বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ-জাপানের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ - ১২:৩৬:৩৫ অপরাহ্ন

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ‌্যে বাংলাদেশ-জাপান জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বুধবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকির সাথে মতবিনিময় শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এই তথ‌্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার। জাইকাসহ বেশ কিছু সংস্থা বাংলাদেশে সুনামের সাথে কাজ করছে। জাপানের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রচুর সম্ভাবনা আছে। বাংলাদেশ-জাপান জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে, তা সমাধান করা সম্ভব।’

বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘জাপান বাংলাদেশকে ডিউটি ও কোটা ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা প্রদান করছে। জাপানের প্রতি বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশে জাপানের ব্যবসা-বাণিজ্যও আছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কিছুদিনের মধ্যে জাপান সফর করবেন। এ সময় বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা কমিশন এবং জাপানের জাপান ফেয়ার ট্রেড কমিশন এর মধ্যে একটি এমওইউ স্বাক্ষরিত হবার কথা রয়েছে।

‘এছাড়া, উভয় দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য জাপানের জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেটরো) এবং বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী করা হচ্ছে। আশা করা যায়, আগামী দিনগুলোকে বাংলাদেশের সাথে জাপানের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অনেক বৃদ্ধি পাবে।”

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে এসেছে। জাপানেরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে। গত বছর বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে জাপান থেকে। জাপানের সাথে বাংলাদেশে বাণিজ্যও বাড়ছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাটজাত পণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের অনেক চাহিদা রয়েছে জাপানে।

‘গত ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১১৩১.৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং আমদানি ছিল ১৮৬৯.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছর রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়ে ১,৩৬৫.৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। একই সময়ে আমদানি হয়েছে ১,৮৫২.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য।”

এসময় জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ ইজি অফ ডুয়িং বিজনেস র‌্যাংকিং-এ এগিয়ে যাওয়ায় জাপান খুশি। জাপান আশা করে বাংলাদেশের জিডিপি ডবল ডিজিটে উন্নীত হবে। জাপান বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। জাপানের অনেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ চাইলে জাপানের সাথে এফটিএ করতে পারে। জাপানে তৈরি পোশাক ও ওষুধ রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। বাংলাদেশ হালকা যন্ত্রপাতি উৎপাদনে বেশ ভালো করছে, জাপান এখাতে সহায়তা দিতে আগ্রহী।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।