ফেলে আসা দিন; চাঁদ দেখার একাল সেকাল


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২০ - ০৯:০২:৫৭ অপরাহ্ন

মোহাম্মদ শাহ আমান চৌধুরী- এইতো বছর পাচেক আগে সন্ধ্যার পূর্বে দলবেঁধে ছেলেমেয়েরা একসাথে পূর্ব নির্ধারিত কোন জায়গায় জড়ো হতাম, সবার একটাই উদ্দেশ্য রমজানের চাঁদ দেখা। মাগরিব আযান পূর্বে কখনো বা উঁকি দিতাম গাছের ফাঁকে কখনো কখনো বাঁশঝাড়ের মাথায়। আস্তেআস্তে বড়জনরাও আসতে শুরু করতো। কারো কোলে কিম্বা কাঁধে ছোট্ট শিশু, সেও আজ চাঁদ দেখার আনন্দ ভাগ করে নিতে আসছে।
মক্তবের সবার থেকে পটু ছেলেটা গুনগুনিয়ে নতুন চাঁদ দেখার দোয়া পড়তো। লোকসমাগম বাড়তো সবার মনে কৌতূহল চাঁদ কবে দেখবে! সবার নজর পশ্চিম আকাশে, তখন কেউ বলতো চাঁদ দেখছে হুড়মুড়িয়ে একজনের উপর অন্যজন পড়ে যেত চাঁদ দেখার জন্য কিন্তু  একদৃষ্টিতে তাকানোর পর দেখতাম না ওটা চাঁদ নয় ওটা সান্ধ্য তারা। দূর গা থেকে জয়ধ্বনি শোনা যেত। কেউ হুট করে আঙ্গুল উঁচিয়ে বলতো ওইতো কাঁচির মতো ওইতো পশ্চিম আকাশে  কাঁচির মত রমজানের চাঁদের হাসির সাথে সকলের মনে খুশির জোয়ার বয়ে যেত। সবাই সমস্বরে বাধভাঙ্গা উল্লাসে ফেটে পড়তো এপাড়া থেকে ওপাড়া। গ্রামের অন্ধকারে মেঠোপথ থেকে ইটের পথে মিছিলের এক হইহই রইরই অবস্থা। মিছিলের স্লোগান  “চাঁন উইল্যে চাঁন উইল্যে। কোলে থাকা অবুঝ শিশু অন্যদের দেখাদেখি সেও আনন্দে মাতোয়ারা।
দূর গা’ থেকে শুনা যেত রমজানের মিছিল মনের মধ্যে উত্তাল তরঙ্গ ওঠতো আহা সে কি আবেগ অনুভূতি যেন স্রষ্টা অদৃশ্য থেকে তার রহমতের মাসের রহমত মনের ভেতর ঢেলে দিয়েছে। আজকের ছেলেমেয়েদের নেই কোন আবেগ অনুভূতি যান্ত্রিক সভ্যতার এসময়ের মানুষের মনও যান্ত্রিক হয়ে গেছে। বদলে যাবার মিছিলে সব কেমন জানি বদলে গেছে! হায় আবার যদি ফিরতে পারতাম সেই সোনালী সময় যখন ছিলনা কোন অভিযোগ অনুযোগ ছিল শুধু অবুঝ মনের চাওয়া পাওয়ার দোলাচল।
ভাবতেই কেমন জানি মনের ভেতরটায় মোচড় দিয়ে ওঠে স্মৃতি চৌম্বকীয় ঠান দেয় কিন্তু আমার সেই যাওয়ার মতো চৌম্বকত্বটা যে নেই।