মসজিদের শহরে ক্যাসিনোর প্রেতাত্মারা

বাংলাদেশে ক্যাসিনো যুগ! গণমাধ্যমে উঠে এসেছে যাদের নাম

» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ০৯:০৯:৪১ অপরাহ্ন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, যথাযথ তথ্যপ্রমাণ পেলে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাদের বিরুদ্ধেই তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে যে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার লোক হোক না কেন। কেউ পার পাবে না। দুর্নীতিসহ ও বিভিন্ন অপকর্মে যুবলীগ ঢাকা মহনগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের নাম গণমাধ্যমে আসছে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি-না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যার নাম আপনারা বলছেন সে ছাড়াও সরকারের অন্য কেউ যদি কোনো অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়ায়, তাহলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমরা কাউকে ছাড়ছি না। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাবো তাকেই আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠান করতে চান একথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে দুর্নীতি রোধ করাটা আমরা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। তাই যারা অনিয়ম-দুর্নীতি করছে বা অবৈধভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে অথবা অপরাধ করার চেষ্টা করছে, তাদের দমন করা হবে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে জঙ্গি তৎপরতা শুরু করা হয়েছিল, আমরা নানা ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে তা দমন করতে সক্ষম হয়েছি। দেশের জনগণ আমাদের সহযোগিতা করেছেন। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদক বেচাকেনা হচ্ছে। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনছি।

উল্লেখ্য যে, ১৮ সেপ্টেম্বর গুলশান হতে ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গ্রেফতার হওয়ার পর ১৯ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে হাজারো নেতা-কর্মী নিয়ে সংগঠনের কার্যালয়ে অবস্থান করেছিল যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রেফতার আতঙ্কেই জনবল নিয়ে কার্যালয়ে ছুটে আসেন সম্রাট। সংগঠনের কার্যালয়ে থাকাবস্থায় সম্রাট গণমাধ্যমকে বলেন, খালেদ মাহমুদ ভ‚ঁইয়াকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার পর নেতাকর্মীরা সবাই অফিসে ছুটে এসেছে। তারা এখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি নেতা-কর্মীর কার্যালয়ে উপস্থিতি গ্রেফতার আতঙ্কের কারণে কিনা জানতে চাইলে সম্রাট বলেন, আমি আতঙ্কিত নই। আইনত যদি কোনও সংশ্লিষ্টতা পায়, তাহলে তারা অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে পারে।

তবে, ক্যাসিনো চালানো, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজিসহ সব অভিযোগের তীর এখন যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের দিকে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রাজধানীর মতিঝিলসহ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার সরকারি দফতর, ক্লাবসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স¤প্রতি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের কিছু নেতার অপকর্মের কথা উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এদের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়ার নামও ছিল। এ দু’জনের মধ্যে খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়ার মালিকানাধীন অবৈধ ক্যাসিনোয় অভিযানের পর তাকে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, মতিঝিলসহ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় যেসব ক্লাব রয়েছে, তাতে ক্যাসিনোসহ প্রতিদিন চলতো জুয়া। এসব ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করেন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি স¤্রাট। সরকারি বিভিন্ন দফতর ও ভবনের টেন্ডারও তার নিয়ন্ত্রণে। এই এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ কার পার্কিং থেকেও প্রতিদিন মোটা অংকের চাঁদা ঢোকে স¤্রাটের পকেটে। এ সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করে সম্রাটের লোকজন।

আগে থেকে সম্রাটের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি এলাকায় আরও প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন বলে সূত্রগুলো জানায়। ২১ সেপ্টেম্বর বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোরের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়। আবার, কালের কণ্ঠে ‘ চার নেতার ছত্রচ্ছায়ায় রমরমা ক্যাসিনো’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মূলত রাজধানীর মতিঝিল থানার বিভিন্ন এলাকার স্পোর্টস ক্লাবগুলোয় জুয়ার আসরকে ক্যাসিনোতে উন্নীত করার মূল উদ্যোক্তা হলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা ও তত্ত¡াবধানেই ক্যাসিনো যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। এ কাজে সম্রাটের সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সদ্য বহিষ্কৃত সাংগঠনিক স¤পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো খোলা ও সেগুলো পরিচালনায় যুক্ত হন আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন নেতাও। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মোমিনুল হক সাঈদ।

ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের একজন সহ-সভাপতি প্রতিবেদককে বলেন, ‘ঢাকার ক্লাবগুলোতে জুয়া খেলা চললেও ক্যাসিনো ছিল না। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রভাবশালী নেতারা পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে ক্যাসিনোর বিস্তার ঘটিয়েছেন।’ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ২০১৮-১৯ মেয়াদে কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি। এ ক্লাবে দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাসিনো পরিচালনা করা হয়। মোল্লা কাওছার ক্লাবে তেমন যাতায়াত করতেন না। ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রণ করতেন কাউন্সিলর মোমিনুল হক সাঈদ। গত বুধবার ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে র‌্যাব অভিযান চালায়। ওই ক্লাব থেকে কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও ১০ লাখ টাকাসহ বিপুল পরিমাণ মদের বোতল উদ্ধার করা হয়। পাশের ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযানের খবর পেয়ে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সবাই পালিয়ে যায়। ওই ক্লাবের অন্যতম নিয়ন্ত্রক মোমিনুল হক সাঈদ মতিঝিল এলাকার ভয়ংকর ত্রাস হিসেবে পরিচিত। টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে মাদক কারবার—সবই নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূইয়া নিয়ন্ত্রণ করতেন ইয়ংমেনস, আরামবাগ ও মেরিনার্স ক্লাবসহ আরো কয়েকটি ক্লাব। তবে তাঁর গুরু ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। এসব ক্লাবের ক্যাসিনো থেকে সম্রাট প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা পেতেন। খালেদকে যুবলীগের রাজনীতিতে অগ্রভাগে আসার সুযোগ করে দেন স¤্রাট। খালেদ একসময় ছিলেন বঙ্গবন্ধুর খুনির দল ফ্রিডম পার্টির ক্যাডার। এরপর মির্জা আব্বাসের ভাই মির্জা খোকনের অস্ত্রবাজ হিসেবে এলাকার মানুষের কাছে তাঁর পরিচিতি। যুবলীগ দক্ষিণের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ক‚টচালে তারেকের হাতে ২০১৪ সালে খুন হন রিয়াজ আহমেদ মিল্কী। আবার তাঁদের সহযোগিতায় র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন তারেক। তারেক ও মিল্কীর অবর্তমানে ফাঁকা মাঠে নেতা বানানো হয় খালেদকে। ইসমাইল হোসেন সম্রাটের সহযোগিতায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন খালেদ মাহমুদ।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো জানায়, ইসমাইল হোসেন স¤্রাট সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনটি ক্যাসিনো। এগুলো হচ্ছে ‘মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব, ব্রাদার্স ক্লাব ও বনানী এলাকার গোল্ডেন ঢাকা। এ ছাড়া মতিঝিল এলাকার ফুটবল ক্লাব আজাদ ¯স্পোর্টিং ক্লাব, সোনালী অতীত, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, আরামবাগ ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ ছিল সম্রাটের হাতে। ওই ক্লাবগুলো মতিঝিল থানার এক কিলোমিটারের মধ্যে। স্থানীয় কতিপয় যুবলীগ নেতার মাধ্যমে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হতো।’

যুবলীগের একটি সূত্র জানায়, ইসমাইল হোসেন সম্রাটের হাত ধরে যুবলীগের রাজনীতি ও অপরাধজগতে পূর্ণ প্রতিষ্ঠা পেলেও এক বছর ধরে খালেদ নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছিলেন। এরই মধ্যে তাঁর নিজস্ব বাহিনীও গড়ে উঠেছে। তবে এখনো সম্রাট থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। রাজধানীর মুগদা, শাহজাহানপুর, মতিঝিল, সবুজবাগ, খিলগাঁও ও রামপুরা এলাকার সব কটি সরকারি দপ্তরের টেন্ডারের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছিল খালেদের হাতে।

ক্যাসিনো থেকে টেন্ডারবাজি পর্যন্ত খালেদের হয়ে নিয়ন্ত্রণ করতেন গোড়ান এলাকার কাউন্সিলর আনিসুর রহমান, যুবলীগ দক্ষিণের সদস্য খায়রুল, উজ্জল রাজু ও রইস। তাঁদের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল খালেদ বাহিনী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের একজন সহ-সভাপতি প্রতিবেদককে বলেন, ‘ঢাকার ক্লাবগুলোতে জুয়া খেলা চললেও ক্যাসিনো ছিল না। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রভাবশালী নেতারা পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে ক্যাসিনোর বিস্তার ঘটিয়েছেন।’

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ২০১৮-১৯ মেয়াদে কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি। এ ক্লাবে দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাসিনো পরিচালনা করা হয়। মোল্লা কাওছার ক্লাবে তেমন যাতায়াত করতেন না। ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রণ করতেন কাউন্সিলর মোমিনুল হক সাঈদ। গত বুধবার ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে র‌্যাব অভিযান চালায়। ওই ক্লাব থেকে কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও ১০ লাখ টাকাসহ বিপুল পরিমাণ মদের বোতল উদ্ধার করা হয়। পাশের ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযানের খবর পেয়ে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সবাই পালিয়ে যায়। ওই ক্লাবের অন্যতম নিয়ন্ত্রক মোমিনুল হক সাঈদ মতিঝিল এলাকার ভয়ংকর ত্রাস হিসেবে পরিচিত। টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে মাদক কারবার সবই নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।

এছাড়া ইসমাইল হোসেন সম্রাটের হয়ে ক্যাসিনো থেকে টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া দেখাশোনা করেন ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মতিঝিল এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইদ, সহসভাপতি সোহরাব হোসেন স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সরোয়ার হোসেন বাবু, সাংগঠনিক স¤পাদক জামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদ, সহসভাপতি মুরসালিন, মনির হোসেন, মনা ও রানা। যুবনেতাদের হয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করেন টেন্ডার শফি বা শিবির শফি এবং বিআইডাব্লিউটিএর টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করেন মনির হোসেন।

মতিঝিলকেন্দ্রিক ক্লাবপাড়ার ক্যাসিনো ছাড়াও রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর ও উত্তরা এলাকায় দুটি ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ করেন একজন আওয়ামী লীগ ও একজন যুবলীগ নেতা। ধানমন্ডির কলাবাগান ক্লাবের ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ করতেন সম্রাট। একসময় কলাবাগান এলাকার স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে বিরোধের কারণে ওই ক্যাসিনো বন্ধ হয়ে যায়। পরে ক্লাবটির সভাপতি ও কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল আলম ফিরোজসহ ধানমন্ডির স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ওই ক্যাসিনো চালু করেন। রাজধানীর উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে একটি ক্যাসিনো পরিচালনা করেন ঢাকা উত্তর যুবলীগের নেতা সরোয়ার হোসেন। মিরপুরের রূপনগর ও দুয়ারীপাড়া এলাকায় একাধিক স্থানে জুয়ার আসর বসিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।