ভৈরবে দেবরের সাথে পরকিয়া ; স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯ - ১১:২৩:৩১ পূর্বাহ্ন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: নিজ বাসায় প্রকোশলী মাহাবুবুর রহমান নামে এক রেলওয়ের কর্মচারী খুনের ঘটনায় পুলিশ তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার ও দেবর (নিহতের চাচাতো ভাই) হাসিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশের দাবি, হাসিবের সঙ্গে রোকসানার দীর্ঘ দিনের অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ছিল। পথের কাঁটা সরাতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্বামীকে হত্যার আগে পায়েসের সঙ্গে প্রায় ৩০টি ঘুমের ট্যবলেট খাওয়ানো হয়। কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পৌর শহরের চন্ডিবের আইভি রহমান এলাকায় গত বুধবার গভীর রাতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভৈরব থানার ওসি (তদন্ত) বাহালুল আলম খান আজ রোববার সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি আরও বলেন, গতকাল শনিবার সকালে সন্দেহভাজন হিসেবে হাসিবকে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হাসিব হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তাছাড়া হাসিবের দেয়া তথ্য মতে, শনিবার রাতে বাড়ির কাছে একটি কচুক্ষেত থেকে হত্যার সময় তার পরনের রক্তমাখা শার্ট ও প্যান্ট উদ্ধার করা হয়। ফলে গতকাল রাতেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই সঙ্গে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিহত মাহাবুবের স্ত্রী রোকসানাকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। হাসিবের পর রোকসানাও হত্যার দায় স্বীকার করে বলে দাবি পুলিশের।
নিহতের স্বজনরা জানায়, মাহাবুব রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগের এসএস ফিটার পদে কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক যুগ আগে মাহাবুব-রোকসানার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটিতে প্রতি বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসতেন নিহত মাহবুব। কিন্তু গেল সপ্তাহে এক দিন আগেই অর্থাৎ ঘটনার আগের দিন গত বুধবার রাতে বাড়িতে আসেন।
রাতের আঁধারে বেডরুমে ছুরিকাঘাতে খুন হয় মাহবুব। পরে এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে মাহবুবের স্ত্রী রোকসানাকে সন্দেহের তালিকায় রেখে অজ্ঞাতনামা ৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাহালুল আলম খান আরও বলেন, শুরু থেকেই নিহতের স্ত্রীকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়।
আর মুঠোফোনের সূত্র ধরে হাসিবকে শনাক্ত করা হয়। আটকের পর হাসিব রোকসানার সঙ্গে প্রেমের কথা স্বীকার করেন।
তারা মনে করেছিলেন, মাহবুবকে সরিয়ে দিতে পারলে তাদের পথের বাধা দূর হয়ে যাবে। এরপরই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন দু’জনে।