মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান
উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার


মশা মারতে বিদেশ সফর! পারবে তো ডিএনসিসি?






দেশের ইতিহাসে স্মরণকালের ডেঙ্গু জ¦রের প্রকোপে এক কঠিন সময় পার করছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা। দেশের প্রান্তিক অঞ্চলগুলোর তুলনায় রাজধানী শহরগুলোতেই রয়েছে ডেঙ্গুবাহী মশা এডিসের অস্তিত্ব। এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানেই এ বছরের মে মাস থেকে শুরু করে চলমান সময় পর্যন্ত মারা গেছে শিশু-বৃদ্ধাসহ প্রায় শতাধিকেরও বেশি মানুষ। সর্বশেষ তথ্যনুসারে এখন পর্যন্ত সারাদেশে ৭৫ হাজার ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। যা মোকাবেলা করতে অতীতের সকল সময়গুলোর তুলনায় এ বছরই দেশের চিকিৎসাখাতকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, চলমান সময় পর্যন্ত ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়েছে জানুয়ারিতে ৩৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৮ জন, মার্চে ১৭ জন, এপ্রিলে ৫৮ জন, এপ্রিলে ১৯৩ জন, জুনে ১ হাজার ৮৮৪ জন, জুলাইয়ে ১৬ হাজার ২৫৩জন ও গত আগস্ট মাসে অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৩৬৩ জন ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যনুযায়ী, বছরের মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুজ¦রের প্রকোপ থাকে। তবে অন্যান্য মাসগুলোর তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা কম থাকার কথা থাকলেও উদ্বেগজনকভাবে এ মাসের প্রথম সপ্তাহেই দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ৪৯ জন! যা সেপ্টেম্বরে হ্রাস পাওয়ার বিপরীতে তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধির দিকেই ধাবমান। ধারণা করা হচ্ছে সেপ্টেম্বর মাসেও এডিস মশা নির্মূলে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ডেঙ্গু জ¦রের আক্রান্ত হয়ে গেল সপ্তাহে টাঙ্গাইলে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী রুবাইয়া আক্তার ও খুলনায় প্রশান্ত কর্মকার নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে।

সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যখন ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়েছে দেশ। এমন অবস্থায় মশা নির্মূলের প্রশিক্ষণ নিতে কর্মকর্তাদের বিদেশ (সিঙ্গাপুর) পাঠানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গেল বুধবার আ হ ম মুস্তাফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দেন। সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তাদের বিদেশ (সিঙ্গাপুর) পাঠানোর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরে একটি প্রকল্প আছে, যা মশাকে আকৃষ্ট করে অবশেষে মারা হয়। তারা প্রথমে গর্ত করে সব মশাকে আকৃষ্ট করে সেখানে নিয়ে আসে। তখন মশাগুলোকে একসঙ্গে মারা হয়। অন্যদিকে আমাদের দেশে মশা মারার পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের দেশে আগে মশা তাড়ানো হতো, তাই বেশি লাভ হয়নি।

এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোতে এডিস মশা নির্মূলে নতুন করে ৫ কোটি ৩২ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকার যন্ত্রপাতি ও কীটনাশক কেনার কথা জানান আ হ ম মুস্তাফা কামাল। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জন্য ২০০ টি ফগার মেশিন, ১৫০ টি হস্তচালিত মেশিন এবং ৪০ হাজার লিটার কীটনাশক স্থানীয়ভাবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বাজার দরে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে কোনরূপ টেন্ডার ছাড়াই মশা মারার এসব যন্ত্রপাতি ও কীটনাশক কেনার ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, টেন্ডার করলে অনেক সময় লাগবে। জাতির কথা বিবেচনা করেই এসব ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরই সমন্বিত কাজ শুরু হয়েছে।

এদিকে এডিস মশা নির্মূলে দীর্ঘ দিন চেষ্টার পরও নতুন করে কর্মকর্তাদের বিদেশ পাঠানোর বিষয়টির ব্যাপারে এক তথ্যনুসন্ধান করে দেখা যায়, পূর্বে অনাড়ি মশক নিধন কর্মীদের নিয়োগের ফলে সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোতে এখন পর্যন্ত মশা নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও এসব কাজে কর্তৃপক্ষ বারবার পদক্ষেপ নিলেও যথাযথ তদারকি অভাব আর মশক নিধন কর্মীদের দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টিও জড়িত রয়েছে। সর্বশেষ তথ্যনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে নতুন করে ৩০ জন করে মশক নিধন কর্মী নিয়োগ দেয়ার কথা রয়েছে। তবে যাই হোক, শেষ পর্যন্ত দেশের মশা তাড়াতে সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ কতটা সুপ্রসন্ন হবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।