৮৬ বছর পর ঐতিহাসিক মসজিদের মিনার থেকে আজানের ধ্বনি


» এইচ এম মাহমুদ হাসান | | সর্বশেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০ - ১০:০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন

উত্তরা নিউজ: আজ সুদীর্ঘ ৮৬ বছর পর ঐতিহাসিক আয়াসুফিয়া মসজিদের মিনার থেকে আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়েছে। পুরো আজান শুনে শেষ করতে পারিনি। চোখের কোণ থেকে দু’ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়েছে।

হে আল্লাহ! যেভাবে হোক কোন একদিন আমাকে তুমি তুরস্কে নিয়ো। জীবনে একবার হলেও আয়াসুফিয়াতে জুহরের নামাজ আদায় করতে চাই। তোমার নিকট এ আমার আরজি। ইতিহাসের যে কয়েকটি কথা আমাকে দারুণভাবে আন্দোলিত করেছে তার মধে বিশেষ একটি হলো, কনস্টান্টিনোপল বিজেতা সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতিহ মুসলিম বাহিনিকে বলা এ কথাটি , ‘ইনশাআল্লাহ! শীঘ্রই আমরা শত্রুদের পরাজিত করে বীরের বেশে আয়া সুফিয়াতে জুহরের নামাজ আদায় করব’। আয়াসুফিয়া প্রথমে ছিলো একটি গির্জা। মুসলিম সেনাপতি সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতেহ ইস্তাম্বুল জয় করার পর খ্রিস্টান যাজকদের কাছ থেকে আয়াসুফিয়া ক্রয় করার আবেদন জানান।

যাজকরা রাজী হলে নিজের টাকায় সুলতান গির্জাটি ক্রয় করেন। চাইলে বিজয়ী হিসেবে গির্জা ছিনিয়ে নিতে পারতেন, সে সক্ষমতা সুলতানের ছিলো। কিন্তু তা না করে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নিজের টাকায় তিনি গির্জাটি খ্রিস্টান যাজকদের থেকে ক্রয় করেন এবং সেটিকে মসজিদ বানান। আজো সেই ঐতিহাসিক চুক্তিনামা সংরক্ষিত আছে। তাই জ্ঞানপাপীদের এ কথা সম্পূর্ণই অসত্য যে, আয়াসুফিয়া গির্জাকে মুসলমানরা জোরপূর্বক মসজিদ বানিয়েছে। ১৯৩৪ সালে কুলাঙ্গার কামাল আতাতুর্ক আয়াসুফিয়াকে জাদুঘরে রূপান্তর করে। যা ছিলো ঐতিহাসিক চুক্তি অনুযায়ী সম্পূর্ণ বেআইনি। আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমান তুরস্কের সর্বাধিনায়ক রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান আয়াসুফিয়াকে ফের মসজিদে রূপান্তর করেছেন। আল্লাহ তাকে ও তুরস্ককে উত্তম বিনিময় দান করুন।