকের উপর কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হয় কিন্তু সে কাফ্‌ফারা অনাদায় রেখে মারা যায় তখন তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াবে। এটি হচ্ছে রোযার প্রতিস্থাপন; যা পালন করতে তার শক্তি অপারগ হয়েছে। যদি রমযানের রোযার জন্য তার পক্ষ থেকে মিসকীন খাওয়ানো যায় তাহলে কাফ্‌ফারা ক্ষেত্রে খাওয়ানো আরও বেশি যুক্তিযুক্ত।”[মাজমুউল ফাতাওয়া (২৪/১৭০) থেকে সমাপ্ত]

শাইখ আব্দুল্লাহ্‌ আত্‌ তাইয়্যার (হাফিযাহুল্লাহ্‌) বলেন:

“যে ব্যক্তি তার কসমের কাফ্‌ফারা অনাদায় রেখে মারা যান তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক কি কসমের কাফ্‌ফারা পরিশোধ করবে?

জবাব: এ হুকুমের ক্ষেত্রে আলেমগণ মতবিরোধ করেছেন। সঠিক অভিমত হচ্ছে (আল্লাহ্‌ই সর্বজ্ঞ) তার অভিভাবকের উপর আবশ্যক তার সম্পদ থেকে কাফ্‌ফারা পরিশোধ করা। যদি মৃতব্যক্তির সম্পদ থাকে তাহলে অভিভাবকের উপর ওয়াজিব তার পক্ষ থেকে মিসকীন খাওয়ানো কিংবা বস্ত্রদান করা কিংবা গোলাম আযাদ করার মাধ্যমে কাফ্‌ফারা পরিশোধ করা। আর যদি তার কোন সম্পদ না থাকে তাহলে আলেমদের সঠিক মতানুযায়ী তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক কিংবা অন্য কেউ রোযা রাখবে। তবে রোযা রাখা কি ওয়াজিব; নাকি মুস্তাহাব? এটি আলেমদের মাঝে মতবিরোধপূর্ণ।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব