বাংলাদেশে এখনই সময় জাতীয় ঐক্যের আহবান জানিয়ে সকলকে নিয়ে কাজ করার

পি.আর. প্ল্যাসিড, জাপান

» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ০২ মে ২০২০ - ০২:০৩:৪১ অপরাহ্ন

বঙ্গবন্ধু তাঁর সততা ও রাজনৈতিক দুরদর্শিতা বা দৃঢ়তার কারণে সাধারণ জনগণের ভালোবাসা পেয়েছিলেন। সেই ভালোবাসার প্রতি আস্থা রেখেই তিনি ১৯৭১ সনে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক দেন। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের সকল শ্রেণী ও পেশার লোক যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেছিল। যার ফল স্বরূপ আমার স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছি। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের চিত্র বদলে যাওয়ায় বঙ্গবন্ধু তাঁর আগের অবস্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। যে কারণে ১৯৭৫ সনের ১৫ই আগষ্ট স¦পরিবারে (দুজন ব্যতিত) নিহত হন।

পঁচাত্তরের সেই পট পরিবর্তনের পর থেকে আমাদের দেশে যে শাসন ব্যবস্থা চলে আসছিল তা থেকে মুক্তি পাবার কোন সম্ভাবনা বাংলার মানুষ এপর্যন্ত দেখেছে বলে মনে হয়নি। যে ক’জন ব্যক্তি এপর্যন্ত রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছেন তাদের প্রত্যেকেই বাংলার সাধারণ জনগণকে নির্বাচনের নামে নাটক বানিয়ে নাটক দেখিয়েছে আর জনগণকে বানিয়েছে বোকা দর্শক।

এরপর রাষ্ট্র প্রধানদের বেলায় দেখা গেছে, ক্ষমতায় একবার গেলে সবাই যেন গণতন্ত্রের কথা বলে যেমন খুশী তেমন ভাবে ব্যবহার করেছেন। এতে জনসাধারণের চাওয়া পাওয়া বা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে দেশ ও দেশের মানুষের কথা না ভেবে বাধ্য করেছেন নাটক দেখে সব কিছু মেনে নিতে। তারা কখনওই সত্যিকার অর্থে দেশ ও দেশের মানুষদে কথা ভাবেন নি।

বর্তমান সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা সেই ধারাবাহিকতা থেকে বের হয়ে আসতে চাইলেও তার আশে পাশের লোক গুলোর কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী সফল হতে ব্যর্থ হয়েছেন। যা তিনি নিজেই বলেছেন, ” আমাকে ছাড়া সবাইকে কেনা যায় ”। তিনি এও বলেছেন, তিনি কম সময় ঘুমিয়ে বেশী সময় কাজ করেন। তা বোঝা যায়, তাঁর কাজের পরিধি ও বাস্তবায়ন দেখে।

প্রধানমন্ত্রী সত্যিকার অর্থে যেভাবে নিজের দলকে নিয়ন্ত্রণ করছেন এতে তাঁর আন্তরিকতার বিষয়টি বিরোধীরাও অকপটে স্বীকার করেন। সম্প্রতি দেশের ভিতর যেভাবে সন্ত্রাসী দমন ও কালোটাকার মালিকদের ধরে শাস্তি দিচ্ছেন এতে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। দেশের চেহারাও বদলে দিচ্ছেন তিনি। এটাও ঠিক যে এসব কাজ বিলম্ব হচ্ছে তাঁর চারি পাশে থাকা কিছু লোকের অসহযোগিতা ও আন্তরিকতার অভাবে, দেশবাসী যা স্পষ্টই অনুধাবন করছে।

বর্তমান সরকার প্রধান অনেক ক্ষেত্রেই আগের রাষ্ট্র প্রধানদের থেকে ব্যতিক্রম মনে হয়। বর্তমান সরকার যে অন্যান্য সরকার গুলো থেকে কিছুটা ভিন্ন তা অনেক ক্ষেত্রেই ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছেন। এমনকি সম্প্রতি বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন। যাতে আশা করছি, বর্তমান সরকার প্রধানের ভাবমুর্তি সাধারণ জনগণের কাছে অনেকটাই বদলাচ্ছে।

এপর্যন্ত দেশের সার্বিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন করলে বলা যায়, প্রধানমন্ত্রী ভালো কাজ করলেও যারা সমালোচনা বা বিরোধিতা করার তারা তা করবেই। এটা জেনেই তিনি খুব দৃঢ়তার সাথে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের জন্য এখন তার বিকল্প নেই। যার প্রশংসা এতদিন পরে হলেও বিরোধী ঘরোণার অনেকেই করেছেন।

সারা পৃথিবীতে এখন এক ধরনের মহামারী চলছে। কেউ কেউ এটাকে যুদ্ধও বলছে, যার বাতাস বাংলাদেশেও বইছে। আমরা যতই বলি না কেন করোনা ভাইরাস বা কভিড-১৯ বাংলাদেশে ততটা প্রভাব ফেলতে পারবে না তারপরেও বিশাল ক্ষতির সম্ভাবনার দিকে এগুচ্ছে দেশ। প্রতিদিন যেধরনের সংবাদ পাই এতে করে কোন দলীয় সিদ্ধান্তে কাজ করার চেয়ে বিভিন্ন সৎ বুদ্ধিজীবির পরামর্শ নিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করা যেতে পারে।

আমি যে বিষয়টি বলতে চাই সেটি হলো, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এবারই প্রথম দেশে সত্যিকার অর্থে সুযোগ এসেছে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে কাজ করার। এতে সরকারের কোন কিছুতে ক্ষতির চেয়ে বরং ভালো হবে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এপর্যন্ত দেশে অনেকবার অনেক ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে, সব কয়টি দুর্যোগ প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর মত করেই দৃঢ়তার সাথে দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলা করেছেন তা স্বীকার করি। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি যে ভিন্ন।

বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষমতাধর রাষ্ট্র গুলো যেখানে করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) মোকাবেলা করতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ মুখে যত সহজভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার কথা বলছে বাস্তবে তত সহজ নয়। প্রতিদিন দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা শুনছি। বর্তমান এই অবস্থাকে কেউ কেউ আবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধও বলছেন। তাই যদি হয়, তাহলে বঙ্গবন্ধুর মত এবার কেনো শেখ হাসিনা এই করোনা ভাইরাস-যুদ্ধ মোকাবিলা করতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলবেন না?

আমি মনে করি এখনই অতি দ্রুত সরকারের জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। সম্প্রতি দলীয় লোকদের চাল চুরিতে যেভাবে উৎসাহী দেখা যাচ্ছে এটাকে বন্ধ করতে এবং যথাযত ভাবে দুর্যোগ মোকাবেলা করতে সকল পেশা ও শ্রেণীর লোকদের নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলে কাজ করতে হবে যাতে চোরের সংখ্যা বাড়বে না বরং কাজের কাজ হবে অনেক বেশী। এতে শেখ হাসিনার সরকারের বিন্দুমাত্র জনপ্রিয়তা কমবে না বরং ভালোই হবে। তাই কাল ক্ষেপন না করে দেশে এখনই সময়, জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহব্বান করে সকলকে নিয়ে কাজ করা।

পি.আর. প্ল্যাসিড, জাপান প্রবাসী লেখক-সাংবাদিক

prplacid@gmail.com