বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার প্রাচীন পানি সেচের যন্ত্র  দোন-সেঁউতি


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২০ - ০৫:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন

এমরান মাহমুদ প্রত্যয়- বাংলাদেশের উত্তর জনপদের মধ্যে উন্নতম জেলা নওগাঁ ,আর এ জেলা ১১টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। আর গ্রামের সংখ্যা ২৭৭৯ টি, তাই আধুনিক  এই যুগে গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীনন ঐতিহ্য কৃষিযন্ত্র দোন-সেঁউতি।
বিজ্ঞান-প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতায় প্রতিটি শাখায় আধুনিকায়নের ফলে যন্ত্র সভ্যতার যাঁতাকলে বিলুপ্ত এসব কৃষিযন্ত্র। জানা যায়, আগেকার দিনে জমিতে পানি সেচের ব্যবস্থা জন্য ব্যবহার করা হতো টিন বা বাঁশের তৈরি সেঁউতি ও কাঠের দোন। স্থানীয়রা সেঁউতিকে পানি সেচের হেইত ও দোনকে দোংগা বলে জানে। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি আবিস্কারের ফলে দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে কাঠের দোন ও টিনের সেউতি সহ অন্যান্য চিরচেনা কৃষি উপকরন সামগ্রী।
এক সময় গ্রাম বাংলার কৃষিতে সেচযন্ত্র হিসেবে টিন বা বাঁশের তৈরি সেউতি ও কাঠের দোনের ব্যাপক চাহিদা ছিল। টিন বা বাঁশের চাটাই দিয়ে তৈরি সেঁউতি দিয়ে খাল বা নিচু জমি হতে উপরে পানি সিঞ্চন করা হতো। আর উচু নিচু জমিতে পানি সেচ দিতে সেচযন্ত্র কাঠের দোন ছিল অতুলনীয়। গ্রামবাংলার কৃষকেরা আদিকাল থেকেই চিন্তা চেতনার ফসল হিসেবে আবিস্কার করেছিল এ কাঠের দোন। আম, কাঁঠাল জাতীয় গাছের কাঠের মাঝের অংশের কাঠ কেটে নিয়ে তার মাঝখানের কাঠের ড্রেন তৈরি করে পানি সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব। এতে করে পানি সেচ দিতে শ্রমিক ছাড়া কোন প্রকার খরচ হয়না। তাছাড়া এটি সহজে বহনীয়।
দোনে সেচ দেওয়া খুব মজার কাজ, একটি বাঁশের শক্ত খুঁটি মাটিতে পুঁতে তার সাথে লম্বা অন্যএকটি বাঁশ বেঁধে এক অংশে দোনের মাথা অন্য অংশে মাটির ভরা (ওজন) তুলে দিয়ে পানিতে চুবিয়ে তুললে এক সাথে অনেক পানি উঠে আসে এভাবে অনবরত পানি সেচ দিলে দ্রুত সেচের কাজ হয়। আত্রাই উপজেলার সিংসাড়া কছির উদ্দিন দেওয়ান মেমোরিয়াল হাইস্কুল এন্ড কলেজের  ৮ম শ্রেণীর ছাত্র মোঃ নাইম হোসেন জানায়, সে কখনো দোন বা সেঁউতি দেখেনি। তবে বই পড়ে জানতে পেরেছে এসব কৃষি কাজে ব্যবহার করা হয়।
আত্রাই উপজেলার কাশিয়াবাড়ী  গ্রামের প্রবীণ কৃষক জব্বার প্রামাণিক(৫২) জানান, আমি বাপ-দাদাদের দোন ও সেঁউতি ব্যবহার করে সেচকাজ করতে দেখেছি,এবং আমি নিজে ও ব্যাবহার করেছি।এখন মেশিনের যুগ। এজন্য শখের বশেএখন আর সেঁউতি চোখে ও পড়ে না। দমদমা  গ্রামের প্রবীণ মোঃ মজিবর (৬০) জানান, আগে আমরা দোন-সেঁউতি দিয়েই সেচকার্য চালাতাম। এখন আধুনিক অনেক যন্ত্রপাতি আসায় এগুলোর ব্যবহার হয় না।
সচেতন মহলের মতে, আধুনিক যন্ত্রসভ্যতা আমাদের জন্য আশীর্বাদ হলেও গ্রামীণ ঐতিহ্যের ধারক বাহক আমাদের পূর্ব পুরুষের তৈরি কৃষিন্ত্রপাতি সভ্য সমাজ ও অনাগত জাতীর চেনার জন্য চালু রাখা প্রয়োজন।