বরিশালে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ - ০৫:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন

নগরী ও সদর উপজেলার চাঞ্চল্যকর দুটি হত্যা মামলার তদন্ত চললেও এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখা যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আসামিদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করায় এসব হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদি। উল্টো মামলা উত্তোলনের জন্য আসামিরা বাদিকে হুমকি অব্যাহত রাখায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন ওইসব পরিবারের সদস্যরা।

সূত্রমতে, সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগরের রাজধর গ্রামে ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করা হয় দলিল লেখক রেজাউল করিম রিয়াজকে। নিহতের স্ত্রী আমেনা আক্তার লিজা তার পরকিয়া প্রেমিক মাসুম হোসেনের সহায়তায় দুধের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রিয়াজকে খাইয়ে দেয়। এরপর রিয়াজ ঘুমিয়ে পরলে গভীর রাতে তারা দু’জনসহ ইদ্রিস হোসেন হাবিব নামের অপর এক সহযোগি মিলে রিয়াজকে ধারালো ক্ষুর দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরেরদিন কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ সন্দেহজনকভাবে নিহত রিয়াজের স্ত্রী লিজাকে আটক করে আদালতে সোর্পদ করে। পরে ১৬৪ ধারায় লিজা আদালতে জবানবন্দী প্রদান করে। জবানবন্দীতে নিজে এবং মাসুম ও ইদ্রিস মিলে রিয়াজকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে।

সূত্রে আরও জানা গেছে, মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বশির প্রায় চার মাস তদন্তের দ্বায়িত্বে থাকলেও হত্যার মূল আসামি মাসুম ও ইদ্রিসকে গ্রেফতার করতে পারেননি। পাশপাশি আসামিদের কাছ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অভিযোগ ওঠে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এরপর তাকে সরিয়ে পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার দেয়া হয় এসআই ফিরোজ আল মামুনকে। তিনিও ইতোমধ্যে প্রায় নয় মাস অতিবাহিত করলেও মুল ঘাতক মাসুমকে গ্রেফতার করতে পারেননি। পুলিশের এমন ব্যর্থতা নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের ভাই ও মামলার বাদী মোঃ মনিরুল ইসলাম রিপন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে হত্যাকান্ডের প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেননি। এরপর বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তাও একই পন্থায় আসামিদের গ্রেফতার করছেনা। মামলার বাদি অভিযোগ করেন, সস্প্রতি সময়ে আমেনা আক্তার লিজা জামিনে বের হয়েছে। প্রধান আসামি মাসুম গ্রেফতার না হওয়ায় মামলাটির অগ্রগতি হচ্ছেনা। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, মামলা করেছি ভাইকে ফেরত পাবার জন্য নয়, ভাইকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচারের জন্য। কিন্তু এখন দেখছি উল্টো মামলা কেন দায়ের করেছি সেজন্য আসামি মাসুমের ভাই মনির ও তার ছেলে সাগরসহ তাদের সহযোগিরা আমাকেসহ পরিবারের সদস্যদের হুমকি অব্যাহত রেখেছেন।

তিনি বলেন, আসামি মাসুম একজন পেশাদার খুনি। এ ঘটনার আগেও সে হত্যা মামলার আসামি ছিলো। ঘাতক মাসুম লঞ্চে চাকরি করার সুবাধে বিভিন্ন লোকের সাথে তার সখ্যতা হয়। তারই সূত্রধরে অপরাধ জগতে তার পদার্পন ঘটে। মাসুমের স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনরা বরিশাল, ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে দিনের পর দিন তার (মাসুম) সাথে দেখা করলেও শুধুমাত্র তদন্তকারী কর্মকর্তার চোখে মাসুম পলাতক। এমনকি চরমোনাই এলাকায়ও মধ্যরাতে মাসুমকে দেখলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে খুঁজে পাচ্ছেনা।

অপরদিকে নগরীর স্টীমারঘাট জামে মসজিদ সংলগ্ন ওষুধ ব্যবসায়ী আলোচিত শিরিন হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশের ঘুষ বাণিজ্যের কারণে ঘাতকরা বেশ আয়েশে দিনযাপন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও কোতয়ালি মডেল থানার এসআই মামুন। মামলার বাদি জানান, শিরিন হত্যকান্ডের মামলার সাতজন আসামির একজনকেও রহস্যজনক কারণে তদন্ত কর্মকর্তা আটক কিংবা জিজ্ঞাসাবাদও করেননি। অথচ আসামিরা স্টীমার ঘাট এলাকায় প্রকাশ্যে দিবালোকে নিজ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা পরিচালনা করছে। শুধু তাই নয়, মামলার আসামি মারুফ ও আলো গংরা বাদিকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ হুমকি অব্যাহত রেখেছে।

দুটি মামলার আসামি গ্রেফতারের ব্যাপারে কোতয়ালি মডেল থানার এসআই মামুন বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের চেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে। বরিশাল সদরে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ড দুটির মামলায় কোন অগ্রগতি না থাকার ব্যাপারে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বলেন, দলিল লেখক রিয়াজ হত্যাকান্ডের বাদীর যদি তদন্তকারী কর্মকর্তার ব্যাপারে কোন অভিযোগ থাকে তাহলে লিখিত আবেদন করলে বিষয়টি আমলে নেয়া হবে। শিরিন হত্যা মামলায় আসামি না ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, মামলার অধিকতর তদন্ত চলছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এজন্য নিরাশ হওয়ার কিছু নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

সূত্রঃ এফ এন এস ২৪