বগুড়ার শিবগঞ্জে দপরী কর্তৃক স্কুল ছাত্রী ধর্ষিতা


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ - ০৮:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন

শুনেছি বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নাকি অনেক সুন্দর হয়। এখান থেকেই নাকি মানুষের জ্ঞানের পূর্ণতা পায়। এই শোনা কথাগুলোর বাস্তব রূপ দেখার স্বাদ যে এত মধুর হবে, কখনো ভাবতে পারিনি।

ভর্তিযুদ্ধ শেষ করে সুযোগ হয়েছিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। ক্যাম্পাস জীবনের মতো রঙিন আর সুন্দর সময় নাকি একজন শিক্ষার্থীর জীবনে খুব একটা আসে না। যাইহোক শেষ পর্যন্ত ভর্তি হওয়ার সুযোগও পেলাম। কিন্তু তখনো ভাবতে পারিনি ভর্তি হওয়ার পর এভাবে মিশে যাবো এই ক্যাম্পাসের সাথে। এত মায়া, এত আবেগ, এত ভালোবাসায় জড়াবো নিজেকে প্রতিটি মানুষের সাথে।

প্রচণ্ড- শীতের এক সকালে মনের ভেতর অস্থিরতা আর নানা চিন্তা নিয়ে শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরের সবুজরাণী ক্যাম্পাসকে ‘আমার ক্যাম্পাস’ বলে পরিচয় দেয়ার প্রথম দিনটা আসলে সহজ ছিলো না। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭৫ একরের ক্যাম্পাসের প্রেমে পড়েছিলাম প্রথম দিনই। ক্যাম্পাসে যেদিন প্রথম আসি, সেদিনের অনুভূতি অপ্রকাশ্য।

সেদিন ছিলো ২৭ জানুয়ারি ২০১৮। শীতের সকালে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাস থেকে নেমেছি সবুজে ঘেরা স্বপ্নের ক্যাম্পাস ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেইটের সামনে। সেই মুহূর্তে ইবিকে নিজের ক্যাম্পাস ভাবার অনুভূতিটা হয়তো বলে বোঝাতে পারবো না। যদিও ভর্তির সময় ক্যাম্পাসটা বেশ কয়েকবার ঘুরে দেখা হয়েছে বাবার সাথে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনের সাথে আমার জড়িয়ে থাকা আবেগ আর স্মৃতির একটা বড় অংশ আজও স্মৃতিতে অম্লান। আমি নতুন পরিবেশ আর নতুন মুখগুলোকে আপন করার চেষ্টায় যেমন ব্যাস্ত ছিলাম, তেমনি নিজেকেও সবকিছুর জন্য মানিয়ে নিতে প্রস্তুত হচ্ছিলাম। এদিকে বাবা আমার হলের আবাসিক ব্যবস্থায় ব্যস্ত ছিলেন, আর ওদিকে আমি ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে যোগদান করি।

ধীরে ধীরে এগিয়ে যাই অডিটোরিয়ামের দিকে। সেখানে গিয়ে দেখি, বেশ জমজমাট একটা পরিবেশে শত শত অপরিচত আর প্রাণোচ্ছল মুখ। দেখলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষকমহল। নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে একটা করে লাল গোলাপ আর রজনীগন্ধা বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এরপরই বক্তব্য রাখেন শ্রদ্ধেয় উপাচার্য স্যার। অত্যন্ত দুঃখের কথা স্যার সেদিন বলেছিলেন। তাঁর ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা করেছিলেন। তারপরও স্যার উপস্থিত হন আমাদের মাঝে এবং বলেন, ‘আমি চাইনা আমার ওপর হামলা হয়েছে এজন্য আজ আমি অনুপস্থিত থাকি। আমি চাই তোমাদের উদ্দেশ্যে করা প্রত্যেকটা কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পাদন হোক।’

এরই মধ্যে আমি পরিচিত হই আমার মতোই কিছু নতুন পথযাত্রীদের সাথে। আর তারাও যথেষ্ট বন্ধুভাবাপন্ন মনের ছিলো। কাজেই আমি আমার প্রোগ্রামটা বেশ ভালোভাবে উপভোগ করতে পারি। জীবনের অন্যতম আনন্দ আর উত্তেজনার মুহূর্তগুলোর সময় ছিলো এটি।

কিছু সদ্য পরিচিত হওয়া প্রাণ আর আমি বেরিয়ে পড়ি স্বপ্নের ইবির সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসে। সবকিছু মিলিয়ে অনেকটা স্বপ্নের মতোই ছিলো সময়টা। সত্যি বলতে ইবির পথ ধরে হাটছিলাম আর অনুভব করছিলাম একটু একটু করে বহুদিনের বুনে রাখা স্বপ্নের বাস্তবতার স্বাদ। সেই যে কতোগুলো দিন, মাস, বছর ধরে অপেক্ষা করে আসা, স্বপ্ন দেখে আসা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে এভাবে চলবো।

ক্যাম্পাসে হাঁটতে হাঁটতে হাসি-ঠাট্টা আর কিছু রোমাঞ্চকর অনুভূতিতে মেতে উঠি আমরা। সত্যি বলতে আমার ক্যাম্পাসটা খুবই পছন্দ হয়েছিলো। জিয়া মোড়ের দোকান থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, প্রতিটা অনুষদ ভবন সবকিছুই গোছানো আর মনোরম। মফিজ লেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনে খুবই ভালো লাগার জায়গা করে নিয়েছিলো।

দুপুরের দিকে বাবা যখন খবরটা জানালো, হলে আমার জন্য সিটের ব্যবস্থা করা হয়ে গেছে, কী যে ভালো লাগা, ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। তখন আমি ফিরলাম আমার নতুন ঠিকানার উদ্দেশ্যে। ধীরে ধীরে সব গুছিয়ে নিলাম নিজের মতো করে। আর সেখানেও পেলাম কিছু দুষ্টু মিষ্টি রুমমেট। সত্যি আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সকল প্রাপ্তির মধ্যে অনেক বড় প্রাপ্তি এ মানুষগুলো, আর তাদের সঙ্গ। সিনিয়র আপুদের অতুলনীয় স্নেহ আর বন্ধু-বান্ধবীদের সহযোগিতা খুব অল্প সময়েই ইবিকে আমার স্বর্গে পরিণত করে দিয়েছিলো।

যেহেতু হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রথম ব্যাচ আমরাই ছিলাম, শিক্ষক মহলের পুরোটা ভালোবাসা আর সমর্থন আমাদেরকে ঘিরেই ছিলো। সত্যি বলতে আমরা খুব অল্প সময়েই একটা পরিবারের মত হয়ে গিয়েছিলাম।

আবেগ, অনুভূতি, আন্তরিকতা আর ভালোবাসা দিয়ে তৈরি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ক্যাম্পাসগুলোর মধ্যে একটি। যেখান থেকে প্রতি বছর অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।