ব্রুনাইয়ে চালু হলো পরিপূর্ণ শরয়ী বিধান

আজ বুধবার থেকে ব্রুনাইয়ের ইসলামী শরিয়া আইনে সমকামিতার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড চালু করা হয়েছে। এ কারণে অনেকে নিন্দা করলেও দেশটির সুলতান অনড় অবস্থানে রয়েছে।দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুলতানি শাসনতন্ত্রের দেশ ব্রুনাইয়ের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি সেখানকার সুলতান হাসানাল বোলকিয়াহর আমলে ইসলামি এই আইন চালু হলো দেশটিতে। খবর ডয়চে ভেলের।

পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম দেশ, যেটি সৌদি আরব ও ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মতো জাতীয় পর্যায়ে ইসলামী আইন পরিপূর্ণভাবে মেনে চলা শুরু হয়েছে।রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ানে দেয়া এক বক্তব্যে ব্রুনেইর সুলতান বলেছেন, আমি চাই এদেশে ইসলামের শিক্ষা আরও শক্তিশালী হোক। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই যে ব্রুনাই দেশটি সবসময় আল্লাহর ইবাদতে নিজেদের উৎসর্গ করেছে।’

প্রায় পাঁচ দশক ধরে ক্ষমতার শিখরে থাকা সুলতান আরও বলেন, যে তাঁর দেশ একটি ‘ন্যায্য ও সুখী’ দেশ৷

এর আগে, ২০১৪ সালে ব্রুনাইতে শরিয়া আইন চালু করেন সুলতান বোলকিয়াহ৷ তবে তা সীমাবদ্ধ ছিল জরিমানা কিংবা জেলের বিধান প্রয়োগের মাধ্যমে৷ ব্যভিচার বা শুক্রবারের জুম্মার নামাজে অংশ না নেওয়ার জন্য জরিমানা ও জেলের বিধান চালু করা হয়৷

এ বিষয়ে ডয়চে ভেলেকে অস্ট্রেলিয়ার মানবাধিকার সংগঠন ‘দ্য ব্রুনাই প্রজেক্ট’-এর কর্মী ম্যাথু উল্ফে বলেন, ‘ব্রুনাইতে সমকামের শাস্তি ব্রিটিশ ঔপনেশিবেশিক আমল থেকে৷ সেখানে সমকামের শাস্তি ১০ বছরের জেল৷

ওই ব্যক্তি এও বলেন যে, আমার জানা মতে, এই আইন কখনো প্রয়োগ করা হয়নি৷’

কিন্তু এখন শরিয়া অনুযায়ী সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো ব্যভিচারী, সমকামী ও ধর্ষকদের বেত্রাঘাত ও পাথর ছুড়ে হত্যা, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার কারণে প্রয়োগ করতে এতদিন দেরি করেছে ব্রুনাই সরকার৷

তেলসমৃদ্ধ ব্রুনাইতে ৪ লাখ ৩০ হাজার মানুষের বাস৷ এদের দুই-তৃতীয়াংশ মুসলিম জনগোষ্ঠী৷ নতুন আইন অনুযায়ী মুসলিম ও অমুসলিম  সবার ক্ষেত্রেই এই আইন প্রযোজ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *