বাঘায় নিম্নমানের কাজ বন্ধ করায় প্রকৌশলীকে মারধর


» Md. Neamul Hasan Neaz | | সর্বশেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২০ - ০৮:৫১:৫৭ অপরাহ্ন

বাঘা উপজেলা প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাঘায় রাস্তায় নিম্নমানের ইট দিয়ে নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে কাজ বন্ধ করতে বলায় উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে   অফিস কক্ষে পেটালেন বাঘা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস সরকারের ছেলে সেলিম আহাম্মেদ।

আজ ১৯জানুয়ারি রবিবার  দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মারধরের এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অর্ধবেলা কলম বিরতি রাখেন উপজেলা প্রকৌশল দফতরের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরে বাঘা উপজেলা প্রকৌশল দফতর থেকে উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় ৩৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫শ’ মিটার সাব-বেইজ রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প বরাদ্দ পান রাজশাহীর “মমো এন্টারপ্রাইজ’’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি কিনে নিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করেন স্থানীয় ঠিকাদার ও বাঘা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস সরকার। আর এটি দেখভাল করেন তার বড় ছেলে সেলিম আহাম্মেদ।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, রাস্তার নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকাবাসি বিষয়টি রবিবার সকালে উপজেলা প্রকৌশলীকে মোবাইল ফোনে অবগত করেন। এর কিছুক্ষণ পর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদ আহাম্মেদ ঘটনাস্থলে যান এবং লেবারদের কাজ করতে বারণ করে অফিসে চলে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুল কুদ্দুস সরকার যেসব প্রকল্পের কাজ করছেন, তার সবগুলোতেই অনিয়ম আর দুর্নীতি করছেন। তার নিম্নমানের কাজে স্থানীয়রা বাধা দিলে তিনি দলীয় প্রভাব খাটান।

এদিকে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদ আহাম্মেদ অফিসে চলে আসার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঠিকাদার আব্দুল কুদ্দুস সরকারের বড় ছেলে সেলিম আহাম্মেদ সেখানে আসেন এবং ফরিদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনার এক পর্যায় সেলিম উপ-সহকারী প্রকৌশালী ফরিদ আহাদম্মেদকে চড়-ধাপ্পড় মারেন এবং অফিস কক্ষের মধ্যে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। যার সত্যতা স্বীকার করেন ফরিদ আহাম্মেদসহ ওই অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারের ছেলে সেলিম আহাম্মেদ উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদ আহাম্মেদকে মারপিট করেননি বলে দাবি করেন। তবে তাকে ধাক্কা দেওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন তিনি।

উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে বাঘা উপজেলা প্রকৌশলী শ্রী রতন কুমার বলেন, ‘বাড়ির খেয়ে বনের মহিষ চরাতে আর রাজি না। এখানে প্রয়োজনে আর চাকরি করবো না। অন্যায়ভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের গায়ে হাত তুলবে, এটা মেনে নেয়া যায় না।’ এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।