মোহাম্মদ আব্দুর রহমান | কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুর রহমান | কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি


বখাটের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মারধর-হুমকি; ক্ষোভে আত্নহত্যার চেষ্টায় এক সন্তানের মা






গাজীপুরের কালীগঞ্জে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় এক সন্তানের জননীকে মারধর করে এলাকার বখাটে ও নারী খেকো বিল্লাল ফরাজী (৪০)। পরে মোবাইল ফোনে ওই নারীর পরিবারকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর ফলে রাগে-ক্ষোভে বিষপান করে এক সন্তানের জননী জেসমিন আক্তার ওরফে রিপা (২৩)। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ৭দিন ধরে ওই নারী উত্তরাস্থ রিজেন্ট হাসপাতালের আইসিওতে রয়েছেন।

মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়গাঁও এলাকায় গত ১০ আগষ্ট। গতকাল শনিবার সকালে নির্যাতিতা জেসমিনের মা নুরজাহান আক্তার বাদী হয়ে নারী লোভী ও সন্ত্রাসী বিল্লাল ফরাজীকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিগত ৫ বছর পূর্বে জেসমিন আক্তারের বিয়ে হয়। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় এক বছরের মাথায় তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এর পর থেকে জেসমিন তার বাপের বাড়িতে দুই বছর ছয় মাস বয়সের নুহা আক্তার নামে এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতে থাকে। বড়গাঁও গ্রামের গিয়াসউদ্দিন ওরফে গেসু ডাকাতের ছেলে সন্তাসী ও নারী লোভী বিল্লাল ফরাজী মেয়েকে বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রস্তাব দিতো এবং উত্ত্যক্ত করতো। বিল্লাল এর আগে দুটি বিয়ে করেছে তার একটি সন্তানও রয়েছে। সে খারাপ প্রকৃতির লোক হওয়ায় তার বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়নি জেসমিন ও তার পরিবার।

নির্যাতিতার মা ও মামলার বাদী নুরজাহান আক্তার জানান, কালীগঞ্জ পৌরসভার মূলগাঁও এলাকায় জেসমিনের বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তার পরিবার। এ বিষয়টি জানার পর সন্ত্রাসী বিল্লাল ১০ আগষ্ট বেলা সাড়ে তিন ঘটিকার সময় বড়গাঁও জনৈক কবির হোসেনের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় জেসমিনকে একা পেয়ে গতিরোধ করে। তখন আবার তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় বিল্লাল, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে বিল্লাল তাকে চর-থাপ্পর ও কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করে। আহত অবস্থায় ওই নারী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানান।

পরে নির্যাতিতা ওই নারীর পরিবারের লোকজন ওই দিন বিকেলে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য হেমিক ফরাজীকে অবহিত করে। স্থানীয় মেম্বারের নিকট অভিযোগ করায় সন্ত্রাসী বিল্লাল ক্ষিপ্ত হয়ে জেসমিনের মার মোবাইলে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। তার সাথে মেয়েকে বিয়ে না দিলে জীবনে মেরে ফেলবে বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোবাইল কেটে দেয় সন্ত্রাসী বিল্লাল। লাউড স্পিকারের মাধ্যমে মা নুরজাহান আক্তার কথা বলায় পাশে অবস্থান করা জেসমিন বিল্লালের ভয়ভীতি ও অশ্লীল কথাবার্তা শুনতে পায়। পরে রাগে-ক্ষোভে অভিমানে জেসমিন বাড়ির ভেতর যেয়ে বিষাক্ত দ্রব্য সেবন করে ঘরের পার্শ্বে গাছের নিচে মাটিতে লুটে পড়ে।

পরে তার মার ডাকচিৎকারে বাড়ির আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসে। জেসমিনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে তাকে উত্তরাস্থ রিজেন্ট হাসপাতালে নিয়ে আইসিওতে ভর্তি করেন । নির্যাতনের শিকার জেসমিন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ৭দিন ধরে রিজেন্ট হাসপাতালের আইসিওতে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই ওই নারী লোভী বিল্লাল ফরাজী একই এলাকার বড়গাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি ওই শিক্ষার্থীর পরিবার বিল্লালের পরিবারকে জানালে বিল্লাল ক্ষিপ্ত হয়ে ওই শিক্ষার্থীর পিতা-মাতাকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ রয়েছে। বিল্লাল এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় ওই ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও কালীগঞ্জ থানাকে অবগত করেও কোনো প্রতিকার পায়নি বলে ওই শিক্ষার্থীর পরিবার জানান।

একের পর এক অঘটনা ঘটানোর পরও তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে না পুলিশ প্রশাসন। এলাকায় বিল্লালের অসামাজিক কর্মকান্ড বেড়ে যাওয়ায় সাধারন জনগণের মনে সর্বদা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নাম না প্রকাশের শর্তে এলাকার কয়েকজন বলেন, বড়গাঁও এলাকার চাঞ্চল্যকর যুবলীগ নেতা মামুন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বিল্লাল ফরাজী। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকলেও সে এলাকায় অবস্থান করে অসামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ এখনোও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

স্থানীয় মেম্বার আব্দুল হেকিম ফরাজী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিল্লাল ফরাজী খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক। সে মামুন হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। জেসমিন আক্তার তার বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করেছে। পরে সে ওই পরিবারকে ভয়ভীতি দেখালে রাগে জেসমিন বিষপান করে। এর আগে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় বিল্লাল। এর প্রতিবাদ করায় ওই শিক্ষার্থীর মা-বাবাকে ও সে মারধর করে।

এক সন্তানের জননীকে মারধর ও বিষপান সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর মিয়া বলেন, অভিযুক্তকারীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।