ময়লা-আবর্জনায় ভরাট লেকের পাড়

উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর

» মোহাম্মদ তারেকউজ্জামান খান | সম্পাদক ও প্রকাশক | সর্বশেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০১৯ - ০২:৩৪:৪২ অপরাহ্ন

রাতের আঁধারে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হচ্ছে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান সংলগ্ন লেকের পাড়। দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ফেলা হলেও দেখার যেন কেউ নেই।

লেকের পাড়ে ময়লা ফেলায় উৎকট গন্ধে বিপর্যস্ত হচ্ছে বসবাস ও যাতায়াতকারী মানুষের জীবনযাত্রা। নগরজীবনের ক্লান্তি ভুলতে রাজধানীবাসী লেকের পাড়ে হাঁটতে, বেড়াতে, একটু শান্তির নিঃশ্বাস নিতে আসতেন।

খোলা আকাশের নিচে স্নিগ্ধ বাতাসের সন্ধান মিলত রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান সংলগ্ন লেকের পাড়ে। কিন্তু রাতের আঁধারে পিকআপে করে ময়লা ফেলে মনোমুগ্ধকর এ স্থানটি ভরাট করতে উঠেপড়ে লেগেছে দখলদাররা।

ময়লা-আবর্জনা ফেলে লেকের প্রায় মাঝ বরাবর পর্যন্ত দখল করে নিয়েছে লেকখেকোরা। গড়ে তোলা হয়েছে বাঁশের আড়ত, ভাঙাড়ির দোকান ও টংঘর।

মাসভর মাইকিং করে সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পরদিনই আবার হয়েছে দখল। প্রায় অর্ধশত দোকান গড়ে তোলা হয়েছে লেকের জায়গা দখল করে।

দুই বছর আগেও এ জায়গা ফাঁকা ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দখলদারিত্বের থাবা বাড়াতে কবরস্থান ও ব্রিজসংলগ্ন লেকের পাড়ে রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা।

মনোরম স্নিগ্ধ উত্তরা লেক ভরাটের জন্য দখলদাররা যে কৌশল বেছে নিয়েছে তা উদ্বেগজনক।

১২ নম্বর সেক্টরের স্থানীয় বাসিন্দা কবির উদ্দিন  বলেন, লেক একই সাথে এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

লেক পাড়ে হেঁটে এলাকাবাসী লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করে এবং শরীর ও মনের রিফ্রেশমেন্ট ঘটায়।

অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার পরদিনই কোন সাহসে এবং কাদের ইন্ধনে লেকের পাড়ে স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার।

অপর বাসিন্দা নাজিম খান যুগান্তরকে বলেন, লেকপাড়ে গাছপালা ও ওয়াক ওয়ে থাকলে এলাকাবাসীর বাড়তি বিনোদনের একটি ব্যবস্থা হয়।

আমরা আশা করব, সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লেক অপদখলের সঙ্গে যুক্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শরীফুর রহমান  বলেন, আমরা নির্বাচিত হয়ে এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং এলাকাবাসীর যাবতীয় সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করছি।

১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থান সংলগ্ন লেক এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সহায়ক।

আমরা অবশ্যই রাজউকের সঙ্গে আলোচনা করে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে লেকপাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সুত্র: যুগান্তর