উত্তরা নিউজ উত্তরা নিউজ
অনলাইন রিপোর্ট


বিশ্বব্যাপী মুসলিম নিধন বন্ধে বিশ্ব মুসলিমদের ঐক্যের বিকল্প নেই!






বর্তমান সময়ে বিশ্ব মুসলিমদের ঐক্যের বিকল্প নেই,বিশ্বব্যাপী আজ মুসলমান নির্যাতিত, নিপেড়িত, মুসলমান আজ তাদের নৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, মুসলমান আজ নির্ভয়ে কথা বলতে পারেনা, মুসলমান আজ মুসলমান রাষ্ট্রে তাদের বির্ভয়ে কথা বলার অধিকার পাচ্ছে না,মুসলমান আজ পদেপদে হয়রানির শিকার হচ্ছে,এমনতা অবস্থায় আমাদের ঐক্যের বিকল্প নেই। মিয়ানমার মুসলিম নিধর! রাজা বায়িন্নাউং (১৫৫০-১৫৮৯) এর আমলে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পায় এবং বৌদ্ধরা মুসলিমদের হত্যা করে। ১৫৫৯ সালে ব্যাগো দখলের পর বৌদ্ধ রাজা হালাল মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করে। ধর্মের নামে প্রাণীহত্যাকে বর্বোরচিত ঘোষণা করে তিনি ইদ উল আযহা পালন নিষিদ্ধ করেন। তার প্রজাদেরকে তিনি জোরপূর্বক বৌদ্ধ ধর্মের বাণী শুনতে বাধ্য করতেন এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করতেন।

১৮ শতকে রাজা আলাউঙ্গাপায়া মুসলমানদের জন্য হালাল খাবার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ১৯৬২ সালে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মাধ্যমে সেনাপতি নে উইন ক্ষমতায় গেলে মায়ানমারে মুসলমানদের অবস্থা করুণ হয়ে পড়ে। মুসলমানদেরকে সেনাবাহিনী থেকে বিতাড়িত করা হয়।এবং সামাজিকভাবে বিভিন্ন সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়। রোহিঙ্গারা পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে পালিয়ে যেতে শুরু করে। ১৯৭৮ সালে আরাকানে কিং ড্রাগন অপারেশনের সময় ২০০,০০০ এবং ১৯৯১ সালে ২৫০,০০০ রোহিংগা মুসলিম বাংলাদেশে শরনার্থী হিসেবে স্বদেশ ছেড়ে পালিয়ে আসে। যখন থেকে শুনেছি পুনরায় আবার মিয়ানমারের সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতিত হয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আবার আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশে অবস্থান করেছে।

ঠিক যথাসময়ই অসহায় মজলুম রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে ছুটে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রীয় প্রধান,সাংবাদিক,সামাজিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, ইসলামী অনেক সংগঠন, আলেম ওলামা,পীর, ওলি আওলিয়া ও সর্বজনিন তাদের মাঝে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।এখনো চলছে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর, অত্যাচার, জুলুম, হত্যা,নির্যাতন, ধর্ষণ এবং অমানবিক কর্মকাণ্ড। মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে সেটাও এখনো কোন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

এক কথায় বলা যায় এখানেও তাদের সাথে বেইমানি করা হয়েছে,অতএব এখনি সময় বিশ্ব মুসলিম ঐক্যবদ্ধ হয়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে রোহিঙ্গাদের পূর্ণ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার যা যা দরকার আমাদের তাই করতে হবে,তাদের আভাস স্থলে পুনরায় আবার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। জেরুজালেম মুসলিম নিধন! মুসলমানদের প্রথম কেবলা জেরুজালেমকে ইসলাম ও মুসলমানদের দুশমন ট্রাম্প কর্তৃক বিশ্ব সন্ত্রসী রাষ্ট্র ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি ঘোষণা প্রদানের সিদ্ধান্ত গোটা মুসলিম উম্মাহ বিক্ষুব্ধ ও মর্মাহত করেছে।

১৭০ কোটি মুসলমানের বুকে এক ফোঁটা তাজা রক্ত অবশিষ্ট থাকতে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না। বিশ্ব বিতর্কিত ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইয়াহুদী সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদী ক্ষোভ প্রকাশ করেন গোটা বিশ্ব। উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রগুলো। চীনের মুসলিম নিধন! ১৯৩৬ সালের জনসংখ্যার পরিসংখ্যাণ অনুযায়ী চীনের কুয়োমিংতাং প্রজাতন্ত্রে মুসলিমদের সংখ্যা ছিলো ৪ কোটি ৮১ লাখ। মাওসেতুংয়ের নীতির পর এই সংখ্যা কমে দাড়ায় ১ কোটি। দৃশ্যত এখানকার ৩ কোটি ৮০ লাখ মুসলিম কোথায় উধাও হয়ে যায় সে ব্যাপারে সরকারি ব্যাখ্যা কখনই দেওয়া হয়নি।

চীনের মুসলিম নিধনে চীন সরকার বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে।প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাসে চীনের মুসলমানদের উপর নির্যাতন,নিপীড়ন,জুলুম,অত্যাচার এবং রোজা পালনে মুসলমানদেরকে বাবা প্রধানসহ অত্যাচারের স্টিমরোলার চালানো হয়েছে তাদের উপর। ফিলিস্তিন মুসলিম নিধন* ১৯৮২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮ টার মধ্যে লেবানিয় খ্রিস্টান মিলিশিয়া গ্রুপ লেবাননের বৈরুতে অবস্থিত সাবরা এলাকায় এবং পার্শ্ববর্তী শাতিলা শরণার্থী ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ৭৬২ জন এবং ৩৫০০ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করে।এদের অধিকাংশই ছিলো ফিলিস্তিনি এবং লেবানিয় শিয়া মতাবলম্বী। ইসলামী শাসনব্যবস্থা!

ইসলামী শাসনব্যবস্থা না থাকায় বাংলাদেশ সহ বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস,চাঁদাবাজ,ধর্ষণ, নারি ও শিশু নির্যাতন এবং দূর্নীতির মতো বিষাক্ত কর্মকাণ্ড আইয়ামে জাহেলিয়াতকেও হার মানিয়েছে। ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষার অভাব, অর্থের প্রতি অতি লোভ লালসা, নৈতিক মূল্যবোধের অভাব, সামাজিক-অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অস্থিরতা, চরিত্র বিধ্বংশী অপসংস্কৃতি আমদানি, মাদকা শক্তি এবং প্রভাবশালীদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি না হওয়ায় সমাজ ও রাষ্ট্রকে ক্রমেই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান করে হিংসা ও শান্তির সমাজ বিনির্মাণে আল্লাহ ভীরুর লোকের নেতৃত্বে কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।অতএব, সকল ধরণের হিংসা,হানাহানি দূর করে ঐক্যের পথে এগিয়ে যেতে হবে। *সমাজের আলেম ওলামা,পীর,আওলিয়া, বুজুর্গ, সমাজসেবী, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ,জাতির বিবেক সাংবাদিক ও সমাজের ভালো মানুষদের দিয়ে তাকিয়ে আছে ঘোটা মুসলিম বিশ্ব,আমাদেরকে এখনি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে,আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সঠিক পথে চলার তৌফিক জানিয়ে আজকের মতো এখানেই শেষ করলাম।

আল্লাহ হাফেজ।

লেখক- মুহাম্মাদ পারভেজ আটিয়া,তরুণ সাংবাদিক জাতীয় সাপ্তাহিক উত্তরা নিউজ।