বিশ বছরের দ্বন্দের অবসান, বড় বউড়ায় শান্তির বাতাস


» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২০ - ০৭:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন

জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জের ধরে বাড়ি ঘরে হামলা, রাস্তা বন্ধসহ ত্রিমুখী হয়রানির শিকার হওয়া আব্দুল আউয়াল ও তার পরিবারের বুকে ফিরেছে স্বস্তির নিঃশ্বাস। রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন বড় বউড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা তিনি। সুদীর্ঘ কাল থেকে এলাকাটিতে বসবাস করে আসছিলেন আব্দুল আওয়ালের পূর্ব পুরুষেরা। প্রান্তিক এলাকা হওয়ায় প্রকৃতির সাথে লড়াই সংগ্রামেই পরিবার, সন্তান ও নাতি-নাতনীদের নিয়ে বাপ-দাদার ভিটেমাটি আকড়ে ধরে আছেন তিনি। কিন্তু, আশপাশের আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের নানামুখী হিংসাত্মক ও অমানবিক আচরণ আব্দুল আওয়াল ও তার পরিবারকে গত বিশ বছর ধরে হয়রানি করে আসলেও শেষ পর্যন্ত এ থেকে মুক্তি পেয়েছে পরিবারটি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আব্দুল আওয়াল ও তার প্রতিবেশী নিকট আত্মীয়দের মাঝে বিগত বিশ ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এতে করে এলাকায় বার বার বিচার-শালিসী বসলেও কোনভাবেই সেগুলো কাজে আসেনি। বরং হয়রানির প্রেক্ষিতে বিচার ডাকায় আব্দুল আওয়াল ও তার পরিবারকে প্রতিবেশীদের দ্বারা আরো কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সর্বশেষ, দেশে করোনা পরিস্থিতি চলাকালীন সময়ে আব্দুল আওয়ালের বাড়ির সামনে ইট-বালু ফেলে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন আত্মীয়গণ। এ কাজে নেতৃত্ব প্রদান করেন তারই প্রতিবেশি ভাতিজা সালাউদ্দিন গং। ফলে, নিজ ভিটায় পরিবার-পরিজন নিয়ে জিম্মিদশায় পড়েন সত্তরোর্ধ্ব আব্দুল আওয়াল। বিষয়টি নিকটস্থ থানায় জানালেও, তেমন সুরাহা পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপে ভাতিজা সালাউদ্দিন গংরা আপোষ-মীমাংসায় যেতে রাজি হয়েছেন।

গত ১লা জুলাই, বুধবার আব্দুল আওয়ালের নির্মাণাধীন ভবনের নিচে মীমাংসার নিমিত্তে বিবাদমান দুটি পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন সংরক্ষিত আসনের স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলোরা পারভীন ও এলাকার গণ্যমান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। এ সময় বিচারিকদের সম্মতিক্রমে উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে বসবাস করার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। দীর্ঘদিন পর আব্দুল আওয়াল ও সালাউদ্দিন গংরা এমন সিদ্ধান্তে আসায় এলাকার অন্যান্য বাসিন্দারাও আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

এ বিচারে অংশ নেয়া কাউন্সিলর ইলোরা পারভীন উত্তরা নিউজকে বলেন, ‘এখানে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিল। আমরা চেষ্টা করেছি উভয় পক্ষেরই স্বার্থ বজায় রেখে একটি শান্তিপূর্ণ মীমাংসায় আসা এবং সেটি সম্ভব হয়েছে। উভয় পক্ষই আমাদের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে আব্দুল আওয়াল ও তার আত্মীয়দের (সালাউদ্দিন গং) মাঝে জমিজমা সংক্রান্ত আর কোন বিরোধ দেখা দিবেনা আমরা তেমনটাই প্রত্যাশা করি।’

এদিকে, ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও প্রতিবেশীদের দ্বারা আবারও হয়রানির শিকার হতে পারেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আব্দুল আওয়াল। তার দাবী, ‘পূর্বে ওরা (সালাউদ্দিন গং) আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনে আমিও চলতে চাই। তবে এই সিদ্ধান্ত ওরা কতটা মানবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।’ অপরদিকে, বিবাদী পক্ষের প্রধান সালাউদ্দিন গং বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন বলে উত্তরা নিউজকে জানিয়েছেন।