বিল্ডিং তৈরির অভিজ্ঞতা নিতে বিদেশ যাবেন ১০ কর্মকর্তা


» Md. Neamul Hasan Neaz | | সর্বশেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ - ১০:৪৪:৩৫ পূর্বাহ্ন

প্রকল্প মানেই যেন বিদেশ সফরের মওকা। অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে বিনোদনের সুযোগ। এমনই একটি প্রকল্প হল ‘মহিলা প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট টাঙ্গাইলের সম্প্রসারণ সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্প’। ভবন নির্মাণ সম্পর্কিত এ প্রকল্পে ১০ জন কর্মকর্তার বিদেশ সফরের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তাদের প্রত্যেকের পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ লাখ করে ৭০ লাখ টাকা। এ প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করেছে পরিকল্পনা কমিশন। সেই সঙ্গে প্রকল্প থেকে এ খাত বাদ দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছে সংস্থাটি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১১৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, আমরা অহেতুক বিদেশ সফরের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়েছি। তারপরও কোনো কোনো প্রকল্পে এ রকম প্রস্তাব পাওয়া যাচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা পিইসি সভায় এসব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাদ দেয়া বা কমানোর ঘটনাও ঘটছে। তবে আমার কাছে এমন প্রস্তাব এলে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখি। বিল্ডিং নির্মাণ সংক্রান্ত এ প্রকল্পের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলব।

সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে চলতি বছর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)।

প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরের এডিপির বরাদ্দহীন নতুন প্রকল্পের অগ্রাধিকার তালিকায় (উচ্চ, মধ্যম, নিম্ন) নিম্ন স্থানে রয়েছে। প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে- টাঙ্গাইল জেলার দেওলা সদর উপজেলায় অবস্থিত মহিলা প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট সম্প্রসারণ করা। এছাড়া সংস্কার ও আধুনিকায়নও করা।

এজন্য একটি ১২ তলা নতুন মাল্টিপারপাস ভবন ও একটি ১২ তলা হেস্টেল ভবন নির্মাণ করা হবে। সেই সঙ্গে একটি দু’তলা ডিসপ্লে সেন্টার কাম সেলস সেন্টার, একটি ছয়তলা কোয়ার্টার ভবনসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো তৈরি করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামোগুলোর মেরামত ও সংস্কার করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পের আওতায় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য শিক্ষা সফরে ১০ জন কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এজন্য ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। এ ধরনের নির্মাণধর্মী একটি প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য ১০ জন কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণ যৌক্তিক মনে হয় না।

এ অংশটি বাদ দেয়া যেতে পারে। আরও বলা হয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) ১২ জন জনবলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন প্রেষণে ও ১১ জন অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকবে।

কিন্তু এজন্য অর্থ বিভাগের জনবল নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশ সংযুক্ত করা হয়নি। এছাড়া প্রকল্প প্রস্তাবে পরামর্শক সেবা খাতে ২ কোটি ২ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে পরামর্শকের ধরন, পরিমাণ ও কার্যপরিধি উল্লেখ নেই।

পরিকল্পনা কমিশন মনে করছে, এই প্রকল্প প্রস্তাবে নানা অসঙ্গতি রয়েছে। কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি তিনটি অর্থবছরে সম্পাদনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিপিপির ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মাণকাজের বড় অংশ প্রথম অর্থবছরের মাঝামাঝি শুরু হয়ে তৃতীয় অর্থবছরের মাঝামাঝি শেষ করার জন্য নির্ধারিত রয়েছে।

কিন্তু নির্মাণকাজের জন্য অধিকাংশ অর্থ অর্থাৎ ৮৮ কোটি ৭ লাখ টাকা প্রথম অর্থবছরেই চাওয়া হয়েছে, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৮৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাছাড়া মাত্র দুই বছরে চারটি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত বলে প্রতীয়মান হয় না।

প্রকল্পের আওতায় ডিপিপিতে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে। সেটি বিআরডিবি ও টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও টাঙ্গাইল মহিলা প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের উপপরিচালকের স্বাক্ষরের সঙ্গে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই।

সম্ভাব্যতা প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত বহুতল ভবনগুলোর কারিগরি বিষয়ে কোনো আলোকপাত করা হয়নি। এমন নির্মাণধর্মী একটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সরকারের উপযুক্ত কোনো প্রকৌশল সংস্থার মাধ্যমে করা প্রয়োজন।

সেই সম্ভাব্যতা প্রতিবেদনের আলোকে গণপূর্ত অধিদফতরের মাধ্যমেই সুপারিশকৃত অবকাঠামোর ডিটেইল ডিজাইন ও এস্টিমেট প্রণয়ন সমীচীন হবে। প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যয় থোক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ডিপিপিতে থোক হিসেবে কোনো অঙ্গের ব্যয় প্রাক্কলন করা যাবে না। ডিপিপির লগফ্রেম যথাযথ হয়নি।

পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, প্রকল্পটির ওপর গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর পল্লী উন্নয় ও সমবায় বিভাগে যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সব নির্মাণকাজ গণপূর্ত অধিদফতরের প্রকৌশলীদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রকল্পের নির্মাণকাজ ডিপোজিট ওয়ার্ক হিসেবে গণপূর্ত অধিদফতরের প্রকৌশলীদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পের সহযোগী বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে গণপূর্ত অধিদফতরকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সেই সঙ্গে প্রস্তাবিত কাজগুলোর দরপত্র আহ্বান, দরপত্র মূল্যায়ন, চুক্তি ইত্যাদি গণপূর্ত অধিদফতরের মাধ্যমে করতে হবে। সে অনুযায়ী ক্রয় পকিল্পনা পুনর্গঠন করতে হবে।