মসজিদ মাদ্রাসা নিয়ে অপপ্রচারের জবাব


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২০ - ০৩:৪৮:১৩ অপরাহ্ন

ধর্ম ও ইসলাম বিদ্বেষীরা বলে থাকে যে, মসজিদ মাদ্রাসা হলো দেশের উন্নয়নহীন ও অর্থ অপচয়ের খাত ও ভিক্ষাবৃত্তির আখড়া। তাই এসব ভেঙ্গে ছুড়ে শিল্প-কারখানা গড়ে তুললে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি হতো। অথচ মসজিদ মাদ্রাসা হলো মুসলমানদের জীবন সার্থককারী।

আল্লাহর ইবাদত তথা নামাজ, রোজা ও অন্যান্য দ্বীন পালনের জন্যেই তো মুসলমানদের এ দুনিয়ায় আগমন ও জীবন যাপন। এটাই তো মানব দানব সৃষ্টির মূল লক্ষ্য। আর কলকারখানা, ব্যবসা-বানিজ্য তো সবই এ দীন পালনের সহায়ক বস্ত। সংক্ষেপে এভাবেও বলা যেতে পারে যে, এ দুনিয়ার ইবাদত ও দ্বীন পালনেই মুসলমানদের লক্ষ্য। আর দ্বীন পালনের সমস্ত সহায়ক বস্ত হলো উদ্দেশ্য। তাই ধর্ম ও কুরআনের বিশ্বাসীরাই মসজিদ, মাদ্রাসা গুরুত্ব দিব, নাস্তিকরা দিবে না। এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া কলকারখানা বেশি হলেই উৎপাদন বেশী হওয়া জরুরী নয়।

উৎপাদন বেশী হওয়ার জন্য পূর্বশর্ত হলো কারখানাগুলো সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হওয়া। অন্যথায় কলখারকানা যদি বেশী ও হয় আশা বাণিজ্যিক উৎপাদন হবে না। যেমন মনে করুন কারখানা বেশী আছে। কিন্ত মালিক বা শ্রমিকের দুর্নীতির কারণে ঘন-ঘন হরতাল বা ধর্ম ঘটের কারণে বছরে কয়েক মাসই তা-বন্ধ থাকে। আবার খোলা থাকলেও দুর্নীতির আশ্রয়ে শ্রমিকরা রীতিমত কাজে যোগদান না করেও হাজিরা খাতায় হাজিরা দেখায় বা মনোযোগ দিয়ে কাজ না করে, এমতাবস্থায় কারখানার সংখ্যাধিক্যে উৎপাদন আশানুরুপ হবে কি? কখনও না। অন্যদিকে দেশের মুক্ত দায়িত্বশীল, সৎ, কর্মঠ, আল্লাহ ভীরু ও দেশপ্রেমিক হয় তাহলে অল্প কারখানায়ও উৎপাদন আশাতীতভাবে হবে। আর সৎ মানুষ তৈরী হয় মসজিদ-মাদ্রাসা। তাই দেশের মসজিদ মাদ্রাসাগুলো উন্নয়নের চাবিকাঠি। কলকারখানার সম্ভব্য উন্নয়নের স্বার্থেও মসজিদ মাদ্রাসার প্রয়োজন অপরিহার্য।

এটি পরিলক্ষিত সত্য যে, যাঁরা পরহেজগার, খোদাভীরু, যাঁদের কেয়ামত দিবসে আল্লাহর আদালতে ভাল মন্দ সমস্ত কাজ কর্মের জবাবদিহিতায় বিশ্বাস আছে। তারা ফাঁকি, ধোঁকা ও দূর্নীতি মুক্ত, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক হয়ে থাকেন। কারখানার শ্রমিকরা যদি মসজিদ মাদ্রাসা থেকে এ শিক্ষা নিয়ে কাজ করে তাহলে দেশে উন্নয়নের কাজ বেড়ে যাবে।

আর এ কথাও পরিলক্ষিত সত্য যে, যারা ধর্মহীন, নাস্তিক, ধর্মে উদাসীন তারা যতই মানবতাবাদের জয়গান গেয়ে বেড়াক না কেন ঈমান না থাকায় বা দূর্বল থাকার দরুন পরকালে আল্লাহর বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জবাবদিহি করার ভয় রাখে না, সাধারণত: তারাই দুর্নীতি পরায়ন, ধোঁকাবাজ ও ফাকিবাজ হয়ে থাকে। এ জাতীয় লোকদের হাতে অর্পিত কল কারখানা গুলো অনুদপাদনের কারণে। তালাবদ্ধ হয়ে থাকে। স্বাধীনতাত্তর জাতীয় করণকৃত কল কারখানাগুলো লুটপাট হয়ে যাওয়ার, বন্ধ হয়ে যাওয়ার এবং নাস্তিকদের শাসিত সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অর্থনৈতিক অবনতির কারণ কি? তা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। মাদ্রাসাগুলো চাঁদা দ্বারা পরিচালিত হওয়াতে ধর্ম বিদ্বেষীরা এগুলোকে ভিক্ষাবৃত্তির আখড়া বলে বিদ্রুপ করে থাকে। অথচ মাদ্রাসা ছাড়া অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ও চাঁদা, অনুদান দ্বারাই পরিচালিত হয়। তবে মাদ্রাসার চাঁদা আদায় করা হয় দাতার সম্মতিতে। দুনিয়া ও আখেরাতের ব্যাপক লাভ ও ছওয়াবের আশায় দাতারা মাদ্রাসায় দান করেন। আর অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর চাঁদা আদায়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দাতাদের উপর চাপের সৃষ্টিও করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এ ব্যাপারে কিছু অজানা নেই। চাদার এ তারতম্যের প্রতিক্রিয়া উভয় প্রকার প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষকের মাঝে ও পরিলক্ষিত হয়। উভয় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত ফসলাদি ভিন্ন ভিন্ন ভাবধারা ও আচরণ এবং স্বাতান্তিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে আছে।

নাস্তিকেরা শুধু মাদ্রাসা মসজিদ নিয়ে আপত্তি তুল যে, এগুলো অর্থ ক্ষতির খাত। অথচ দেশের আনাচে কানাচে অসংখ্য পার্ক, ও খেলার মাঠ, ষ্টেডিয়াম, সিনেমা হল, রঙ্গ মঞ্চ, ইত্যাদি ব্যাপারে এরা কেন অন্ধ? এ স্থানগুলোতে কি উৎপাদন হয়? এগুলো কি অর্থ ক্ষতির খাত নয়। এ স্হানগুলোতে তারা কোন যুক্তিতে কলকারখানা স্থাপন ও চাষাবাদের পরামর্শ দেয় না। যে দেশের লোক সংখ্যা বেশী অথচ জায়গা কম, সে দেশে অনুন্নয়নের জন্য ও বিনোদনের খাতে কোটি কোটি টাকার অপচয় করার যুক্তি কি? এ ব্যাপারে তারা কখনও মুখ খুলেছে? জাতির সামনে তাদের মতলববাজীর নির্লজ্জ মুখোশ উন্মোচনীত হয়ে গেছে।

মোটকথা মানব সৃষ্টির মূল লক্ষই হলো আল্লাহর ইবাদত ও খিলাফত বা প্রতিনিধিত্ব করা। ইবাদত ও খিলাফতের শিক্ষাকেন্দ্র হলো মাদ্রাসা-মসজিদ। আর সম্মিলিত ইবাদত খেলাফতের কেন্দ্রস্থল হলো মসজিদ। আবার ইবাদত খেলাফতের জন্যও দৈহিক শক্তির প্রয়োজন হয় সেই প্রয়োজন মিটানোর জন্যই ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষেত- খামার, চাকুরী করা ও কলকারখানা স্থাপন। আর ইবাদত সুশৃঙ্খলভাবে আপন লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য মাদ্রাসা, মসজিদই হলো চালিকা শক্তি বা নিয়ন্ত্রক। সুতরাং পার্থিক উন্নয়নের স্বার্থেও মসজিদ মাদ্রাসার প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করার কোন উপায় নাই।

লেখক: ভাইস-প্রিন্সিপাল, মাদরাসাতুল মাদিনা আল-মুনাওয়ারা, টঙ্গী-গাজীপুর।