ভিন্নমত পোষণ করলেই নিস্তব্ধ করে দেয়া হচ্ছে: মির্জা ফখরুল


» Md. Neamul Hasan Neaz | | সর্বশেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২০ - ১০:৫৮:৪৯ পূর্বাহ্ন

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, আজকে দুঃখ হয় যখন দেখি গুণী মানুষ যারা রয়েছেন তাদের শুধু কথা বলার কারণে কারাগারে পাঠানো হয়। যদিও তারা রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকেন না।

দেশে আজ যারা ভিন্নমত পোষণ করতে চায় তাদের বিভিন্নভাবে নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে। নিস্তব্ধ করে ফেলা হচ্ছে। এর মধ্যেই আমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে। কথা বলতে হবে। শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী তালুকদার মনিরুজ্জামানের স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন। ‘তালুকদার মনিরুজ্জামান নাগরিক স্মরণসভা কমিটি’ এ সভার আয়োজন করে। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের অপরাধ কী? অপরাধ যে মাঝে মধ্যে তিনি কিছু লিখতেন, তার পত্রিকায় কিছু সত্য কথা বের হতো। এ জন্য একটি অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলার সঙ্গে তাকে জড়িয়ে দেয়া হল। প্রধান আসামি করা হল। তাকেসহ প্রথম আলোর কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঠিক একইভাবে মাহমুদুর রহমানের পত্রিকা আমার দেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। তাকে দীর্ঘকাল কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছিল। যে ভিন্নমত পোষণ করতে চায়, ভিন্ন কথা বলতে চায়, এখন তাকে নিশ্চিহ্ন করা, নির্মূল করা অথবা স্তব্ধ করে দেয়ার কাজ চলছে। মির্জা ফখরুল বলেন, তালুকদার মনিরুজ্জামানরা সব সময় আসেন না। পৃথিবীতে ক্ষণজন্মা পুরুষ তারা। তিনি চলে যাওয়া দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, বাংলাদেশে আদর্শ শিক্ষক বলতে যা বোঝায়, তালুকদার মনিরুজ্জামান তাই ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হওয়ার পথে দৌড়াননি। তিনি গবেষণা নিয়ে থাকতেন।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় তাকে অনুসরণ করা গেলে দেশে শিক্ষার মান উন্নত হতো। গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, রাষ্ট্র ধ্বংসের উপত্যকার দিকে যাচ্ছে। এমন একটি সময় তালুকদার মনিরুজ্জামানের চিন্তা ও লেখালেখির প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম। সভায় বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন হ এহছানুল হক মিলন, অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক সি আর আবরার প্রমুখ।