uttaranews24 uttaranews24
সবার আগে সবসময়


ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বিশ্বের জন্য কতটা হুমকি?






উত্তরা নিউজ টোয়েন্টিফর ডটকম। অনলাইন: ভারত ও পাকিস্তানের মতো দু’টি পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন দেশের সবচেয়ে অস্থিতিশীল সীমান্তবর্তী এলাকা। সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের পুলাওয়ামা হামলাকে কেন্দ্র করে ঐ অঞ্চলে আবারো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পুলাওয়ামা জেলায় গত সপ্তাহে হওয়া হামলাটি ছিল কয়েক দশকের মধ্যে ভারতীয় বাহিনীর উপর হওয়া সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী আক্রমণ, যেখানে কয়েক দফা বোমা বিস্ফোরণে এবং গোলাগুলিতে প্রায় ৫০ জনের মত নিহত হয়েছে।

ভারত অধ্যূষিত কাশ্মীরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘাতের কারণে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষও মারা গিয়েছে গত বছর। ২০১৮ সালে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বেসামরিক ব্যক্তি এবং জঙ্গীগোষ্ঠীর সদস্যসহ কাশ্মীরে ৫০০ জনের বেশি নিহত হয়েছে।

১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে পাকিস্তান আর ভারত স্বাধীনতা পাবার আগে থেকেই কাশ্মীর বিতর্কের কেন্দ্রে। কাশ্মীরের অংশবিশেষ ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশ নিয়ন্ত্রণ করে। একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ চীনের।

পুলাওয়ামাতে গত সপ্তাহের সহিংস সংঘাতের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারো যুদ্ধংদেহি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। হামলার জন্য পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গী সংগঠনকে দায়ী করেছে ভারত, যার ধারাবাহিকতায় ভারতের বেশ কিছু শহরে বিক্ষোভের পাশাপাশি কাশ্মীরি ছাত্র-ছাত্রী এবং ব্যাবসায়ীরা জনরোষেরও শিকার হয়েছেন।

ভারত অধ্যূষিত কাশ্মীরে সপ্তাহের শেষদিকে মোবাইল ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হওয়ায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন যে কোনো ধরণের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলেই তা ভিন্ন মাত্রা নেয়।

কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই দুই দেশের দ্বন্দ্বের মূল রেশটা পরে কাশ্মীরে বসবাসকারী মানুষের ওপর।

কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দু’বার আলাদা যুদ্ধ ছাড়াও দুই দেশের সেনাবাহিনী, জঙ্গী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসংখ্য সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। যেসবের কারণে বর্তমানে কাশ্মীরের অর্থনীতির অবস্থা নাজুক, কর্মসংস্থান সঙ্কট প্রবল এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চরমে। আর এ অবস্তায় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্বে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। সূত্র: বিবিসি

ভারত-পাকিস্তান সংকটের মধ্যস্থতায় সৌদি
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-যুবেইর।

যুবেইর বলেন, ‘সৌদি আরবের উদ্দেশ্য হলো এই দুই দেশের মধ্যকার টানাপোড়েন কমিয়ে আনার চেষ্টা করা। সৌদি দেখতে চায় এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার বিভেদগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের কোনো উপায় বের করা যায় কিনা।’ সোমবার তিনি এসব কথা বলেন। এ খবর জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

সৌদি যুবরাজ এবং তার উপ-প্রধানমন্ত্রী এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই ভারত-পাকিস্তানের সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব।

এর আগে পাকিস্তান সফরে যুবরাজ দেশটির সঙ্গে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি করেন। পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতি ঠিকঠাক করতে সাহায্য করবে এই বিনিয়োগ।

এদিকে ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা কমাতে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে অনুরোধ করেছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ কুরেশি এক চিঠির মাধ্যমে এ অনুরোধ করেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়া।

চিঠিতে কুরাইশি বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের বলপ্রয়োগের হুমকির পর আমাদের এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে আমি আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করছি। উত্তেজনা কমাতে পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। কাজেই পরিস্থিতি শান্ত করতে জাতিসংঘ অবশ্যই পদক্ষেপ নেবে বলে আশাকরি।