uttaranews24 uttaranews24
সবার আগে সবসময়


বাংলা সাহিত্যে নতুন কালজয়ী সংযোজন






কাব্যরত্ন
কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী-
বাংলা সাহিত্যে নতুন
কালজয়ী সংযোজন
ড. সাদিয়া আফরিন
——————————————————
মাহমুদুল হাসান নিজামী- কবি,গীতিকার,আবৃত্তিকার,ক্বারী .পিতা-মরহুম মাওলানা আব্দুল্লাহমাতা-মরহুমা-মায়মুনা খাতুন .জন্ম-১লা ফেব্রুয়ারী ১৯৭১. প্রকাশিত গ্রন্থ- ১০০ টি আবৃত্তি ও লেখা গানের সংখ্যা হাজরের অধিক। যা তার নামে খুজলে গুগলে পাওয়া যায় । .জন্মস্থান-কালাপানিয়া-সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম .স্থায়ী বসবাস-কাউখালী-রাঙামাটি.বর্তমান ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন .
তার আলোচিত সাহিত্য সম্ভার :
মহাকবি শেখ সাদীর বিশ্বজয়ী ”গুলিস্তা ও বোস্তা” বই দুটির এক হাজার বছর পর ”র প্রথম কাব্য অনুবাদ এবং আরবী সাহিতের ইমরুল কায়েস সহ বিশ্ব সমাদৃত সেরা দশ কবির সেরা ”আরবী সাহিত্যের সেরা প্রেমকাব্য মুয়াল্লাকাত” এর দেড়হাজার বছর পর পুরনো কাব্য অনুবাদ এবং বাঙ্গালী জাতির সাত হাজার বছরের অমূল্য ইতিহাস “সাত হাজার বছরের বাঙ্গালী ও পনরো শ বছরের বাংলাদেশ” এবং সাহিতত্যের উপর সফল পুস্তক ”সাহিত্য পরিচয়” ও মানব সভ্যতার উথ্থান ও বিকাশ নিয়ে “সভ্যতার ইতিকথা” ও প্রাচীন মানব সভ্যতার ইতিহাস ; দেহ তত্ব ও মনএবং সৃষ্টি তত্ব নিয়ে “সৃষ্টি তত্বও বিজ্ঞান : পাশ্চাত্যের সাহিত্য তত্ব ; বিশ্বময় মুসলিম সম্রাজ্য বিস্তারের ইতিহাস ফরিদ উদ্দিন অঅাত্তারের পান্দনামা কাব্যানুবাদ নিজামীর নিজের লেখা চার হাজার কবিতার বই সমুহ লিখে বাংলা সাহিত্যে অমর কৃতিত্বের স্বাক্ষর করে ”বাংলা কাব্য পরিবার” ঘোষিত কাব্যরত্ন খেতাবে ভূষিত হয়েছেন- কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী
কর্মপরিধি
: মাহমুদুল হাসান নিজামী’র কর্ম পরিমন্ডল অনেক প্রসারিত । তিনি একাধারে কবি,গীতিকার,সুরকার আবৃত্তিকার ,কথাশিল্পী,চিত্রশিল্পী ,ক্বারী,ব্যবসায়ী , রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিক ,শিক্ষক এবং গবেষক ।সম্পাদক দেশজগত পত্রিকা ও প্রতিষ্টাতা জাতীয় কবিতা মঞ্চ : এত গুনের সমন্বয় সত্যিই বিরল অবিশ্বাস্য । তাঁর সান্নিধ্যে না এলে তাকে চেনা যাবে না মোটেও ।বেশভ’শায় এত সাধরণ মানুষ অথচ এত গুনের ভারে নুয়ে আছে সমঝদার ছাড়া তাকে মূল্যয়ন বা খালি চোখে দেখার মাঝে আর তার গুনের গহীনে প্রবেশ তাকে সম্পুর্নর্ ভিন্নমাত্রায় পরিচয় করিয়ে দেবে কালজয়ী মানুষদের তালিকায় ।মাহমুদুল হাসান নিজামী প্রসঙ্গে এ সময়ের বাংলা সাহিত্যেও প্রধান কবি আল মাহমুদ বলেছেন-”তার শব্দ ও উপমা প্রয়োগ নতুনত্বের সমাহারআমার মত বয়োবৃদ্ধ কবিকেও পুলক সৃস্টিতে পারঙ্গম হয়েছে ।”
এছাড়া প্রখ্যাত কবি ও অনুবাদক জ্যোতির্ময় নন্দী মাহমুদুল হাসান নিজামীকে
প্রকৃতি ও প্রণয়ের কবি” অভিধায় ভুষিত করেছেন নিজামীকে নিয়ে লেখা তার সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধে ।মাহমুদুল হাসান নিজামী’র লেখা ও সুরে যখন হামদ-নাত গুলো শোনাযায় যখন বিভিন্ন মিডিয়ায় তখন যেন নজরূলের পূর্নছায়াই তার মাঝে প্রতিবিম্ব হতে থাকে ।যেমন –
ওগো হাজী ভাই-
আমার একখান সালাম দিও হযরতের রওজায়”
অথবা
-নিসর্গ নীলিমায় চাঁদ হাসে-
আমার প্রণয় প্রিয়সী মিশে গেছে সবুজ দুর্বাঘাসে
নিজামীর এধরনের কবিতা গুলো পড়লে ইংরেজী সাহিত্যের কালজয়ী কবি কিটস এবং শেলীর প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে ।জাতীয় কবিকে নিয়ে লেখা নিজামীর একটি কবিতা চট্টগ্রামের প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ডিসি হিল নজরূল স্কোয়ারের প্রধান ফটকে পূর্তমন্ত্রনালয় ম্যুরালে খুদায় করেছে ।

”বসতো না মন পড়া লেখায় বসতো না মন কাজে
– উদাস মনে অধীর হয়ে হাটতো সকাল সাঝে
আট লাইনের একটি কবিতায় একজন কালজয়ী সংগ্রামী কবি নজরুলের জীবনী এত নিখুত পরিপুর্ণতায় নিজামী চিত্রায়িত করেছেন অবাক হয়ে যাই ভেবে । যে কবিতা টি হাজার হাজার মানুষের কন্ঠস্থ হয়ে অমর সৃস্টির মর্যদায় ভুষিত হয়ে গেছে ।
কবি নিজামীর লেখা ও ডিজাইনে কোপারেঠিভ বুক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত পাখির মেলা ফুলের মেলা বই টির লেখা ও নিজামী’র চিত্রায়ণ দেখলে বুঝা যাবে নিজামী বড় মাপের কবি হয়েও কত বড় মাপের চিত্র শিল্পীর পরিচয়টি অজানা করে রেখেছেন নিজে স্বয়ং। তাছড়া কবি নিজামী ফেসবুক সাহিত্যে এক বিশাল নতুনত্ব এনেদিয়েছেন । ফেস বুকে যেখানেশধু আত্বভঙ্গিমা -চেহারা প্রচারের মহা উৎসব সেখানে নিজামী নিত্য নতুন কনসেপ্ট- নিত্য নতুন ডিজাইনে প্রতিদিন নতুন কবিতা ও ডিজাইন বাংলা সাহিত্যে কে ফেসবুক জগতে বিশ্বে নতুন মাত্রা এনে দিয়েছেন ।
কবি নিজামীর আধুনিক গান-
”হঠাৎ যদি কোন স্মৃতির টানে আমাকে মনে পড়ে যায়-
আমার দেখা খুঁজে পাবে তুমি ঐ আকাশের তারায় তারায়”
বিরহী মনকে কত নিখুত বেদনায় চিত্রায়িত করেছেন তিনি গানের কথায়
চট্টগ্রামে জাতীয় কবি কাজী নজরূল ইসলামের চট্টগ্রামের স্মৃতিগুলো সংরক্ষনে চট্টগ্রামের যে সব অঞ্চলে নজরুল পরিভ্রমন করেছেন প্রত্যেকটি স্থানকে স্মৃতিময় করে রাখার জন্য নিজামী পদক্ষেপ নিয়েছেন । চট্টগ্রাম শহরের প্রধান সাংস্কৃতিক অঙ্গন ডিসি হিলকে পরিনত করেছেন নজরুল স্কোয়ারে ।তাছড়া পতেঙ্গা সী বিচ ,সীতাকুন্ড ইকোপার্ক ,প্রতিটি নজরুল স্মৃতিধন্য স্থান কে অমর করার মাধ্যমে কবি নিজামী জাতীয় কবির প্রতি অনন্ত ভালোবাসার স্বক্ষর অশেষ স্মৃতির অঙ্গনে সাজিয়েছেন ।সামাজিকভাবেও কবি নিজামী একজন সফল পুরুষ । কাউখালী কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ।কাউখালী বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অন্যতম উদ্যোগ ,নাইল্যা ছড়ি হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠা , ছিদ্দিকে আকবর মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার প্রথম উদ্যোগ ,কাউখালী প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠা , কাউখালী যুব কল্যান পরিষদ সহ দশটি সামাজিক ক্লাবের প্রতিষ্ঠা কবি নিজামীর সফল সমাজ সেবকের প্রতিচ্ছবি হয়ে আছেন ।একজন কবি যে সামাজিকভাবে এত জনপ্রিয় হতেপাওে তার স্বক্ষর দুই হাজার আটের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্পূর্ন গায়ের জোরে বিজয় নিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ।তার পরেও কবি নিজামী ছিলেন স্বল্প ভোটে পরাজিত ।মাত্র সত্তর হাজার টাকা ব্যায় কওে তেত্রিশ হাজার মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন কবি নিজামী ।
কবি নিজামীর প্রথম আমি সন্ধান পাই ইউ টিউব এর মাধ্যমে । ইন্টারনেটে মাহমুদ নামে আমার এক বন্ধুর নাম সার্চ দিতেই চলে আসে একটি নাম –মাহমুদুল হাসান নিজামী’র গান ,কবিতা,আবৃত্তি স্লাইস কবিতা । এবং কবিতা গুলো মনোরম দৃস্টি নন্দন ডিজাইন দেখে কবিতা গুলো পড়া শুরু করলাম , কবি নিজামীর কবিতা গুলো পড়তে পড়তে নিজামীর সৃস্টিও বিশালতা এবং স্বাদ এর ভিতর ডুবে যাই । গুললে কবিতা পড়ে তার অন্য সৃস্টি গুলোতেও ডুব দিই । শুনতে থাকি তার লেখা গান আর কবিতার আবৃত্তি , হামদ-নাত ,চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান সহ সমুদয় সৃস্টি । অবাক হয়ে যাই এত বিশাল মান ইত্তীর্ণ সৃস্টি সম্ভার নিয়ে কেন নিবৃত বিনা জানা লোকচক্ষুর অন্তরালে ঢেকে আছেন তিনি । তার বিশাল সৃস্টি সম্ভার আমাদের সাহিত্য সংস্কৃতি অঙ্গন করে তুলবে শক্তিশালী তাহলে কেন আড়াল হয়ে আছেন ?
খুজা শুরু করলাম কবি নিজামীকে । মাঝে মাঝে বিভিন্ন সাহিত্য পাতায় তার লেখা দেখতে পাই । একদিন একটি বড় পত্রিকায় তার লেখা দেখে ভাবলাম হয়তো সে পত্রিকা থেকে ঠিকানা পাওয়া যাবে । ফোন দিলাম সে পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক কে । সাহিত্য সম্পাদক কে কবি নিজামী’র লেখার প্রশংসা করায় সাহিত্য সম্পাদক সাহেব ক্ষেপে যান । এবং বলেন-”’আমাদের লেখা গ্রলো এত ভালো সেটা চোখে দেখেন না”?
সে সাহিত্য সম্পদকের আচরন দেখে কবি নিজামীর ঠিকানা চাইতে আর সাহস হলোনা । পরে জানলাম সে সাহিত্য সম্পাদক ও একজন কথিত কবি ।এরপর এক বছর সে সাহিত্য পাতায় কবি নিজামীর আর লেখাই দেখলাম না । ভাবলাম হয়তো প্রতিহিংসার কারে সে সাহিত্য সম্পদক কথিত কবি নিজামীর লেখা ছাপা বন্ধ করে দিয়েছে ।
এর পর আরো এক বছর হঠাৎ ফেসবুকে সে ডিজাইনে শত শত কবিতা । ফেসবুকে ইনবক্স এ ম্যাসেজ দিলাম ,একবার, দুইবার কয়েকবার কোন সাড়া নেই .দেখি লাইনে আছে নওকিন্তু ইনবক্সে সাড়া নেই । হঠাৎ একদিন সাড়া পেলাম এভাবেই প্রথম পরিচয়ের যাত্রা শুরু । চব্বিশ ঘন্টা থাকেন কবিতা নিয়ে ;শুধু কবিতা আর কবিতা । অনন্য শ্রদ্ধায় অবনত হয়ে গেলাম তার উপর ।উগ্র স্বভাবের এ কবির গহীনে এত কোমলতা-তার সাথে নিবিড় পর্যবেক্ষন না থাকলে তাকে ভুলও চিনতে পারেন ।