বই পাঠের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে

মোহাম্মদ তারেকউজ্জামান খান

» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ - ০৭:০৪:২৮ অপরাহ্ন

শিক্ষা অর্জনের একমাত্র ধারক ও বাহক হলো বই। বই মানুষের মনের খোরাক জোগায়, সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটায়। মানুষের প্রতিভাকে ফুলের মতো প্রস্ফূটিত করে। যে জাতি যত শিক্ষিত সেই জাতি তত উন্নত। আর এই উন্নতির মূলে রয়েছে বই। বই মানুষের জীবনকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যায়।

সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস সৃষ্টি ও এর উন্নয়ন এবং মানুষকে গ্রন্থ ও গ্রন্থাগার মনস্ক করা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। অপরাপর যে কোন অভ্যাসের ন্যায় পাঠাভ্যাসও শিশু-কিশোর বয়স থেকে গড়ে তোলা যেমন সহজ, তেমনি কার্যকরও বটে। শৈশব ও কৈশোরে পড়বার ও জানবার আগ্রহ থাকে সব চাইতে তীব্র। আবেগ ও কৌতুহলে মনে হয় রোমাঞ্চিত। সে বয়সেই ছেলে মেয়েদের বই পড়ার দিকে আগ্রহী করে তোলা প্রয়োজন। বই মানুষের জীবনের নিত্য সঙ্গী ।

যিনি কিছু জানতে চান, তাকে বই পড়তেই হবে। কারণ জ্ঞানার্জনের জন্য বই পড়ার চেয়ে সহজ মাধ্যম দ্বিতীয়টি নেই। বই পড়ার জন্য প্রথম প্রয়োজন অভ্যাস। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, শৈশব থেকেই এই অভ্যাস তৈরি করতে হবে, এটা অত্যন্ত সহজ ব্যাপার।

অভিভাবকদেরকেই এ দায়িত্বটা নিতে হবে। সব শিশুই বই ভালবাসে, বিশেষ করে আনন্দমূলক কোন বই। এ ধরনের কোনো বই হাতের কাছে পেলেই তারা পড়তে চেষ্টা করে। ভালোভাবে পড়তে না পারলে বানান করে পড়ে। তাও যদি না পারে তবে ছবি দেখে বুঝতে চায়। সব শিশুদের মধ্যে এ আগ্রহটা আছে।

অভিভাবকদের উচিত শিশুদের এ আগ্রহটা কাজে লাগানো। শিশুরা যখন একটু পড়তে শেখে, তখন সে অনেক কিছুই পড়তে চায়। অনেক অভিভাবক তাতে বাধা সৃষ্টি করেন। ক্লাসের পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্য কোন বই পড়তে দিতে তারা নারাজ। এটা ঠিক নয়; বরং উচিত বই পড়ার ব্যাপারে তাদের উৎসাহিত করা। নতুন বই সংগ্রহ করে দেয়া, ভাল ভাল বই কিনে দেয়া।

পাঠাভ্যাস যেহেতু জন্মগত কোন বিষয় নয়, সেই জন্য মানব শিশুর ক্ষেত্রে পাঠাভ্যাসের চর্চা, পরিশীলন ও পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির একান্ত প্রয়োজন রয়েছে। শিশুকে খুশি করার জন্য আমরা অনেক আয়োজন করি। শিশুকে ঘিরে আমরা সবাই গড়ে তুলতে চাই এক আলোময় আনন্দলোক। যদি শিশুটির শৈশবের গোড়াপত্তন হয় গল্পের বই পড়া ও শোনার মধ্যে, তবে সে এই অভ্যাসকে সহজপ্রাপ্য নিত্য অভ্যাসের বিষয় হিসাবেই নেবে। এভাবেই পুস্তকের সঙ্গে শিশুর ঘটবে পরিচয় ও ভালোবাসা।

মনীষী লিও টলস্টয় বলেছেন, মানুষের জীবনের শুধু তিনটি জিনিসের প্রয়োজন সে তিনটি জিনিস হলো বই, বই এবং বই। ওমর খৈয়াম বলেছেন, রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে, কিন্তু একটি বই অনন্ত যৌবনা যদি বইটি তেমন বই হয়।

মানুষ আজন্ম জ্ঞান পিপাসু। তার সবকিছুই জানার আগ্রহ থাকে। তার অদম্য জানার স্পৃহাকে একমাত্র দমন করতে পারে বই। যা হাতের কাছে পাওয়া যায় তাই যদি মানুষ পড়ে তা হলেও অনেক কিছু শিখতে পারে।

আজকের শিশু আগামী দিনের দেশের যোগ্য নাগরিক, তাই একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কোমলমতি শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলতে, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত,তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ গড়তে অবশ্যই শিশুদের বই পাঠের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক উত্তরা নিউজ, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি- উত্তরা পাবলিক লাইব্রেরি।