বীর মুক্তিযোদ্ধা আলফু ফকিরের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলো ‘হ্যালো ছাত্রলীগ’


» উত্তরা নিউজ I সারাবাংলা রিপোর্ট | | সর্বশেষ আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০ - ১০:১৬:৪৪ পূর্বাহ্ন

গোলাম রাব্বি প্লাবন, দেবিদ্বার সংবাদদাতা: যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলফু ফকির (৭২)’র চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন হ্যালো ছাত্রলীগ।
দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েও কোনধরনের চিকিৎসা সেবা না পেয়ে হতাশ ও বুকে ক্ষোভ যন্ত্রনা নিয়ে বাড়ি চলে যাওয়ার সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়। ওই সংবাদটি নজরে আসে হ্যালো ছাত্রলীগ টিম প্রধান ও ছাত্রলীগ কুমিল্লা উত্তর জেলা সভাপতি আবু কাউছার অনিক এর।
সংবাদটি দেখে তিনি তাৎক্ষনিক হ্যালো ছাত্রলীগের একটি টিম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠালেও ওরা আলফু ফকিরকে সেখানে পায়নি। উনি রাগে ক্ষোভে চলে গেছেন নিজ গ্রামের বাড়িতে। যাওয়ার সময় স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীদের নির্মম অবহেলা, হয়রানী, এ অসুস্থ্য লোকটাকে নানা টেবিলে ঘুরিয়ে কষ্ট দেয়ার ঘটনার বর্ননা দিতে যেয়ে অঝড়ে কাঁদলেন। তার হাতে পায়ে পানি জমে গেছে। শারিরীক অবস্থা দেখে মনে হয় নানা জটিল রোগে আক্রান্ত তিনি। একেবারে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে।
তিনি দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হলেও কোনোধরনে চিকিৎসা সেবা পাননি বলে জানান। প্রয়োজনীয় ঔষধ, পরীক্ষা নিরীক্ষা সবই বাহির থেকে করতে হয়েছে।  উপরন্ত তাকে করোনায় আক্রান্ত বলে স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সের অবহেলার স্বীকার হন। এমনকি করোনা নেগেটিভ এর কাগজ দেখিয়েও কাদঁলেন। কারোর করুনা পাননি তিনি।
সাদামাঠা এ লোকটি একটি ধর্মীয় বিশ্বাসে লাল সালু পড়ে ঝড়-বৃষ্টি, রোদ-তাপ, প্রকোট শীতেও খালি গায়ে চলা ফেরা করেন। তবুও কখনো রোগে আক্রান্ত হতে শুনা যায়নি। কখনো কারোর সাথে উচ্চবাচ্য, তর্কে জড়ানো, কারোর কাছে হাত পাতা, মিথ্যে বলা, কারোর ক্ষতি করেছে এমন দৃষ্টান্তও নেই। জীবনের শেষ সময় এসে পয়সা বিহীন চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার যুগে অবহেলায় আর অনাদরে মরতে বসেছেন। এ মুক্তিযাদ্ধা ১৯৭১ সালের ৩১মার্চ ১৪জনের একটি পাক সেনাদল পায়ে হেটে বি-বাড়িয়া থেকে ময়নামতি সেনা ক্যাম্পে যাওয়ার পথে দেবীদ্বারে মুক্তিকামী জনতার প্রতিরোধ করে অবরুদ্ধ করে। পুরো দলটিকে পরাস্থ করতে ৩৩ বাঙ্গালী শহীদ এবং অসংখ্য লোক আহত হন। ওই যুদ্ধে আলফু ফকিরের একটি হাত গুলিবিদ্ধ হয়। ওই যোদ্ধা আজ জীবনের শেষ সময়ে এসে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর পথযাত্রী। সারা দেশের স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশায় দেবীদ্বারও আজ মুক্ত নয়। কিন্তু এ বীর যোদ্ধার ক্ষেত্রেও এ অমানবিক আচরন মেনে নেয়া যায় ?
অবশেষে হ্যালো ছাত্রলীগের এ মহৎ পদক্ষেপে মুক্তিযোদ্ধা আলফু ফকিরের সুস্বাস্থ্য কামনা ও পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ কিছুটা দায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে।