“বিশ্ব শয়তান আমেরিকা ও ইসরাইল সব অশান্তির কারণ”


» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ১৪ মে ২০১৯ - ০৯:৩৩:১০ অপরাহ্ন

হযরত আলী (আ.) বলেছেন: যে মানুষ গতকাল ছিল শুক্রবিন্দু এবং আগামীকাল লাশ হয়ে যাবে তার অহংকার দেখলে আমি বিস্মিত হই।

হাদিসের পর আজকের আসরের প্রথমেই হাতে তুলে নিয়েছি বাংলাদেশ থেকে আসা একটি ইমেইল। আর একটি এসেছে নওগা জেলার মান্দা উপজেলার সেতু লিসেনার্স ক্লাব থেকে। চিঠিতে ক্লাবের সভাপতি সুলতান মাহমুদ সরকার লিখেছেন, মার্চের  ৭ তারিখে হযরত ইমাম বাকির (আ.) এর জন্ম দিবস উপলক্ষে রেডিও তেহরানের বিশেষ পরিবেশনা আমার খুব ভাল লেগেছে। তাঁকে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা থেকে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম।

রেডিও তেহরানের নিয়মিত এ শ্রোতাভাই আরো লিখেছেন, যদি আহলে বায়তের সদস্য ও প্রথম ইমাম হযরত আলী (আ.) এবং হযরত ইমাম হাসান-হোসাইন আলাইহিমুসসালামকে শহীদ করা না হতো তাহলে অবশ্যই বিশ্ব পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত। যেখানে বিশ্ব শান্তির বার্তা বাহক হতো মুসলমানরা। ইমাম বাকির (আ.)’র জ্ঞান ছিল অসমান্য। তারঁ পান্ডিত্যপূর্ণ কিতাব আমাদের জ্ঞান তৃষ্ণা মিটিয়ে যাচ্ছে।

ভাই সুলতান মাহমুদ সরকার আরো লিখেছেন,  সংবাদ পর্যালোচনা ভিত্তিক অনুষ্ঠান দৃষ্টিপাত থেকে সারা বিশ্বের ঘটে যাওয়া ঘটনার নিখুঁত চিত্র জানা যায়। এরপর তিনি অভিযোগ করেছেন, বার বার চিঠি লিখেও প্রিয়জনের আসরে আমার চিঠি ঠাঁই পাচ্ছে না কেন? বুঝতে পারছি না। আমি চিঠি লেখার প্রতি হতাশ হয়ে পড়ছি। আশা করি আমার চিঠিগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন প্লিজ!

বহলুল: তা ভাই এবারে কি আপনার হতাশা কাটল মানে চিঠি নিয়ে তো বিশদ আলোচনাই হলো।

হ্যা ভাই, এবার আশা করি আপনার আর কোনো অভিযোগ থাকবে না। আর আপনার ইমেইল পড়ে মনে হলো আপনি শুধু আমাদের নিয়মিত শ্রোতাই নন সেইসঙ্গে একনিষ্ঠ শ্রোতাও।  চিঠির বিষয়বস্তু দেখলে বোঝা যায়, আপনি নিয়মিত মনযোগ দিয়ে আমাদের অনুষ্ঠান শোনেন। ইমেইল পাঠানোর জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।  ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন সে আশা রইল।

বহলুল: এই দেখুন আজো ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্য নিবাসী আমাদের পুরনো এবং বিদগ্ধ শ্রোতা ভাই আনন্দ মোহন বাইনের একটি মজার গল্প শুনবো।

বহলুল ভাই, আপনার কথা শুনে মোটেও অবাক হলাম না। কারণ আজ সকালেই দেখেছি আপনি আনন্দ মোহন বাইনের ফাইল নিয়ে কি যেন করছেন। তখনই বুঝেছি যে আজ এই ভাইয়ের কোনো গল্প হয়তো শোনা যাবে। তা যাক তাহলে চলুন শুনি ভাই বাইনের কথা।

হা হা হা। বহলুল ভাই আমাদেরও হাসি পাচ্ছে। এতোক্ষণ ভারতের ছত্তিশগড় নিবাসী শ্রোতাভাই আনন্দ মোহন বাইনের গল্প শুনছিলেন। ধন্যবাদ ভাই বাইন। ভবিষ্যতে আপনার কাছ থেকে আরো গল্প শোনার ইচ্ছা রইল…..

বহলুল: তা হলে এ পর্যায়ে কি করবো?

মানে আমরা ভুলে গেছি কিনা তা যাচাই করতে চাইছেন বহলুল ভাই। দেখুন, এখন রেডিও তেহরানের অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপ এবং রেডিও তেহরানের ওয়েবসাইটের খবরে যে সব মন্তব্য হয়েছে সেদিকে নজর দেবো।

আমিই বরং আগে নজর দেই। হ্যাঁ প্রেসিডেন্ট রুহানির ইরাক সফরের ব্যাপারে মাইক পম্পেওর ক্ষোভ প্রকাশ শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১৪ মার্চ। এ খবরে বলা হয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্টের ইরাক সফরের ব্যাপারে মার্কিন কর্মকর্তারা একের পর এক ক্ষোভ প্রকাশ করে যাচ্ছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও তেহরান-বাগদাদ সম্পর্ক শক্তিশালী হওয়ার ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেনইরাককে তাবেদার রাষ্ট্র’ বানাতে চায় ইরান।

বহলুল: মাউন্ট ভিসুবিয়াসের অগ্নিজ্বালায় জ্বলছেন পম্পেই আহারে!

বহলুল ভাই, পম্পেই নগরী ধ্বংস হয়েগিয়েছিল ভিসুবিয়াসের লাভায়। ভালোই ইংগিত করলেন। হ্যা ফেসবুকের গ্রুপে এ খবরে বেশ গরম গরম মন্তব্য হয়েছে। পাঠক বন্ধু আবদুস সেলিম লিখেছেন,  বিশ্ব সন্ত্রাসী আমেরিকার ক্ষোভের কোন মূল্য নেই। এরপর এ ধরণের ক্ষোভের পরিমাণ দিন দিন বাড়তেই থাকবে। কিন্তু সেসব ক্ষোভে ইরানের কোন মাথা ব্যথার উপাদান নেই।

বহলুল: চমৎকার। এটাকেই প্রতিনিধিত্বশীল মন্তব্য হিসেবে ধরে নেয়া যায়।

ঠিক বলেছেন। এবারে আরেকটি খবর। মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবাদের উৎস ইসরাইল- শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১০ মার্চ। এ খবরে বলা হয়েছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা বাসিনা শাবান বলেছেন,সিরিয়া,ইয়েমেন,ইরাক ও লিবিয়ায় সন্ত্রাসবাদের উৎস হচ্ছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। তিনি সিরিয়ার বার্তা সংস্থা সানাকে এ কথা বলেছেন।

আর রেডিও তেহরানের ওয়েবসাইটের এ খবরের মন্তব্য এখানে তুলে ধরছি।  বন্ধু সুলতান লিখেছেন, বিশ্ব শয়তান আমেরিকা ও ইসরাইল হলো সব অশান্তির কারণ। এখানে এ নিয়ে আলোচনা করা যায়।

বহলুল: না যায় না।  কারণ আসরের সময় সত্যিই শেষ হয়ে এসেছে আগে খেয়াল করেন নি।

হ্যা তাই তো! এবারে তাহলে সত্যিই প্রিয়জনের আসর থেকে বিদায় নিতে হবে। বন্ধুরা চিঠি লিখে ইমেইল করে এবং অনুষ্ঠান শুনে যারা আমাদের প্রতিদিন সহায়তা করছেন তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আগামী আসারেও আপনাদের সবার সঙ্গ পাবো। শুধু তাই নয় এই ফাঁকে নতুন নতুন চিঠি পাঠাবেন, রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান নিয়ে সমালোচনা এবং মন্তব্য করবেন এ কামনা করে আজ এখানেই বিদায় চাইছি।