বামপন্থী ছাত্রমৈত্রীর সাম্প্রদায়িক আচরণ বনাম নিরপেক্ষ পর্যালোচনা


» উত্তরা নিউজ ডেস্ক জি.এম.টি | | সর্বশেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২০ - ০৯:১৭:০৪ পূর্বাহ্ন

বামপন্থীদের একটাই নীতি তারা ইসলাম বিরোধী। এটা বাংলাদেশের ৯৫% লোক বিশ্বাস করে।তারা ইসলামকে সাম্পদায়িক বলে বিষোদগার করে কিন্তু তারা অঘোষিতভাবে সাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করে তা তাদের আচার আচরণে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত।বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী নামের কোন সংগঠন আছে তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নিবিড়ভাবে যারা জড়িত তারা ছাড়া বাকিরা তাদের নাম শুনছে বলে মনে হয়না।এদের কাছে ইসলামই এলার্জির প্রধান কারণ।

১৯৮০ সালে ৬ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় জাতীয় ছাত্র আন্দোলন,পূর্ব বাংলা ছাত্র ইউনিয়ন,জাতীয় ছাত্র দলের দুটি কেন্দ্রের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী নামের সংগঠনটি।মুখরোচক স্লোগান আর পচা আদর্শের বাসী বুলি আউড়িয়ে কোন রকম নাম সর্বস্ব ব্যানার নিয়ে টিকে আছে। এসব বামপন্থীদের রাজনীতির চর্চা হয় কিছু বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুটা হৈচৈ তারা করে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে তাও চোখে পড়েনা।ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠন তাদের কাছে এলার্জি।অসম্প্রাদায়িক চেতনার নামে তারা গলাবাজি করলেও প্রকৃতপক্ষে তারা যে চরম সাম্প্রদায়িক তা তাদের উগ্র আচরণে প্রমাণিত হচ্ছে।

গত পরশু “রাষ্ট্রচিন্তা” নামক একটি সংগঠনের উদ্যোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ এবং গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিকদের মুক্তির লক্ষ্যে ঢাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।সেই মানববন্ধন চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ছাত্র সংগঠন ইশা ছাত্র আন্দোলন একাত্মতা পোষণ করে উক্ত মানববন্ধনে যোগদান করেন।সেই মানববন্ধনে যোগ দেন বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী সংগঠনের কয়েকজন নেতা।তারা ইশা ছাত্র আন্দোলন নেতাদের উপস্থিতি দেখে বিক্ষুব্ধ হয়।

তারা মানববন্ধন থেকে চলে যেতে বাধ্য হয় বলেও জানা গেছে। সেদিন সন্ধ্যায় ছাত্রমৈত্রীর পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়া হল রাষ্ট্রচিন্তার মানববন্ধনে ইশা ছাত্র আন্দোলনের মত মৌলবাদীর সাম্প্রাদায়িক ছাত্র সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতি তাদের বিব্রত করেছে।অথচ ইশা ছাত্র আন্দোলন এর মাতৃসংগঠন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল।দেশের জাতীয় রাজনীতিতে দলটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।দিন দিন সর্বমহলে প্রাসঙ্গিক হচ্ছে দলটি।

মিডিয়ার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ স্বীকারোক্তি অনুযায়ী দলটি এখন রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।তারই ছাত্র সংগঠন ইশা ছাত্র আন্দোলন।স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা পত্রে উল্লেখিত- সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার স্লোগানে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুস্থ ও আদর্শিক রাজনীতির চর্চা করছে দলটি।দলটি যেহেতু ইসলাম,দেশ,মানবতা ও স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে রাজনীতি করছে তাই তাদের বিস্তৃতিও তৃণমূল পর্যায়ে।কওমী, আলিয়া( সরকারী মাদরাসা), স্কুল, কলেজ ইউনিভার্সিটি তথা ত্রি ধারার শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাজনীতি করছে ইশা ছাত্র আন্দোলন।তা স্বত্ত্বেও বামপন্থীদের এমন সাম্পদায়িক আচরণ মুসলিম দেশ হিসেবে আমাদের লজ্জায় ফেলে দেয়।

এর আগে ইসলামী ছাত্র শিবিরকে তারা জঙ্গি ও যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন বলে কোণঠাসা করেছে।তাদের মূল টার্গেট হলো ইসলাম।যে দলের নামের আগে ইসলাম থাকবে তাদের প্রতি তারা সাম্প্রদায়িক আচরণ করে।ইশা ছাত্র আন্দোলন ছাত্রলীগ ও ছাত্র দলের পরে সবচেয়ে গণমুখী, আদর্শিক ছাত্র সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করলে ভুল হবেনা।২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনের সময় তারা ইশা ছাত্র আন্দোলন কে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে বহু ষড়যন্ত্র করেও ব্যর্থ হয়।সকল বাধা উপেক্ষা করে ইশা ছাত্র আন্দোলন ডাকসু নির্বাচনে প্রতিদন্ধিতা করেছিল।

ছাত্রমৈত্রীর অর্নব নামের এক নেতা সারা দেশে ইশা ছাত্র আন্দোলন কে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।আমার জানা মতে, একটি ইউনিয়নের ইশা ছাত্র আন্দোলনের যে সংখক কর্মী সদস্য আছে ছাত্রমৈত্রীর পুরো দেশেও আছে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ আছে। তারা কতটা উগ্র ও সাম্প্রদায়িক তা তাদের সেদিনের বিবৃতিটাই প্রমাণ করে।এসব উগ্র ও সাম্পদায়িক আচরণের ফলে তাদের রাজনীতির পচা আদর্শ আজ ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।ছাত্রমৈত্রীর স্লোগান হলো” শ্রমজীবী জনতার সাথে একাত্ম হও।এই দুর্যোগে এই বামপন্থীদের কোন ভুমিকা আছে কি? নিশ্চয়ই নেই।কারণ তারা মূখরোচক স্লোগানে বিশ্বাসী কাজে নয়।এরা নাকি বিপ্লবী! সম্মূখে ১০ মিনিট টিকে থাকার সেই সক্ষমতা তাদের নেই।তবে তারা পশ্চাতে ষড়যন্ত্রের বীজ বপন করবে।

এই মহা দুর্যোগে বামপন্থীদের কোন ভুমিকা না থাকলেও ইশা ছাত্র আন্দোলন অসহায় গরিব কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছে।শুধু তাই নয়,দেশব্যাপি তারা কৃষকের ধান কেটে বাড়িতে পৌছে দিচ্ছে।অথচ বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী তাদের স্লোগানের পক্ষে কোন ভুমিকা রাখেনি।তাহলে প্রমাণিত তাদের স্লোগান একটি মিথ্যা ও মূখরোচক বাণী ছাড়া কিছুই না। আদর্শ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার আড়ালে দেশে উগ্রতার জন্ম দিচ্ছে।বামপন্থীদের এমন উগ্র ও সাম্প্রদায়িক আচরণের কারণে দিন দিন তাদের রাজনৈতিক ময়দান সংকুচিত হচ্ছে।তারা উগ্র,সাম্পদায়িক ও পশ্চাৎপদ।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী