ভাইয়ে ভাইয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি না: রবিন (ভিডিও)


» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ০১:১১:১৬ অপরাহ্ন

উত্তরা অ্যাসোসিয়েশন (নতুন নাম- উত্তরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি) বার্ষিক সাধারণ সভা-২০১৮ এর বক্তব্য পর্বে উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উত্তরা ৫নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট হাজী মনোয়ার ইসলাম (রবিন) উপস্থিত প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও আগত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, উত্তরা অ্যাসোসিয়েশনের নাম আজ পরিবর্তন করে উত্তরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি করা হয়েছে। সোসাইটি বলতে আমরা ধানমন্ডি গুলশান-বনানীতে সোসাইটি আছে তাই আমাদেরকেও সোসাইটি রাখতে হবে তা এমন নয়। তিনি বলেন, আমি কল্যাণ স¤পর্কে একটি ছোট্ট কথা বলে আমার বক্তব্য শেষ করব। এসময় তিনি একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি যখন পাঁচ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক তখন একটি প্রিন্টিং কাগজ নিয়ে আমাদের বাংলাদেশের প্রথিতযশা একজন সাংবাদিকের কাছে দিলাম সেখানে কল্যাণের মূর্ধন্য (ণ) এর জায়গা দন্তন্য (ন) হয়েছে এবং তাঁর কাছে কাগজটি পৌছে দিয়ে অন্য বাড়ির দিকে যখন যেতে লাগলাম। তখন উনার বাড়ির দারোয়ান আমাকে পেছন থেকে ডেকে বলল, ভাইয়া আপনাকে স্যার দেখা করতে বলেছেন। আমি গেলাম। উনি আমাকে বললেন কাগজটা কে দিয়েছে? আমি বললাম আমি দিয়েছি। তিনি আমাকে বললেন ‘তুমিতো কল্যাণের বানানই জাননা, সমাজের কল্যাণ করবা কি? তো আমি বললাম, চাচা এটাতো প্রিন্টিং মিসটেক প্রেস করেছে। উনি বলেলেন, স্বাক্ষরটা কার? আমি বললাম, আমার। উনি বললো, তাহলে ভুলটা তোমারই। তুমি কল্যাণ করতে গেলে কল্যাণ বানান শুদ্ধ করতে হবে। এজন্য আজকে প্রস্তাবে করেছি, উত্তরা সোসাইটির জায়গায় ওয়েলফেয়ার না হলে পরে আমরা জনগণের দোরগোড়ায় যেতে পারবনা এজন্য কল্যাণের প্রতি দূর্বলতা অনেক আগে থেকেই।

আজকে আমরা সেক্টর কমিটির দুই বছরের জায়গায় তিন বৎসর এটাও সিদ্ধান্ত হয়েছে। আলোচনা পক্ষে-বিপক্ষে হয়েছে। আমরা অনেকেই দুই এবং তিন এর পক্ষে বিপক্ষে কথা বলেছি। বলার পেছনে কারণ হচ্ছে একটাই সেটা হচ্ছে আমরা এলাকার কল্যাণ করতে এসেছি, মুরব্বীদের হাত ধরে এসেছি। দুই এবং তিন এর পক্ষে বিপক্ষে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, আপনারা উপর থেকে আমাদের নিচে দেন আমাদের কোন সংশয় বা আমাদের কোন বিরাগভাজন থাকবে না। তিনি বলেন, আমরা দুই এবং তিন এর পক্ষে এজন্য ছিলাম আমাদের ৫নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির নির্বাচন আগামী মার্চ মাসে হবে। আমাদের অলরেডি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আগস্ট এর টাকা স¤পূর্ণভাবে পরিশোধ করতে হবে। এমন অবস্থায় আমরা এজিএমে বলব- আমরা দুই বৎসরের জায়গায় তিন বৎসর হয়েছি তখন কি আর এজিএম আর এজিএম থাকবে? অবশ্যই থাকবে না। এসময় তিনি উত্তরাবাসীরা নিজেদের মধ্যে মামলা মোকদ্দমার চালু থাকার ব্যাপারে বলেন, আমরা সাধারণত জানি, আমাদের উত্তরায় এখনও অনেক মসজিদ নিয়ে এখনও মামলা-মোকদ্দমা বিদ্যমান। তাই সোসাইটি নিয়ে তো কোন প্রশ্নই নাই।

এজন্য আজকে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলছি যে, সুন্দরভাবে এবং আমরা সবাই প্রস্তাবের পক্ষে একমত হতে পেরেছি এবং সুন্দরভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি যে, উত্তরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি কর্তৃপক্ষ সেক্টরে সেক্টরে চিঠি দিয়ে আমাদের জানাবেন তাহলে, ভাইয়ের সাথে ভাইয়ের সংঘাত, বোনের সাথে বোনের সংঘাত, এলাকার সাথে এলাকার সংঘাত, বাড়ির সাথে বাড়ির সংঘাত থাকবে না। তিনি বলেন, আমি শান্তপ্রিয় মানুষ। ভাইয়ে ভাইয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করিনা। আর সমাজ উন্নয়নে কাজ করতে এসে নিজেরা নিজেরা বিরাগভাজন হবো এটার আমি আগেও নাই পিছনেও নাই। প্রয়োজনে আমি ঘরে বসে থাকব।

তিনি বলেন এই ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের ইতিহাস অনেকেই এখনও জানেন না। আমি ৩৪ বছর আগে উত্তরায় এসেছি। তখন এই উত্তরা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন নামে ছিল। এই এসোসিয়েশনের নামে তিন তিনটা মামলা হয়েছে। বিধায়, কল্যাণ করতে গিয়ে যদি কোর্টের বারান্দায় যাই আর নামাজ পড়তে মসজিদে এসে যদি কোর্টের বারান্দায় যাই তবে, এর থেকে লজ্জার আর কোন জায়গা নাই। তাই আমি সকলের কাছে অনুরোধ করব যে, কল্যাণ করতে এসেছি অকল্যাণ দূরে রেখে কল্যান করব, নামাজ পড়তে এসেছি মামলা বাদ দিয়ে আমরা নামাজ পড়ব। নামাজ আর মামলা দুটো একসাথে হবে না। এসময় তিনি, উত্তরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এবং সেক্টর কল্যাণ সমিতি/সোসাইটি সমূহের মধ্যে সকল প্রকার বিরোধ/বিবাদ/বিরাগভাজন ঠেকাতে উপস্থিত মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের সাথে বৈঠক করার অনুরোধ জানান।

মনোয়ারুল ইসলাম রবিন,
সভাপতি, উত্তরা ৫নং সেক্টর কল্যাণ সমিতি ও উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগ