মোঃ সবুর মিয়া উত্তরা নিউজ মোঃ সবুর মিয়া উত্তরা নিউজ


ভালো মন্দের সমাচার!






ভালো এবং মন্দ দুইটা সম্পূর্ণ পারস্পারিক বিরোধী শব্দ। ভালো এবং মন্দোর সংজ্ঞা দিতে গেলে মানুষ বৈচিত্র রকমের কথা বলে থাকে, তবে মানুষ ভালো মন্দোর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করুক না কেন মূল বিষয়টি কিন্তু ভিন্ন নয়।( Both good and evil are completely anti-corrupt words. For the definition of good and evil, people talk about diversity, but the main thing is not the same as to define how people define good definition of evil.) ভালো কে ভালো বলা সে তো স্বাভাবিক প্রাপ্তি। ভালো কে ভালো বলার প্রাপ্তি প্রত্যেকটি মানুষ প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা করবে এটাই স্বাভাবিক। পৃথিবীর বহু কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ অসংখ্য নিদর্শন আমাদের সামনে রেখে গেছেন। কিভাবে মানুষ পৃথিবীর বুকে ভালো ভাবে জীবন ধারণ করতে পারে তার পান্ডুলিপি পৃথিবীর বুকে এখনো বিদ্যমান। ভালো মানুষের সবচেয়ে আদর্শিক ও সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। (The most ideal example of a good man is the Prophet Muhammad peace and blessings of Allaah be upon him).

পৃথিবীকে অর্থাৎ পৃথিবীর মানুষদেরকে তিনি ব্যবহারিক শিক্ষা দিয়েছেন কিভাবে পৃথিবীর বুকে ভালোভাবে বেঁচে থাকা যায় ও অন্যকে ভালো রাখা যায়। আরো অসংখ্য গুণী মানুষের নাম আমরা উদাহরণ হিসেবে দিতে পারি যাদের জীবন যাপনের নজির পৃথিবীতে বিরল ছিল, এমনকি এখনো আমরা যদি আমাদের সমাজ, দেশ ও পৃথিবীর দিকে ভালোভাবে অনুসন্ধান করে দেখি সত্যি কারের ভালো মানুষের সংখ্যা কম হলেও, ভালো মানুষের অস্তিত্ব এই গ্রহে এখন বিদ্যমান আছে।

মন্দ ও ভালো সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে, মন্দ বা খারাপ সবসময়ই সব ক্ষেত্রেই খারাপ ও ঘৃণিত হিসেবে বিবেচিত হয়। সমাজের কোন একটি অর্গানে খারাপ প্রভাব পরিলক্ষিত হলে, সমাজের সভ্য ও ভালো মানুষেরা নেতিবাচক দৃষ্টিতেই বিবেচনা করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভালো খারাপের একটা সংমিশ্রন পরিলক্ষিত হচ্ছে যে মানুষটি অপকর্ম করছে সেই মানুষটি তার নিজের অপকর্মের দায়ভার অন্যর ওপরে চাপিয়ে দিচ্ছে, সমাজকে সে বুঝাতে চাচ্ছে সে নির্ভেজাল সৎ মানুষ।আমাদের সামাজিক অবস্থা এমন এক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে, যেখানে যোগ্য উপযুক্ত লোকরা চরমভাবে নিগৃহীত ও লাঞ্চিত হচ্ছে, বিত্তবান ও রাজনৈতিক ক্ষমতাধররা তাদের ক্ষমতা দিয়ে শাসনভার নিজেদের কুক্ষিগত করেছে। সমাজের সাধারণ মানুষ এক রকম জিম্মি হয়ে পড়েছে। সামাজিক ন্যায়বিচার আজ কলুষিত, মানুষ কোন ভাবেই সমাজ থেকে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করতে পারছে না। সামাজিক বিভেদ ভয়ঙ্কর রূপে সমাজে পরিলক্ষিত হচ্ছে, সত্যর সাথে মিথ্যার সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে। মানুষের নীতি ,নৈতিকতা লোপ পেয়েছে। মানুষ তাদের পূর্বপুরুষদের মানবতার ইতিহাস ভুলে গিয়েছে । অন্যায় ও অপরাধ প্রবণতার পক্ষে অকাট্য যুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। সমাজে দেখা যাচ্ছে অন্যায়ের পক্ষে মানুষের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে, ন্যায়কে করেছে
জলাঞ্জলি!

কথাকথিত শিক্ষিত সমাজ হারিয়ে ফেলেছে তাদের নৈতিক শক্তি। ন্যায়ের পক্ষে ও অন্যায়ের বিপক্ষে নিজেকে দণ্ডায়মান রাখতে ভয় পাচ্ছে। দেশে চালু হয়েছে ভয়ের সংস্কৃতি, একজন মানুষ আরেকজন মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছে না, মনে করছে কোন বিপদ আমার মাথায় এসে পড়বে, কেনইবা আমি অন্যোর ঝামেলা নিব, এই ধরনের হীন প্রবণতা সমাজকে গ্রাস করেছে!

একজন মানুষের হাত,পা, চোখ এবং মানুষের মত শরীরের অবয়ব থাকলেই তাকে মানুষ বলা যায় না। মানুষ হিসেবে সংজ্ঞায়িত হতে হলে মানুষের মধ্যে যে সকল গুণাবলী থাকা দরকার সেগুলো অবশ্যই মানুষের হৃদয়ে বিদ্যমান থাকতে হবে তবেই হবে সত্যি কারের মানুষ। ভালো কে ভালো মন্দ কে মন্দ প্রকাশ করার সৎ সাহস একটা মানুষের মধ্যে অন্তর্নিহিত থাকলেই মানুষ নিজেকে সত্যি কারের অর্থে মানুষ হিসেবে বিবেচিত করবে।

আমাদের সমাজ থেকে সমস্ত কলুষিত দূর হোক, সত্যি কারের মানুষ গুলো সমস্ত অন্যায়, অত্যাচার, মিথ্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে, এই কামনাই কাম্য সকল মানুষের হৃদয়ে।