উত্তরা নিউজ উত্তরা নিউজ
অনলাইন রিপোর্ট


বাঘাইছড়িতে ব্রাশ ফায়ারে নিহত বেড়ে ৭






নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক কলাংক এলাকায় সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে নিহত বেড়ে সাতে দাাঁড়িয়েছে। 

কলাংক ৯ কিলো এলাকায় সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এই ব্রাশ ফায়ারের ঘটনায় ঘটনাস্থলে ছয়জন এবং বাঘাইছড়িতে থেকে চট্টগ্রামে নেয়ার পথে মারা যায় আরো একজন। 

নিহতরা হলো- উপজেলা নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং স্থানীয় একটি প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক আমির হোসেন, আনসার সদস্য আল আমিন, বিলকিস আক্তার, জাহানারা বেগম, মিহির কান্তি দত্ত, আবু তৈয়ব, মন্টু চাকমা। 

নিহতরা সবাই উপজেলা নির্বাচনে একটি ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করে ভোট গণনা শেষে ব্যালট পেপার ও ভোটের ফলাফল নিয়ে উপজেলা সদরে ফিরছিলেন। এই ঘটনায় আহত ১০ জনকে চট্টগ্রামে এনে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে।

বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এ মঞ্জুরুল আলম জানান, নির্বাচনী দায়িত্বপালনকালে ফেরার পথে ভয়াবহ হামলার শিকার সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ১০ জনকে চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয়েছে হেলিকপ্টার যোগে। 

কারা বা কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠি এই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে এ ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনার পর পরই পুরো এলাকা ঘিরে তল্লাসী অভিযান শুরু করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। 

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো হাসানুজ্জামান ঘটনার বিষয়ে জানান, হতাহতদের মধ্যে একজন ব্যাতিত সবাই নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করে দুর্গম এলাকা থেকে উপজেলা সদরে ফিরছিলেন। সাজেক ইউনিয়নের কলাংক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাচালং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহন এবং গণনা শেষ করে দুটি চাঁদের গাড়িতে করে আনসার এবং ভোটগ্রহন কর্মকর্তারা সদরে ফেরার সময় নয় কিলো নামক এলাকা হামলার শিকার হয়। 

সন্ত্রাসীরা দুটি চাঁদের গাড়িতে ব্রাশ ফায়ার করলে ঘটনাস্থলেই ছয় জনের মৃত্যু ঘটে। হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় আরো একজন। নিহতদের মধ্যে মন্টু চাকমা ছাড়া অন্যরা সবাই ভোট গ্রহণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলো। 
মন্টু চাকমা স্থানীয় পথচারী অথবা গাড়ি চালক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর পুরো বাঘাইছড়ি উপজেলা জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।