ভৈরবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা. উপলক্ষে  আনন্দ  রেলি অনুষ্ঠিত


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০১৯ - ০৫:০৪:৪৩ অপরাহ্ন

কিশোরগন্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা. উপলক্ষে লক্ষিপুর – তাঁতারকান্দি গ্রামবাসীর উদ্যোগে বিশাল রেলি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(কাউন্সিলর) ভৈরব পৌরসভা,আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন মিন্টুর সভাপতিত্বে ঈদে মিলাদুন্নবী সা. উপলক্ষে জোসনে জোলুসের রেলি,মিলাদে মস্তোফা ও তাবারক বিতরনের মধ্যদিয়ে দিনটি পালন করেছে লক্ষিপুর -তাঁতারকান্দি গ্রামবাসী। বিগত এক সপ্তাহ ধরে ঈদের আনন্দ উদযাপন করছে গ্রামের প্রতিটি ঘরে,ঘরে ঝমকালো বাতির প্রজ্বলন, মিষ্টি বিতরণসহ নানান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

ঈদে মিলাদুন্নবী সা. প্রেক্ষাপট (সংক্ষেপে)

ঈদে মিলাদুন্নবী বা মাওলিদ হচ্ছে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ উৎসব মুখর দিন। নবীজির জীবদ্দশায় এ ধরনের উৎসবের আয়োজন করা না হলেও তার মৃত্যুর কয়েকশ বছর পর প্রথমবারের মতো উদযাপন করা হয় ঈদে মিলাদুন্নবী। ইসলামি পণ্ডিতদের মাঝে অনেক বিতর্ক থাকলেও কালক্রমে এই উৎসবটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

জন্মদিন উদযাপনের সংস্কৃতি হিজরি তৃতীয় শতাব্দী থেকে মুসলিম সাম্রাজ্যে অনারব পারসিয়ান ও তুর্কি মুসলিমদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে মুসলিম সাম্রাজ্যে নতুন নতুন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতির প্রচলন ঘটে। এসব রীতিনীতির মধ্যে ঈদে মিলাদুন্নবী ছিল অন্যতম।

রবিউল আওয়াল মাসের ১২ তারিখে ফাতেমি শাসক মিলাদুন্নবী উদযাপন করতেন। এ উপলক্ষে বিপুল পরিমাণ উন্নত মানের মিষ্টান্ন তৈরি করা হতো। এই মিষ্টান্ন ৩০০ পিতলের খাঞ্চায় ভরা হতো। মিলাদের রাতে এই মিষ্টান্ন সব তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলদের মধ্যে বিতরণ করা হতো।

যেমন, প্রধান বিচারক, প্রধান শিয়া মত প্রচারক, দরবারের কারিরা, বিভিন্ন মসজিদের খতিব ও প্রধানরা ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মধ্যে মিষ্টান্ন বিতরণ করা হতো। দেশের ও সব বড় বড় শহরের মুসলিমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্ম মাস পালন করে আসছেন। এ উপলক্ষে তারা অত্যন্ত সুন্দর জাঁকজমকপূর্ণ উৎসবময় খানাপিনার মাহফিলের আয়োজন করেন।

এ মাসের রাতগুলোতে তারা নানা রকমের দান সদকা করেন, আনন্দ প্রকাশ করেন এবং জনকল্যাণমূলক কর্ম বেশি করে করেন। এ সময় তারা নবীজীর জন্মকাহিনী পাঠ করতে মনোনিবেশ করেন। ’

ঈদে মিলাদুন্নবীর প্রাথমিক পর্যায়
ইতিহাসের আলোকে জানা যায়, দুই ঈদের বাইরে কোনো দিবসকে প্রথমবারের মতো উদযাপন শুরু হয় চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর মাঝামাঝিতে। সর্বপ্রথম ৩৫২ হিজরিতে (৯৬৩ খ্রিস্টাব্দ) বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফার প্রধান প্রশাসক ও রাষ্ট্রের প্রধান নিয়ন্ত্রক বনি বুয়াইহির শাসক মুইজ্জোদ্দৌলা ১০ মহররম আশুরাকে শোক দিবস এবং জিলহজ্জ মাসের ৮ তারিখকে গাদিরে খুম উৎসব দিবস হিসেবে পালন করার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে এই দুই দিবস সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন করা হয়।