মহামারি থেকে রমজান মাসে আমাদের শিক্ষা


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২০ - ০৮:৪৪:১৫ অপরাহ্ন

বৈশ্বিক মহামারি করোনায় আমরা ইতোমধ্যে হারিয়েছি বহু প্রাণ। কেউ-বা হারিয়েছি প্রিয়জন-আপনজন। এ সবই আমাদের হৃদয়ে যে ক্ষত সৃষ্টি করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মহামারি এসেছে, হয়তো আমরা মুক্তিও পাবো। কিন্তু এই দুর্যোগ থেকে পৃথিবীবাসীর জন্য শিক্ষাটা কী? কী বার্তা তারা গ্রহণ করল?

হ্যাঁ, এ কথা সত্য যে, ব্যক্তি, অঞ্চল, ধর্ম, চিন্তা-চেতনা, পেশা ও আদর্শের ব্যবধানে এ শিক্ষার মধ্যেও তারতম্য হবে। এ পার্থক্য যাই হোক না কেন, মোটা দাগে বলা যায়-

১. পৃথিবীতে মানুষ যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন তার উপরেও ক্ষমতাবান একজন আছেন।

২. সেই মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ এতটাই ক্ষমতাবান যে অতি ক্ষুদ্র বস্তু দিয়ে জগৎবাসীকে ধ্বংস করে দিতে পারেন।

৩. এ ধরায় আমাদের মায়াজাল যত মজবুতই হোক না কেন শেষ বিপদে আপনজনও পালাতে কুণ্ঠা করে না। কিন্তু থেকে যান আপনার আমার প্রতিপালক আল্লাহতাআলা।

৪. কাজেই কোনো মানুষেরই কোনো বিষয়ে সীমা লঙ্ঘন করা উচিত নয়।

এভাবে জ্ঞানীদের জন্য করোনা থেকে শিক্ষা গ্রহণের অনেক কিছুই রয়েছে। এখন দেখার বিষয় আমরা কতোটা গ্রহণ করব এবং সে শিক্ষা কতটুকু ধারণ করতে পারব।

১৯১৮-১৯ সালে ভয়াবহ স্প্যানিশ ফ্লুতে পৃথিবীর ৫ শতাংশ মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ তখন প্রাণ হারিয়েছিল। তখন কি আমরা সবক নিয়েছিলাম? হ্যাঁ, ভবিষ্যতে এ জাতীয় মহামারি থেকে বাঁচার জন্য বস্তুগত কিছু আবিষ্কার হয়তো করেছিলাম কিন্তু নৈতিক বিষয়ে যে খুব বেশি কিছু গ্রহণ করতে কিংবা দীর্ঘমেয়াদে ধারণ করতে পারিনি তার প্রমাণ কিছু দিন আগের অশান্ত পৃথিবী। যেখানে মানবমূল্য তুচ্ছ; প্রাণী থেকেও নিচে নামিয়ে ফেলেছিলাম আমরা মানুষকে।

আমাদের চরিত্র সম্পর্কে মহান আল্লাহ নিজেই বর্ণনা করেছেন : ‘যখন তাদেরকে (মহাসমুদ্র অতিক্রমকারীদের) মেঘমালা সদৃশ ঢেউ আচ্ছাদিত করে নেয়, তখন তারা খাঁটি মনে আল্লাহকে ডাকতে থাকে। অতঃপর, তিনি যখন তাদের স্থলভাগের দিকে উদ্ধার করে আনেন, তখন তাদের কেউ কেউ সরল পথে চলে। মিথ্যাচারী ও অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিই আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করে’। (সূরা লোকমান: ৩২)

এখন কথা হলো আমরা উল্লেখিত দুই শ্রেণীর কোনটির অন্তর্ভূক্ত হবো? আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়াসাল্লাম প্রদর্শিত সরল পথে চলব? নাকি মিথ্যাচারী ও অকৃতজ্ঞদের দলভূক্ত হবো?

আলোচিত আয়াতটির ঠিক পরের আয়াতে আল্লাহতাআলা সুস্পষ্টভাবে আদেশ করছেন, ‘হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো (তাকওয়া অর্জন করো) এবং ভয় করো এমন এক দিবসকে, যখন পিতা পুত্রের কোনো কাজে আসবে না এবং পুত্রও তার পিতার কোনো উপকার করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতএব, পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয় এবং আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারক শয়তানও যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না করে’। (সূরা লোকমান: ৩৩ )

পবিত্র কুরআনের উল্লেখিত আয়াত দুটি বর্তমান সময়ে আমাদের চমৎকারভাবে পথ নির্দেশনা দিচ্ছে। কাজেই আসুন আমরা তাকওয়া অর্জন করি। হৃদয়ের গহীনে মহান আল্লাহর প্রতি ভয় আর সর্বোচ্চ ভালোবাসা সৃষ্টি করি। সর্বদা প্রিয় নবীজির প্রদর্শিত সুন্নাহের অনুসরণ করি। মাহে রমজানের শিক্ষাও তো এটাই। তাহলেই আমাদের এ বসুন্ধরা হবে নিরাপদ ও বাসযোগ্য। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিন।