মহামারীর কারণে সম্পর্কে যেসব পরিবর্তন এসেছে


» এইচ এম মাহমুদ হাসান | | সর্বশেষ আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০২০ - ১১:৩০:২৮ পূর্বাহ্ন

করোনাভাইরাস মহামারী আমাদের জীবনকে চিরতরে পাল্টে দিয়েছে। খুব শীঘ্রই যে ভাইরাস চলে যাচ্ছে তা কিন্তু নয়, যার ফলে আমাদের প্রতিদিনের জীবনসূচি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জীবনযাত্রায় এতো পরিবর্তনের ফলে বহু মানুষ মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থেকে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছে। এসবকিছুর মাঝে, মানুষের জীবনে সম্পর্কগুলোও কেমন যেন অবিশবাস্যভাবে বদলে যাচ্ছে। বলা যেতে পারেসম্পর্কগুলো আবার কখনো আগের মতো নেই। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে জোরালো বিধিনিষেধ থাকায় অনেক জুটি কয়েক মাস ধরে আলাদা থেকেছেন যার ফলে কিছু ক্ষেত্রে অন্য মানুষের সাথে হয়তো ঘনিষ্ঠটা বেড়েছে।

অবিবাহিত ব্যক্তিরাও তাদের অনুভূতিগুলো জমিয়ে রাখছেন এমন কারো আশায় যাদের সাথে মূল্যবান সময় কাটানো যাবে। ভার্চুয়াল ডেটিং এখন ‘নিউ নরমাল’ হয়ে উঠেছে এবং মানুষজনও তার সাথে অভ্যস্থ হয়ে উঠছে, যা আগে কখনও ঘটেনি। মানুষেরা প্রতিদিনই তাদের ব্যক্তিগত জীবন এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। অনেকে আরও ভালো থাকার জন্য কিংবা নিশ্চিন্ত ভবিষ্যতের জন্য ভালোবাসার সম্পর্ক ছিন্ন করে যাচ্ছে। ভালোবাসার সম্পর্কে বাস্তবতার নির্মম প্রভাব এর আগে এতটা দেখা যায়নি।

এসব ব্যাপারে লক্ষ্য রেখে, টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রকাশ করেছে নির্দিষ্ট কিছু জিনিসের তালিকা যা মূলত সম্পর্কের সাথে জড়িত। আপনি যদি আপনার প্রিয় মানুষটিকে চিনতে না পেরে থাকেন তাহলে এটি আপনাকে আরও পরিষ্কার ধারণা এবং স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দেবে।

 

আগের তুলনায় সম্পর্ক নিয়ে বেশি টানাহেঁচড়া
মহামারীর আগে দম্পতিদের মাঝে সম্পর্ক নিয়ে কিছুটা যে টানাপোড়া ছিল, এখন আগের চেয়ে তা অনেকগুণ বেশি বেড়ে চলছে। বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, দম্পতিরা তাদের অংশীদারদের সাথে দম বন্ধ হওয়া বোধ করতে শুরু করেছে। এর কারণ সম্ভবত তারা আগের মতো এখন আর সচরাচর বাইরে বের হতে পারে না। লং-ডিসট্যান্স সম্পর্কগুলোতেও খুব খারাপ সময় যাচ্ছে। পৃথক থাকা তাদের পক্ষে সত্যিই কঠিন, যারা এর আগে কখনও লং-ডিসট্যান্স সম্পর্কে জড়ায়নি। হঠাৎ মহামারীর আবির্ভাব আমাদের বোঝার সময়টুকুও দেয়নি যে আমাদের বেশিরভাগকেই এখন আলাদা থাকতে হবে। আর কবে পর্যন্ত এমন চলবে কেউ জানে না।

 

উদ্বেগ এবং মেজাজের ঘন ঘন পালাবদল
আমাদের চারপাশ কেমন যেন বৈরী প্রকৃতির ছোঁয়ায় মিশে আছে। বেশ কয়েকটি গবেষণা বলছে, পরিবার এবং দম্পতিরা এখন অনেক বেশি লড়াই করছেন এবং মানুষ সম্প্রতি অতিমাত্রায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছে। আমাদের এখন এসব থেকে পলায়ন করার মতো সম্ভবত একমাত্র জায়গা আমাদের বাড়ির অংশের একটি ছোট কোণ। এই সমস্ত লড়াই বা কলহ মহামারীর পর থেকেই শুরু হয়েছে এবং দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি অনেক পরিবার ইতোমধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

অনাকাঙ্ক্ষিত সত্য প্রকাশ
দম্পতিরা এখন বিরক্তিকর লং-ডিসট্যান্ট সম্পর্কের মুখোমুখি হচ্ছে। অনেকেই তাদের কর্মস্থল ত্যাগ করে বাড়িতে চলে গেছে। তাই ভার্চুয়াল মেসেজ এবং ভিডিও কল এখন একমাত্র অবলম্বন। তবে, অনেকে বুঝতে পেরেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের সঙ্গীর সাথে দেখা করতে না পারাটা অস্বাভাবিক কিছু না এবং তাদের খুব বেশি প্রভাবিত করছে না। আবার কেউ কেউ আতঙ্কিত যে তারা তাদের প্রিয়জনকে হারাচ্ছে না তো!

 

প্রাইভেসি হারাচ্ছে
যারা স্বাধীনতাচেতা মানুষ তাদেরকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে এই সময়টি। থাকার জায়গার অভাবে শুরুতে অনেকেই নিজের বাড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিল। এটি প্রথম দুই-তিন মাসের জন্য ভালো সময় হতে পারে তবে পরবর্তীতে, সবার সাথে থাকা এবং প্রাইভেসি না পাওয়াটা হতাশ এবং বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। অনেকে এখন আগের চেয়ে বেশি সময় একা থাকার চেষ্টা করে এবং এটি সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত। আমরা এর আগে আমাদের জীবনকে এমনভাবে সাজিয়েছিলাম যাতে আমরা আমাদের সামাজিকতা, কাজ এবং পারিবারিক জীবনে একসাথে ভারসাম্য রাখতে পারি। তবে, এখন আমরা কেবল আমাদের পরিবার এবং কর্মজীবনের সাথেই রয়েছি, যার ফলে সবকিছু এখন একত্রিত হয়ে গেছে।

jagonews24

ভবিষ্যতকে অস্পষ্ট মনে হচ্ছে
ভবিষ্যতের জন্য আপনার যে সমস্ত পরিকল্পনা ছিল, যেমন- পিজ্জা খাওয়ার ডেটিং কিংবা আপনার সম্পর্কের ৭-মাস পূর্তি উদযাপন, এখন সত্যিই সব শেষ হয়ে গেছে। মহামারী আমাদেরকে এমন এক অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ফেলছে যেখানে ব্যক্তিগত এবং আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্কগুলো ভীষণভাবে ভুগছে। এমনকী যদি দুজনে পাশে থাকার জন্য প্রতীজ্ঞাবদ্ধ থাকে তবুও আপনারা একে অপরকে কোন সাহায্য করতে পারবেন না, শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারেন এবং সামনে কী ঘটতে পারে তা নিয়ে অনিশ্চিত দিন কাটাবেন।

ব্রেকআপ অনিবার্য, শুধু অপেক্ষায় আছেন
মহামারীর এতদিন পর অনেক দম্পতিই একটি বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন যে, দু’জনেই ব্রেকআপ করতে চলেছেন এবং সে ব্যাপারে পদক্ষেপটি কে আগে নেবেন তা ভাবছেন। যদি পরিস্থিতি এরকমই হয় তবে সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত সমাধান হলো ব্রেকআপ, ঠিক? তবে অনেকে এখনই উদ্যোগটা নিতে ভয় পাচ্ছেন কারণ একাকীত্ব তাদের অনেক বেশি আঁকড়ে ধরতে পারে। তবে আপনার সঙ্গী যদি এমন কেউ হন, যে কি-না আপনার সবকিছু জানে এবং আপনাকে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস সহায়তা করেই চলছে, তাহলে বলতে পারেন এটি আপনার জন্য একটি আশীর্বাদ।