বন্ধন বাজার নিয়ে শঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২১ - ০৯:৪১:০৯ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার:  মাত্র ৪ মাস পরিচালনার পর হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শতাধিক মানুষের বিনিয়োগে স্থাপিত বন্ধন বাজার নামের একটি সুপার শপ। বিনিয়োগকারীরা বেশির ভাগই ২০০১ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থী। বন্ধুদের উদ্যোগ তাই অনেকেই আগ্রহী হয়ে বন্ধন বাজারের শেয়ার কিনেন। গেল বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বড় পরিসরে চালুও হয় সুপার শপটি। কিন্তু ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে মাস খানেক যাবত বন্ধ থাকলেও বিনিয়োগকারীরা কিছুই জানেন না।

জানা যায়, প্রায় ২ কোটি টাকার বেশি মূল্যের প্রকল্প দেখিয়ে প্রায় ৩ শতাধিক মানুষের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করা হয় এসএসসি বন্ধন ২০০১, বাংলাদেশ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ থেকে। রাজধানীর আফতাব নগরের ব্লক সি, রোড ১ এর ৩২ নম্বর বাসার নীচতলায় একটি সুপার শপও দেওয়া হয়। কিন্তু ৩ মাস না যেতেই কোন প্রকার ঘোষণা ছাড়াই সুপার শপের সাইনবোর্ড খুলে নিয়েছে এর পরিচালনা পরিষদ।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বন্ধন বাজার নামের সুপার শপটি বেশ কিছুদিন ধরেই বন্ধ। এর মালামালও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানান কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। কিন্তু কেন এটি বন্ধ, বা মালামাল কোথায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তা জানাতে পারেন নি কেউ। এমনকি সেখানে স্থান পরিবর্তনের কোন নোটিশও দেওয়া হয়নি বন্ধন বাজারের পক্ষ থেকে।

উক্ত এলাকার নাইট গার্ডের সাথে কথা বলে জানা যায় উক্ত শপের সকল প্রকার বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে ডেসকো। কয়েকজন বিনিয়োগকারীর কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, ২০০১ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে ফেসবুকে বেশ কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে। এর মধ্যে বন্ধন গ্রুপের পক্ষ থেকে বিনিয়োগের আহবান করা হলে তারা ৫০ হাজার টাকা করে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু হঠাৎ করে সুপার শপটি বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের মনে শঙ্কা জন্ম নিয়েছে। শঙ্কা আরো ঘনীভূত হয় এর পরিচালনা পরিষদের তথ্য গোপনের কারণে। শত শত মানুষের বিনিয়োগে স্থাপিত সুপার শপ বন্ধ রাখার বা স্থান পরিবর্তনের তথ্য না জানিয়ে বিনিয়োগকারীদেরকে অন্ধকারে রাখছে এর পরিচালনা পরিষদ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্ধন বাজারের পরিচালনা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মোহাম্মদ মুনির হোসাইন উক্ত ফেসবুক গ্রুপের এডমিন। পেশায় একজন সরকারী কর্মচারী হয়েও মনির হোসাইন কিভাবে লাভজনক প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত থাকেন এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিনিয়োগকারীরা। দুদকের তদন্তে মোহাম্মদ মুনির হোসেনের ব্যবসায়িক কর্মকান্ড প্রশ্নবিদ্ধ হলে বন্ধন বাজারের ভবিষ্যত কি হবে এ নিয়েও প্রশ্ন তাদের মাঝে।

রাজধানীর দৈনিক বাংলায় অবস্থিত কর্মসংস্থান ব্যাংকের প্রধান শাখায় কর্মরত মোহাম্মদ মুনির হোসাইন একাধিক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে গ্রুপের সদস্যদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করেছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিনিয়োগকারী।

তারা জানান, বন্ধন বাজারে মাত্র তিন মাসে ৭৪ লাখ টাকা আয় দেখিয়ে প্রতি শেয়ারে ৮৫৬ টাকা করে লভ্যাংশ প্রদানের ঘোষনাও দেওয়া হয়। টাকার অংকটি লোভনীয় হলেও অনেক বিনিয়োগকারীর মনেও সংশয় যে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান মাত্র তিন মাসে কিভাবে এমন অস্বাভাবিক পরিমান লাভ করতে পারে? অথচ লভ্যাংশ প্রদানের ঘোষনার পরের সপ্তাহ থেকেই বন্ধন বাজার বন্ধ করে দিয়েছে এর পরিচালনা পরিষদ।

এদিকে রাজধানীর অন্যান্য স্থানেও একই নামে আর বিশাল পরিসরে বন্ধন বাজার স্থাপনের বিপরীতে নতুন করে শেয়ার বিক্রয়ের প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে মোহাম্মদ মুনির হোসাইনসহ তার সাথে জড়িতরা। এ নিয়ে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের বিনিয়োগকৃত টাকা হারানোর ভয় পাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে একজন নারী বিনিয়োগেকারী জানান, অনেক কষ্টের জমানো টাকা বিনিয়োগ করেন বন্ধুদের এই উদ্যোগে। কিন্তু বন্ধন বাজারে গত কয়েকদিন ধরে গিয়েও বন্ধ দেখে তার সন্দেহ হয়। এ নিয়ে পরিচালনা পরিষদের সাথে যোগাযোগ করলে কেউ তার জবাব দেয় নি। বরং গ্রুপ ও বন্ধন বাজারের পরিচালকরা দেশের বিভিন্ন জেলায় উৎসব আয়োজন নিয়ে ব্যস্ততা দেখায়। এই নারীর প্রশ্ন যদি কোন জটিলতা হয়েই থাকে তাহলে কেন বিনিয়োগকারীদের জানানো হচ্ছে না? আর এত এত মানুষের কোটি কোটি টাকায় করা সুপার শপ বন্ধ রেখে কিভাবে তারা এমন পিকনিক করে বেড়াতে পারেন? বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করেন, তাদেরকে যে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তি পত্র দেওয়া হয়েছে তার ভাষাগত দুর্বলতা আর প্রতিষ্ঠানের নামের জায়গায় একটি ফেসবুক গ্রুপের নাম থাকায় আর্থিক নিরাপত্তার জন্য আইনী প্রক্রিয়াটি জটিল হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের মূলধন হারানোর ভয়ে আছেন অনেকেই।

তারা বলেন, যারা স্বশরীরে বন্ধন বাজারে এসে সুপার শপটি বন্ধ দেখেছেন কেবল তারাই বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছেন। বাকি শত শত বিনিয়োগকারীরা এখনও কিছুই জানেন না।

এ ব্যাপারে কথা বলতে বন্ধন বাজার সমন্বয়ক ও উপদেষ্টা লায়ন মোঃ মেহেদী হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।