মানবতাকে এ কোন র্বরতায় ফিরিয়ে দিচ্ছে করোনা? -সাইদুর রহমান রিমন


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০১ মে ২০২০ - ০৭:২৬:১১ অপরাহ্ন

গোপালগঞ্জে স্বাস্থকর্মি জেসমিনের উপর হোম কোয়ারেন্টাইনের নামে নির্মমতা চালানোর খবর প্রকাশ হতেই প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আরো নানারকম বর্বরতা চালানোর খবর বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।

স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশে এলাকাবাসী একটি নির্জন স্থানে পুকুরের মধ্যে তালপাতা দিয়ে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে জেসমিনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব‌্যবস্থা করেন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে সেখানেই অবস্থান করতে বাধ্য হন তিনি। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের লগন্ডা গ্রামের এ ঘটনা সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর প্রশাসনিক উদ্যোগে জেসমিন নিজ বাড়িতে ফিরতে পেরেছেন।

এরমধ্যেই নেত্রকোণার প্রত্যন্ত হাওড় এলাকা সীমাহীন নির্মমতার নতুন খবর পেরিয়ে এলো। খবরটি জানা গেল নেত্রকোণার অত্যন্ত পরিশ্রমী রির্টোর আলপনা বেগমের কল্যাণে। ঢাকা লকডাউন ঝক্কিতে উপার্জনহীন কর্মজীবীরা বাঁচার তাগিদে পরিবার পরিজন নিয়ে নিজ গ্রামে ফিরতেই তারা ভয়ঙ্কর বর্বরতার মুখে পড়েন। গ্রামের প্রভাবশালী একটি মহল ঢাকা থেকে গ্রামে ফেরা সব মানুষকে গণহারে করোনা রোগী ঘোষণা দিয়ে তাদেরকে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করেন। এসব নারী-পুরুষ-শিশুদের জোরপূর্বক হাওড়ের নির্জন এলাকায় তালপাতা কিংবা খড়কুটায় ঘর তুলে বসবাসে বাধ্য করা হচ্ছে। ফাঁকা জায়গায় ভীতসন্ত্রস্ত পরিস্থিতিতে অর্ধাহারে অনাহারে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে তাদের মানবেতর জীবন যাপন।

FB_IMG_1588076595311

নির্বাসনে থাকা এসব মানুষের কেউ করোনায় আক্রান্ত নন-অথচ তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে, গ্রামছাড়া করা হয়েছে। একঘরে জীবন বেছে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। এ  অন্যায় অত্যাচারের খবর জানামাত্র রিপোর্টার আলপনার মন হু হু করে কেঁদে উঠে। তিনি ততক্ষনাত ছুটে যান প্রশাসনের দাঁড়ে দাঁড়ে। কথা বলেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আকবর আলী মুনসীর সঙ্গে। হ্যা, পুলিশ সুপার বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব দিলেন। জেলা পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে টিম পাঠালেন হাওড় এলাকায়। অস্থায়ী ডেরা তুলে বসবাসে বাধ্য হওয়া পরিবারগুলোকে উদ্ধার করে পুলিশ কর্মকর্তারাই তাদের নিজ নিজ বাড়িঘরে তুলে দিলেন । ধন্যবাদ ছোট বোন সাংবাদিক আলপনা বেগমকে-আর তার মাধ্যমেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এইচ এম আরিফুল ইসলামের প্রতি। সত্যি সত্যিই আপনাদের কিছু কাজ নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে-এসব ভাল খবরকে বেঁচে থাকার প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করছেন অনেকেই।

FB_IMG_1588076601307

সম্মিলিত উদ্যোগে বেঁচে থাকা, ভাল কাজের মাধ্যমে অন্যদের বাঁচিয়ে রাখার নামই মানবতার বাংলাদেশ। আপনার আমার চোখের আড়ালে আবডালে আরো না জানি কত সব নির্মমতা চলছে। করোনা মানুষের জন্য করুণা বয়ে আনার পরিবর্তে যদি এমন ভয়ঙ্কর বর্বরতা জাগিয়ে দিতে সক্ষম হয়-তবে তা হবে মানবতার নির্মম পরাজয়। সেই জাহেলিয়াত যুগের বর্বরতা ফিরে আসায় ভুপেন হাজারিকা লজ্জা পেয়েছিলেন, আমরা কি বিকৃত আনন্দ পেতে চাইছি….?

লেখক : চিপ-ক্রাইম বাংলাদেশ প্রতিদিন