বর্ণবাদী পাশ্চাত্য – মুহাম্মাদ আবু হানিফ


» এইচ এম মাহমুদ হাসান | | সর্বশেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২০ - ০২:৪৩:১২ অপরাহ্ন

ডান কাত, বাম কাত। গভীর রাত তবুও ঘুম নেই। একচোখে ল্যাপটব স্ক্রিনে অনলাইন পোর্টাল। অন্যচোখে বন্ধু কামাল। সমস্যার তো সমাধানও আছে। ওরাও আমাদের মত থাকলেই পারে। কিন্তু! আমরা ঘরে, আর ওরা পথে?

কামাল ম্যাসিয়ারের ছেলে। বেশ আদূরে। সবার চোখে কালো-মানিক। কালো বলে কথা। জামালের প্রাণের বন্ধু। ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার ও পড়ালেখা আর খেলাধূলা ভাইয়ের মতো-ই। দু’ জনেই বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। ঘুম থেকে নিয়ে সবকিছু একসাথে।

একজন সচেতন স্টুডেন্ট জামাল। নিয়মিত সময় করে পত্রিকার পৃষ্ঠা উল্টায়। করোনা প্রকোপেও নিউজ রাখছে। কত জন আক্রান্ত? কত জন সুস্থ্য? কত জন মৃত? ঘটা করে টক অব দ্যা ওয়ার্ল্ড পাল্টে যাওয়াই ও বিরক্ত। করোনা ছিল এবং আছে। শিরোনাম পাল্টেগেছে। প্রয়োজন তো ছিল করোনা মুক্তির সংবাদ। ধ্যাত! নয় ছয় ভাবতেই ঘুম উধাও।

রাত তিন টা। কামাল নাক টেনে ঘুমাচ্ছে। বন্ধু ঘুমে আর আমি নির্ঘুম। কোনোও পেরেশানি নাই। নো চিন্তা। পাশ্চাত্যে থাকলে বুঝতি। কালো মানেই কৃতদাস। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার এই যুগেও পশ্চিমারা বর্ণবাদ মুক্ত হতে পারেনি। আবার কালো কে কালোমানিক ভাববে? সুদূর পরাহত!

জামাল নাকে টোকা দিতেই কামালের ঘুম ভেঙ্গে গেলো। তাহাজ্জুদ পড়তে হবে। জিকির করতে হবে। সময় নেই। ল্যাপটব বন্ধ।

আমীন, সুমধুর আযানের ধ্বনিতে মুনাজাতের ইতি। ফজরের পর দরসে হাদীস। জামালের আফসোস- হায়, এই হাদীস যদি মানতো! সেখানেও ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বপূর্ণ সমাজ গড়ে উঠতো! বর্ণবাদের আড়ালে আধুনিক দাসপ্রথা টিকতে পারতো না।

জর্জ ফ্লয়েডের নির্মম মৃত্যুতে পাশ্চাত্য সমাজ থমথমে। শেতাঙ্গ পক্ষাবলম্বনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পুলিশী নির্যাতনে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা নতুন নয়। এটা পাশ্চাত্যের ঐতিহ্য। কয়লা ধুইলেও ময়লা যায় না।

মুক্তিরদূত রসূল সা. বলেছেন- তোমাদের দাস-দাসীরা তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। তাই, যার ভাই তার অধীনে থাকবে, সে যেন তাকে নিজে যা খায় তা-ই খাওয়ায়, নিজে যা পরে, তাকে তা-ই পরায়। তাদের উপর এমন কাজ চাপিয়ে দিও না, যা তাদের জন্য খুব বেশি কষ্টকর। যদি এমন কষ্টকর কাজ তাদেরকে করতে দাও, তা হলে তোমরাও তাদের সে কাজে সহযোগিতা করবে। (বুখারি: ৩১)

কামাল ইতিহাসের স্টুডেন্ট। ফাস্ট বয়। খুব রসালো। ওর খোঁচাতে জামালের ধ্যানে ভঙ্গ। জামালের প্রশ্নে কামালের মুচকি হাসি মিলিয়ে গেলো।
– আচ্ছা, আমেরিকান পুলিশের খুটির জোর কোথায়? প্রেসিডেন্টও পুলিশী পক্ষ?

– আরে, আমেরিকান পুলিশ তো বর্বরতাবাদী দারোয়ান। সেই প্রাচীন বর্বরতার কালে এদের জন্ম। গঠন করাই হয়েছে দাস নিয়ন্ত্রণে।

– ওখানে তো কৃষ্ণাঙ্গ বাকস্বাধীনতা নেই?

– হুম। নেই, থাকবেই বা কিভাবে! শেতাঙ্গের চোখে কৃষ্ণাঙ্গরা আগের মত-ই। বর্ণবাদের আড়ালে আধুনি দাসপ্রথা।

– তুই তো ওখানে জন্মালে বাঁচতেই পারতি না?

– এমনটাই তো মনে হয়! আল্লাহ-ই বাঁচাইছে। এখানে ইসলাম থাকায় বর্ণবাদ নেই, ভালোই আছি। পাশ্চাত্যে তো ইসলাম নেই, বর্ণবাদের নামে প্রাচীন বর্বরতা টিকে আছে।