যেখানে ঘোড়ার গাড়িই একমাত্র ভরসা


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০১ মার্চ ২০২০ - ০৮:১৯:২২ অপরাহ্ন

ইট-পাথর আর যান্ত্রিকতার যুগে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে একমাত্র বাহন হচ্ছে ঘোড়ার ঘাড়ী। ধু-ধু বালু চর পাড়ি দিয়ে দুর্গম চরে ঘোড়ার গাড়ীর মাধ্যমে আনা নেয়া করা হচ্ছে মালামাল। শুধু কি তাই, নদীর হাঁটু ও গলা পানি সাতরিয়ে কুলে ওঠছে মালবাহী ঘোড়ার গাড়ী।
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীতে চর জেগে ওঠায় নৌ চলাচল বন্ধ। এ কারণে পণ্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ি আর যাত্রী বহনে ব্যবহৃত হচ্ছে ভাড়ায় চালিত মটরসাইকেল। চরাঞ্চলে নির্দিষ্ট সড়ক না থাকায় বালু পথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বেশ বেগ পোহাতে হয় গাড়ির চালকদের। যমুনা বিধৌত চৌহালী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নই নদী ভাঙনে বিপর্যস্ত।
কৃষিনির্ভর চৌহালী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মানুষদের জমির ফসল বাজারজাত কিংবা সংরক্ষণ করতে নিতে হয় চরাঞ্চল থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের হাট-বাজারে। শুষ্ক মৌসুমে বালু বা হাঁটু পানির পথে এসব পণ্য পরিবহনে করতে হয় ঘোড়ার গাড়িতে। আর বর্ষায় যাতায়াতের মাধ্যম নৌকা।
বর্তমানে যমুনা নদীতে অসংখ্য ছোট বড় চর জেগে ওঠায় নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে চরাঞ্চলে যাত্রী পরিবহনে ভাড়ায় চালিত মটরসাইকেল ও ঘোড়ার গাড়ির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চরাঞ্চলে এখন অনেকেই ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ঘুশুরিয়া,পয়লা, হাটাইল, হিজুলিয়া ও কঠালিয়া চরে ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন মো. নসের আলী, আলামিন, ইউসুফ ও ইয়াসিন আলী সহ আরও অনেকেই।
মো. নসের আলী প্রায় ২০ বছর ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালান। বর্তমানে তার দু’টি ঘোড়ার গাড়ী রয়েছে। একটি সে নিজে এবং অন্যটি তার ছেলে মো. আলামিন  চালিয়ে দৈনিক ৮’শ থেকে ৯’শ টাকা আয় করেন। অপরদিকে ঘোড়ার খাবারের জন্য প্রতিদিন ব্যয় করতে হয় ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। বাকি টাকায় চলে সংসার।
নসের আলী ও তার ছেলে আলামিন  বলেন, শুষ্ক মৌসুমে চরাঞ্চলে উৎপাদিত সব ফসল ঘোড়াতে পরিবহন করতে হয়। আগে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ঘুশুরিয়া চরে দু একটা গাড়ি ছিল। আর এখন ১৫-২০টা ঘোড়ার গাড়ি হয়েছে। দিন দিন ঘোড়ার গাড়ির চাহিদা বাড়ছে। এছাড়া একই চরে ভাড়ায়চালিত মটরসাইকেল চালক মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, চরাঞ্চলে যাতায়াতে এখন ভাড়ায় চালিত মটরসাইকেলের চাহিদাও বাড়ছে।
বালু চর হওয়ায় যাতায়াতে একটু বেশি সময় লাগে তারপরও সারাদিন মোটামুটি তেল খরচ বাদে ৬’শ থেকে ৭’শ টাকা আয় হয়।
এ প্রসঙ্গে চৌহালী উপজেলার ৭নং বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী  জানান, যমুনা নদীতে চর জেগে ওঠায় নৌ চলাচল বন্ধ। এ কারণে চরাঞ্চলে যাতায়াতের সুবিধার্থে ভাড়ায় চালিত মটরসাইকেল ও পণ্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার বেড়ে গেছে। অনেকেই কৃষি ও মৎস্য শিকাড়ের পেশা ছেড়ে দিয়ে ঘোড়ার গাড়ি ও মটরসাইকেল কিনে ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।