বায়ু দূষণ থেকে রক্ষা পেতে রাজধানীতে লিভিং আর্টের ব্যতিক্রমী কর্মসূচি


» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০১৯ - ০৮:২১:২৭ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: বর্তমান সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর হিসেবে ঢাকার নাম উঠে আসায় নগরবাসীকে বায়ু দূষণজনিত রোগ এবং সমস্যা হতে সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে রাজধানীর উত্তরায় কর্মসূচি পালন করেছে দেশের অন্যতম প্রধান বন ও পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন ‘লিভিং আর্ট’।

    

৩০ নভেম্বর (শনিবার) সকাল ১১টায় উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এ কর্মসূচির যাত্রা শুরু করেন সংগঠনটি। এ সময় যাত্রী, পথচারী ও বিভিন্ন স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়। একই সাথে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপনের গুরুত্ব অপরিসীম বিধায় লিভিং আর্টের পক্ষ থেকে পথচারীদের মাঝে ফলজ ও ভেষজ উদ্ভিদ বিতরণ করা হয়। নানা বয়সী মানুষের মাঝে উক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন লিভিং আর্টের প্রতিষ্ঠাতা কে.এম সবুজ।

এ সময় উত্তরা নিউজে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, “বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর গুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ঢাকা ও গাজীপুর অন্যতম। তাই আমাদের যার যার অবস্থান থেকে দূষণের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে।” তিনি বলেন, “আমি ‘লিভিং আর্ট’এর উদ্যোগে ব্যক্তিগত ভাবে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বিনামূল্যে একটি মাস্ক ও বাড়ির আঙ্গিনা কিংবা ছাদে রোপনের জন্য একটি গাছ তুলে দিচ্ছি। এখানে মাস্ক ও গাছ প্রতিরোধ ও প্রতিকারক হিসেবে কাজ করবে।” কে.এম সবুজ আরও বলেন, “আপনারা জানেন যে, বায়ু দূষণের ফলে সমাজে নানা রোগ ব্যাধির সংক্রমণ হচ্ছে। ফলে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের সমস্যা, হাঁপানি, শিশু, বৃদ্ধ ও নারী এমন কি গর্ভবতী নারীরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। ঝুঁকি মোকাবেলায় মূলত আমরা লিভিং আর্ট প্রচেষ্টা করছি।”

এদিকে, সংগঠনটির উক্ত সচেতনতামূলক কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা। মো. হাবিবুর রহমান হাবিব নামের এক পথচারী জানায়, “ঢাকা শহরে চলাচলের জন্য মাস্কের ব্যবহার খুবই জরুরী। কেননা, যেভাবে বাতাসে ধুলো ছড়িয়ে পড়েছে এতে মাস্ক ছাড়া রাস্তায় বের হওয়া একদমই ঠিক না। তারা (লিভিং আর্ট) আমাকে বিনামূল্যে মাস্ক দিয়ে যেভাবে এটির ব্যবহারে অনুপ্রাণিত করেছে, এখন থেকে নিয়মিত মাস্ক ব্যবহারের চেষ্টা করব।”

লিভিং আর্ট কর্তৃক ভ্রামমান্য মাস্ক ও গাছের চারা হাতে পেয়ে রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল এন্ড কলেজে পড়ুয়া নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসা বলেন, “আসলে গাছ আমাদেরকে অনেক ক্ষতিকর জিনিস থেকে প্রোটেক্ট করে। সব থেকে বেশি যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি। মানুষ যদি সচেতন হয় তাহলে অবশ্যই বায়ু দূষণ রোধ করা যাবে। কারণ বায়ুদূষণ তো হচ্ছে না, আমরা তৈরি করছি। মানুষের সচেতনতা ফলে এসব পদক্ষেপ নেয়া যাবে। যদি এই পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে নেয়া যায় তাহলে বায়ু দূষণ রোধ করা যাবে। আর তার মধ্যে সর্ব উত্তম পদক্ষেপ হচ্ছে গাছ লাগানো।”

ছোট্ট স্কুল শিক্ষার্থীকে নিয়ে আসা এক অভিভাবক লিভিং আর্টের কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, “নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ। আমি নিজেও গাছ নিয়েছি। অবশ্যই এই গাছটি আমার বেলকুনিতে অন্যান্য গাছের সাথে রোপন করবো।” এছাড়াও লিভিং আর্টের উক্ত কর্মসূচির বেশ প্রশংসা জানিয়েছে অনেকেই।

লিভিং আর্ট কর্তৃক উক্ত ভ্রামমান্য মাস্ক বিতরণ ও গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রমটিতে সহযোগিতা করেছেন ঢাকা উত্তর ট্রাফিক বিভাগ। শনিবার সকালে কর্মসূচিটি উত্তরা হাউজ বিল্ডিং থেকে শুরু হয়ে রাউজক উত্তরা মডেল কলেজ, নওয়াব হাবিবুল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজ ও উত্তরা হাই স্কুল হয়ে বিকাল ৩ টায় মিরপুর-১০ এ গিয়ে শেষ হয়। এ সময় প্রায় তিন হাজার মাস্ক ও তিন হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়।