বাঘায় পুকুর খননের কারণে ৩০ হাজার বিঘা জমির ফসল নষ্ট


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২০ - ০৬:১৭:০৩ অপরাহ্ন

রাজশাহীর বাঘা-লালপুর উপজেলার সীমান্তের বসন্তপুর বিলে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধতার কারণে ৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ৩০ হাজার বিঘা জমিতে আবাদ করতে পারছে না। এ বিষয়ে স্থানীয়রা বিভিন্নস্থানে লিখিত অভিযোগ করেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ সকল জমিতে কৃষকরা কোন ফসল ফলাতে না পেরে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

জানা গেছে, বাঘা-লালপুর উপজেলার সীমান্ত বারখাদিয়া, নওটিকা, আরিফপুর, আমোদপুর, খুদে ছয়ঘটি, জোতরাঘব, চন্ডিপুর, আটটিকা, বেরিলাবাড়ি, গন্ডবিল, ভেল্লাবাড়ি, মনিহারপুর, অমরপুর, মির্জাপুর, চকএনায়েত, পাইকপাড়া, দুড়দুড়ি, রাধাকান্তপুর, বড় ছয়ঘটি এলাকার মাঝে ৭ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার বিঘা জমি নিয়ে বস্তনপুর বিল নামে পরিচিত। এই বিলে অপরিকল্পিতভাবে অসংখ্য পুকুর খনন করা হয়েছে। ফলে এ বিলে বিভিন্ন উৎপাদিত ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২-৩ বছর ধরে পুকুর খনননের কারণে এলাকার কৃষকরা ফসল ফলাতে পারছে না। যে সব জমিতে বিগত সময়ে এক বছরে তিন ধরনের ফসল উৎপাদন হতো। বর্তমানে কোন মৌসুমে তা হচ্ছে না। ফলে শতশত কৃষক মানবেতর জীবন যাপন করছে। তবে এ বিলের পানি নিস্কাশন ব্যবস্থার জন্য বাঘা ও লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। তারপরও এ বিলে পুকুর খনন থামছেনা।

খুদে ছয়ঘটি গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান, বারখাদিয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম, জোতরাঘব গ্রামের ইউনিয়ন সদস্য চঞ্চল মাহমুদ জানান, বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন বিলগুলোতে যেভাবে পানি জমে আছে, তা নদীর সাথে ড্রেন করে অতিসত্বর পানি নিস্কাসনের ব্যবস্থা করা দরকার। আর তা না হলে যতটুকু আবাদি জমি রয়েছে, সেটুকু সারা বছর জলাবদ্ধতা হয়ে থাকবে। বিলের পুর্ব দিক দিয়ে পানি প্রবাহিত ড্রেন ছিল। বর্তমানে এ ড্রেনের পাশ দিয়ে অসংখ্য পুকুর খনন করায় স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা হয়েছে। এ বিলে বরেন্দ্র প্রকল্পের পাইব উপড়ে দিয়ে পুকুর খনন চলছে। প্রশাসনকে জানিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না বলে জানান এলাকাবাসী। ৫টি ডিপ রয়েছে, সেগুলোও বন্ধ হয়ে রয়েছে।

বসন্তপুর এলাকার ভুক্তভোগী কৃষক হিরেন্দ্রনাথ প্রামানিক জানান, বসন্তপুর বিলের পানি প্রবাহের কয়েকটি স্থানে অপরিকল্পিত পুকুর খনন করা হয়েছে। এ কারণে পানি প্রবাহিত মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিলে পুকুর খনন করে সেখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে। ফলে এ বিলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ জলাবন্ধতার কারণে আমার ৩০ বছর আগের রোপন করা ৫০টি আম গাছ মরে গেছে।

এ বিষয়ে বাজুবাঘা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফিরোজ আহাম্মেদ রঞ্জু বলেন, বাঘা ও লালপুর সীমান্ত কৃষি প্রধান এলাকা। এ উপজেলায় সব ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। কিছু মানুষ অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ থেকে প্রতিকার করা দরকার।

এ বিষয়ে বসন্ত বিলের পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হিরেন্দ্রনাথ বলেন, ইতিমধ্যেই পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির পক্ষ থেকে পুকুর খননের বিষয়ে প্রশাসনকে অবগত করা হলেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। এই বিলে প্রভাবশালীরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির কারণে শতশত কৃষককে জিম্মি করে বিলের পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করছে। জিম্মি কৃষকদের পক্ষে পানি নামার পথ উম্মুক্ত করে দিতে গেলে পুকুর খননকারীদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হয়।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, এ বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে সমন্বয় সভায় আবারও উপস্থাপনা করে নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিব।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে জলাবদ্ধতায় ফসলি জমি নষ্ঠ হওয়ার খবর পেয়ে এলাকা পরিদর্শন করে কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। তবে এ সমস্যা নিরসন করা খুব কঠিন। প্রকল্পের মাধ্যমে মাটির নিচ দিয়ে ড্রেন করে বিলের জমে থাকা পানি নিস্কাশন করা সম্ভব। তবে এ বিষয়ে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও কৃষি মন্ত্রনালয়কে অবগত করা হয়েছে।