বাজেট বরাদ্দে স্টার্টআপের ফান্ড সংকট কাটার আশা


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০১৯ - ১১:০৯:২০ পূর্বাহ্ন

২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সামনে জনমিতিক লভ্যাংশের পূর্ণ সম্ভাবনাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। যুবকদের মধ্যে সব ধরনের ব্যবসায় উদ্যোগ (স্টার্টআপ) সৃষ্টির জন্য বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে। দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ যুবসমাজকে সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল এবং উৎপাদনমুখী শক্তিতে রূপান্তরের জন্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’

দেশে ‘উবার’-এর মডেলে ‘চলো’ নামের একটি স্টার্টআপ যাত্রা শুরু করেছিল সিড ফান্ড নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি ও হংকংভিত্তিক কয়েকজন অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর এতে বিনিয়োগ করলেও দীর্ঘ মেয়াদে বড় বিনিয়োগ না আসায় প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন বন্ধ হয়ে যায়। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল পেলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব ছিল বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী দেওয়ান শুভ। তিনি বলেন, ‘দেশের বিনিয়োগকারীরা যতদিন পর্যন্ত স্টার্টআপে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে না আসবেন, ততদিন এই খাত শক্ত কোনও তল খুঁজে পাবে না।’

রাইড শেয়ারভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’ কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে।  এরই মধ্যে তারা ৩ শতাধিক কর্মী ছাঁটাই করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বড় ধরনের বিনিয়োগ না পাওয়ায় ‘পাঠাও’কে এমন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানায়, ‘পাঠাও’ যে বিনিয়োগ পেয়েছে তা শেষের পথে। এ জন্যই ছাঁটাই শুরু হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে চেষ্টা করেও পাঠাও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাজেটে বরাদ্দ দেওয়ায় ধুঁকতে থাকা স্টার্টআপগুলো বিনিয়োগ নিয়ে দাঁড়াতে পারবে। আর বিকাশ লাভ করা স্টার্টআপগুলো তাদের ব্যবসার পরিধি আরও বাড়াতে পারবে। তবে সহজ নীতিমালা তৈরি করার ওপর জোর দেন তারা।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইকুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ভিসিপিয়াব) মহাসচিব ও বিডি ভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত হোসেন বলেন, ‘আমরা এখনও জানি না, এই বাজেট বরাদ্দ কীভাবে ব্যয় করা হবে। তবে এটা একটা ভালো উদ্যোগ। অনেক স্টার্টআপকে এই ফান্ড বড় হতে সহায়তা করবে।’

এখনও এর কোনও নীতিমালা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগে এটা তৈরি করা প্রয়োজন।’ শওকত মনে করেন, এই ফান্ডটা আরেকটু বড় হলে ভালো হতো। তবে শুরু হিসেবে মন্দ নয়।

স্টার্টআপ বিশেষজ্ঞ ও গ্রামীণফোনের হেড অব স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম মিনহাজ আনোয়ার বলেন, “একটা স্টার্টআপে ভালো বিনিয়োগ আনতে ১ হাজার ৮০০ বার মিটিং প্রয়োজন হয়। যারা ফান্ড বরাদ্দ দেবেন তাদের একটি ভালো আইডিয়া বেছে নিতে অন্তত ৩০ হাজার ‘রং আইডিয়া’ নিয়ে কাজ করতে হয়। তাহলে দুই পক্ষই সারভাইব করতে পারবে। সংশ্লিষ্টরা যদি এসব বিষয় মাথায় রেখে বিনিয়োগ করেন বা পান তাহলে স্টার্টআপ টিকে থাকবে এবং ভালো করবে।”

স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান সিন্দাবাদ ডটকমের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জিসান কিংশুক হক বলেন, ‘এটা (বাজেট বরাদ্দ) খুবই আনন্দের খবর। এটা ইএফ (ইকুইটি ফান্ড) মডেলে হতে পারে। সরকার দেশের বিভিন্ন স্টার্টআপে কো-ইনভেস্ট করতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই এটা যেন ঋণ না হয়।’

তিনি মনে করেন, কয়েকটা স্টেজে এই ফান্ড বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। তবে সবার আগে একটা নীতিমালা প্রয়োজন।

জিসান বলেন, ‘সবার আগে একটা কমিটি করা প্রয়োজন। সেই কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের লোকজন থাকবে। তারাই যাচাইবাছাই করে বরাদ্দের জন্য সুপারিশ করবে। এতে করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।’

 

উত্তরা নিউজ-এস,এম,জেড