যে কণ্ঠ সত্য কথা বলে সৌদি সরকার সে কণ্ঠকে রুদ্ধ করে দেয়

উত্তরা নিউজ টোয়েন্টিফর ডটকম। অনলাইন: সৌদি আরবের বিশিষ্ট আলেম এবং ধর্মীয় স্কলার শায়েখ সালমান আল-আওদাহর ছেলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আব্দুল্লাহ আল-আওদাহ সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে ‘মৃত্যুদণ্ডের সম্মুখে আমার বাবা;সৌদিতে এটাই ইনসাফ’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন।

স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রবন্ধে তিনি বলেছেন, যে কণ্ঠ ইনসাফের ভিত্তিতে হক ও সত্য কথা বলে সৌদি সরকার সে কণ্ঠকে রুদ্ধ করে দেয়।

তিনি বলেন, তার বাবা সালমান আল-আওদাহ (৬১) সৌদি আরবের একজন সক্রিয় ধর্মপ্রচারক এবং চিন্তাবিদ।

তিনি সব সময় চরমপন্থা ও জুলুমের বিপক্ষে কথা বলতেন এবং সমাজ সংশোধনের আপ্রাণ চেষ্টা চালাতেন। তিনিসহ তার মতো বহু নিষ্ঠাবান আলেমে দ্বীনকে সৌদি সরকার গ্রেফতার করেছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রবন্ধে আব্দুল্লাহ আল-আওদাহ দাবি করেছেন, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রেফতার হওয়ার পরে তার বাবা খুবই সংকীর্ণ জীবনযাপন করছেন। জেদ্দার একটি জীর্ণ কারাকক্ষে তাকে একাকী বন্দি রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে তাকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে যখন তার বাবাকে গ্রেফতারের এক বছর পূর্ণ হয় তখনও তার সঙ্গে আইনজীবীদের সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়নি।

আব্দুল্লাহ আল-আওদাহ বলেন, ‘তার বাবাকে আটক করার অনেক কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, সরকারপক্ষ যেভাবে রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য করে-তিনি সবসময় এর সমালোচনা করতেন এবং জনগণকে সত্যের পক্ষ অবলম্বনে উদ্বুদ্ধ করতেন।

সৌদি-কাতার সংকটে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ ও সৌদি সরকারের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক না থাকাটাই তার মূল অপরাধ।’

প্রসঙ্গত,সালমান আল-আওদাহর বিপক্ষে গত বছরই সৌদি সরকার আদালতের কাছে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেছিল। তিনি ছাড়াও সৌদির অনেক লেখক, সাংবাদিক এবং আলেম ও ধর্মীয় স্কলাররা ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমানের অপরাজনীতির শিকার হয়ে কারাবাস যাপন করছেন।

দেশটির আরেক বিশিষ্ট আলেম আব্দুর রহমান আল-আরেফীর খুতবা ও সব রকমের দাওয়াতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেশী দেশ ইয়েমেনে সৌদি আরবের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বন্ধের একটি প্রস্তাব মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিপুল ভোটে পাস হয়েছে। প্রস্তাবটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার মিত্র রিয়াদের নিন্দা করা হয়েছে।

প্রস্তাবটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে।

প্রস্তাবটির পক্ষে ২৪৮ ভোট ও বিপক্ষে ১৭৭টি ভোট পড়েছে।

এক বছরের এই ইয়েমেন যুদ্ধে হাজার হাজার বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।
রিপাবলিক দলের ১৮ সদস্য ও ডেমোক্রেটিক দলের সকল সদস্য এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

#এরাবিয়ান জার্নাল/জিটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: