বাজেট প্রণয়নে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ওপর নির্ভর করতে হবে -ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২০ - ১০:৪০:৩২ পূর্বাহ্ন

করোনায় বিপর্যস্ত বিশ্ব। এর প্রভাব পড়বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশসহ বাংলাদেশেও। আগামী ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে চলছে আনা বিশ্লেষণ। বাজেট প্রণয়নে বৈদেশিক ঋণ এবং অনুদানের ওপর অনেকটা নির্ভর করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান- সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এবারের বাজেট প্রণয়নে বৈদেশিক ঋণ এবং অনুদানের ওপর অনেকটা নির্ভর করতে হবে।  বাজেটের আকার কিছুটা হলেও বড় হতে হবে।  এজন্য অর্থের প্রয়োজন হবে।  সরকারের পক্ষে এই মুহূর্তে কর বাড়ানো সম্ভব নয়।  পাশপাশি রাজস্ব আদায়ে চাপ দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।  কারণ করোনার কারণে  সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যাচ্ছে।  অভ্যন্তরীণ খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে সরকারকে টাকা ছাপাতে হচ্ছে।  এখন পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ভর করছে বৈদেশিক ঋণ বা অনুদান সংগ্রহে সরকার কতটা পারদর্শিতার পরিচয় দিতে পারে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনৈতিক বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, করোনার কারণে সব পরিকল্পনা এলোমেলো হয়ে গেছে।  এই মুহূর্তে বাজেটর জন্য অর্থ সংগ্রহ করা খুবই দুস্কর।  বিশেষ করে অর্থ বছরের শেষের দিকে যখন রাজস্ব আয়ে গতি আসার কথা তখন এ বছর করোনা আক্রান্ত পুরো দেশ।  এ মুহূর্তে করদাতাদের কাছে কর চাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত হবে সেটা দেখার বিষয়।

তিনি বলেন, এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দাতা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। অনেক জায়গা থেকে সাড়া পাওয়া গেছে।  বিশেষ আগে যাদের কাছ থেকে কোন দিন বাজেট সহায়তা পাওয়া যেতো না তাদের কাছেও সহায়তা চাওয়া হচ্ছে।  আশা করা যাচ্ছে অর্থের সংস্থান হয়ে যাবে।

বাজেট ঘাটতি বাড়বে কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এটা বলা যাচ্ছে না।  আমরা বৈদেশিক উৎস থেকে কতটা সংগ্রহ করতে পারবো তার ওপর নির্ভর করছে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে কতটা যোগান দেওয়া সম্ভব হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দাতাদের কাছ থেকে সম্ভাব্য সহায়তা পাওয়া যাবে এমন ধারণা থেকে বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে।   প্রয়োজনীয় ঋণ সহায়তা পেতে বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ, ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি), এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি), জাইকা, এশিয়ান ইনফ্রস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি), চীনভিত্তিক বিনিয়োগ উন্নয়ন ব্যাংক এআইআইবির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।  বেশ কয়েকটি সংস্থার প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস পাওয়া গেছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, এত দিন পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে বাজেট সহায়তা পেয়ে আসছে বাংলাদেশ। এর বাইরে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ‘ব্যালান্স অব পেমেন্ট’-এর ভারসাম্য রক্ষার জন্য ঋণ পাওয়া যায়।  এ অর্থটিও অনেক সময় বাজেট ঘাটতি মেটানোর কাজে ব্যবহার করা হয়।  কিন্তু এবার ব্যতিক্রম হতে যাচ্ছে।  জাইকা ও আইএসডিবির মতো উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আগে কখনো বাংলাদেশ বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়নি। এ দুই সংস্থা প্রকল্পভিত্তিক কাজে অনুদান ও ঋণ দিয়ে থাকে।  কিন্তু এবারই প্রথম অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ দুই সংস্থার কাছেও বাজেট সহায়তা খাতে অর্থ চাওয়া হয়েছে।

এদিকে, আইএসডিবি তার সদস্য দেশগুলোর জন্য কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ২৩০ কোটি ডলারের যে কৌশলগত প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, সেই তহবিল থেকেই বাংলাদেশ অর্থ সহায়তা চেয়েছে।  অর্থমন্ত্রী গত ২৫ এপ্রিল আইএসডিবির প্রেসিডেন্ট ড. বন্দর এম এইচ হাজ্জার সঙ্গে এক টেলিকনফারেন্সে এ সহায়তা চান।

এ বিষয়ে ইআরডির একজন কর্মকর্তা জানান, জাইকা ও আইএসডিবি অর্থসহায়তা দিতে রাজি হয়েছে।  আইএসডিবির পক্ষ থেকে চলমান একটি প্রকল্প থেকে অর্থ স্থানান্তর করে বাজেট সহায়তা খাতে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

করোনা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলার পর থেকেই অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে চলতি ও আগামী অর্থবছরের বাজেটে বাড়তি আর্থিক সহায়তা চেয়ে আসছেন।  এর মধ্যে এআইআইবির (চীনভিত্তিক বিনিয়োগ উন্নয়ন ব্যাংক) কাছে চলতি অর্থবছরে ৫০ কোটি ডলার এবং আগামী দুই অর্থবছরে ৫০ কোটি ডলার ও করোনা মোকাবিলায় ১০ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে। এডিবির কাছে চাওয়া হয়েছে ১০০ কোটি ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ৭০ কোটি ডলার। বিশ্ব ব্যাংকের কাছে চলমান সহায়তার বাইরে ৫০ কোটি ডলার এবং আইএসডিবির কাছে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৫ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে। এ সংস্থাটি ১৯ কোটি ডলার দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 

সূত্র: রাইজিংবিডি