ভাড়াটিয়া নাই, বেচাকেনাও কম

লোকসানে সবজি বিক্রেতারা

» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২০ - ১০:৪০:৪০ পূর্বাহ্ন

‘বারোডা ঘরের মইধ্যে আটটাই খালি, কে আর কিনবো? কাস্টমার আইবো কইত্থে?’ কথাগুলো বলছিলেন উত্তরা ৫নং সেক্টর সংলগ্ন দলিপাড়া কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী মোঃ ওয়ালিউর রহমান। একটা সময় ছিল যখন সন্ধ্যার পর জমে উঠতো কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ীদের বিক্রির আসর অথচ এখন সেখানে ক্রেতাহীন অলস সময় পার করছেন তারা। বাজারটিতে ওয়ালিউর রহমানের মতো চার-পাঁচজন সবজি বিক্রেতার একই দশা। কেউ বসে বসে মোবাইলে কথা বলছেন, আবার কেউ সেই মোবাইলের পর্দাতেই ওয়াজ-নসীহত শুনে সময় পার করছেন।

কাঁচা তরু-তরকারি বিক্রেতাদের ব্যস্ত জীবনে এই অলস সময়ের গল্পের কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা জানায়, এলাকাতে যেসব ভাড়াটিয়া শ্রেণির মানুষ ছিল করোনার প্রাদুর্ভাবে তারা ঢাকা ছেড়েছেন। ফলে বেঁচাবিক্রি একেবারেই কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা আগে যেখানে দিনে দশ থেকে বার হাজার টাকার কাঁচামাল বিক্রি করতে পারতো অথচ বর্তমানে সেখানে দুই হাজার টাকারও সবজি বিক্রি করতে পারছে না তারা। আর এসবের একমাত্র কারণই হচ্ছে মানুষজন (ভাড়াটিয়া) নাই, তাই বেঁচাকেনাও কম।

কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনায় ক্রেতাশুন্য বাজার, অপরদিকে মালামালের চড়া দাম। দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা অল্প পরিমাণে কিনছে। এতে বেচাকেনা কম, তাই কাঁচামালের অর্ধেকেরও বেশি অবিক্রিতই রয়ে যাচ্ছে। এসব অবিক্রিত মালামালের অধিকাংশই পরদিন পচে নষ্ট হচ্ছে। ফলে, একদিকে ক্রেতা কম হওয়ায় বিক্রিও খুব অল্প, অপরদিকে বেশি দামে কেনা সবজি পচে যাওয়ায় সেগুলোকে দিন শেষে ফেলে দিতে হচ্ছে ময়লার ভাগাড়ে। সবমিলিয়ে, লোকসান ও হতাশা যেন একসাথে পেয়ে বসেছে দলিপাড়া বাজারের মোঃ ওয়ালিউর রহমানের মতো অন্যান্য সবজি বিক্রেতাদের।