বিবর্ণ ঈদ! মানবিক সংকটে দেশ, নেই ঈদের সেই আমেজ!


» মোঃ সবুর মিয়া উত্তরা নিউজ | | সর্বশেষ আপডেট: ১৫ অগাস্ট ২০১৯ - ০৮:১৪:০৩ অপরাহ্ন

ঈদ মানেই এক আনন্দঘন মুহূর্ত,বর্ণিল সাজে সুসজ্জিত প্রতিটি বাঙালি মুসলমানের সাম্রাজ্য। বাঙালিরা উৎসব প্রবন জাতি,ঈদে বাড়তি উৎসবের আমেজ দেখা যায়। এবারের আসন্ন ঈদে এদেশের মানুষ স্বাভাবিকভাবে অনুভবে পাচ্ছে না সেই বর্ণিল আমেজ।( Eid is a joyous moment, every Bengali Muslim empire dressed in colorful colors. The Bengali festival is the oldest nation, Eid is seen in the festival. This coming Eid this year, people of this country are naturally not feeling that color.)

বাংলাদেশ চরম এক বাস্তব সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে, একদিকে বন্যায় হাবুডুবু খাচ্ছে মানুষ, বন্যা দুর্গত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন রোগ বালাই, দেখা দিয়েছে খাদ্য ঘাটতি, মানুষ হয়ে পড়েছে চরম অসহায়।

বেকার সহায়-সম্বলহীন,গৃহহীন মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে মানুষের মুখে মুখে আতঙ্কের নাম মশার কামড়ে ডেঙ্গুর ভয়াবহ দৃশ্যের বাস্তবতা,মশা জাতীয় অভিশাপে পরিণত হয়েছে, ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশের মানুষ কেউ নিজের বুকে হাত দিয়ে সাহস করে বলতে পারবে না, মশা দ্বারা আক্রান্তের শিকার হবে না। মশা চিনে না কোন দল-গোষ্ঠী, সাদা বা কালো।

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষের মধ্যে শিশু-কিশোরদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। স্কুলগামি শিশু-কিশোররা তাদের ক্লাস টাইমে অর্থাৎ সকালের দিকে মশার কামড়ের বেশি শিকার হচ্ছে।কর্তৃপক্ষ আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে মশা নির্মূল করার জন্য কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছে সময়মত পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে মশার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে,এটা নিঃসন্দেহে কর্তৃপক্ষের চরম ব্যর্থতার ফলাফল। (The authorities are trying to eradicate mosquitoes, but experts say the mosquitoes have spread widely due to timely action, which is undoubtedly the result of the authorities’ failure.) প্রতিদিন হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে,হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ঠাঁই নাই অনেকে বেড না পেয়ে ফ্লোরে কোনরকমে হাসপাতলে অবস্থান করছে। ডাক্তাররা অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু রোগীর তুলনায় ডাক্তার-নার্স সহ জনবলের যথেষ্ট সংকট আছে।

সামনে আসন্ন ঈদকে ঘিরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরো বৃদ্ধি পাবে এমনটাই আশা করা হচ্ছে। কুরবানীর যে সকল বজ্র আছে সেগুলো যদি সঠিক উপায় ও আধুনিক পন্থা অনুসরণ করে অত্যন্ত দ্রুত বেগে অপসারণ করা না যায় তাহলে সুনিশ্চিত ভাবে বলা যায় ঈদের্ মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে মানুষ ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যাচ্ছে ভাইরাস বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়বে।

বাংলাদেশের মানুষ উৎসবপ্রবন জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে পরিচিত, আমরা বিভিন্ন সময় ঈদের উৎসবে মানুষের মধ্যে যে উৎসাহ উদ্দীপনা-উদ্দীপনা, আনন্দ-উল্লাস দেখেছি এবারের ঈদে তার ছিটেফোঁটা দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে ভীতি ও চাপা ক্ষোভ। কোন কোন ক্ষেত্রে মানুষের কণ্ঠ রোধ হয়ে যাচ্ছে।মানুষ কোন ভঙ্গিমায় বা কোন ভাষায় প্রকাশ ঘটাবে তাদের ক্ষোভ ও অভিযোগ! টেলিভিশনের পর্দায় চোখ গেলেই দেখা যাচ্ছে কোন না কোন স্থানে ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষের মৃত্যুর খবর। (In some cases, the voice of the people is being restrained. There is news of the death of people with dengue in the eyes of the television screen.)

মশা নির্মূল করার জন্য বাংলার মানুষ যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানায়,সত্যিকারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন, সেই সাথে যারা অসুস্থ তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন তা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ দিকে অগ্রসর হবে। মহান আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন; আমিন।।