ফেলানী দিবস পালন করল নাগরিক পরিষদ;

৯ বছরেও বিচার পায়নি বাংলাদেশ, ফেলানীর পরিবার

» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২০ - ০৬:০৭:২৫ অপরাহ্ন

আজ ৭ জানুয়ারি ২০২০ মঙ্গলবার ফেলানী দিবস উপলক্ষ্যে নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে সকাল ১০.৩০ টায় তোপখানা রোডস্থ নির্মলসেন মিলনায়তনে বিশ্বব্যাপী ফেলানী দিবস পালনের দাবীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারী কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানার অনন্তপুর সীমান্তে নুরুল ইসলামের সামনে তাঁর নিষ্পাপ কুমারী মেয়ে ফেলানীকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে, হত্যাকারী বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের কোন বিচার হয়নি। বাংলাদেশ বিচার পায়নি। গতকাল আমরা ঢাকা কূটনৈতিক এলাকায় পার্ক রোড অথবা যেকোন একটি রাস্তার নাম ফেলানী সরণী করার দাবিতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে একটি স্বারাকলিপি পেশ করেছি।
তিনি বলেন, বিচার আর ক্ষতিপূরণের জন্য ঘুরছে ফেলানীর পরিবার। মানবাধিকার ও সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশিত রিপোর্ট মতে ২০০০-২০১৮ সাল পর্যন্ত বিএসএফ সীমান্তে দেড় হাজারের অধিক বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। বারবার সার্বভৌমত্ব লংঘন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে সাধারণ নাগরিকদের হত্যা-নির্যাতন করে এবং ধরে নিয়ে যায় তারা। আমরা মনে করি ফেলানী হত্যার বিচার না হলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে না। আমরা, নাগরিক পরিষদ জাতিসংঘে স্মারকলিপি দিয়ে ৭ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী সীমান্ত হত্যা বিরোধী ফেলানী দিবস পালন করার আহ্বান জানিয়েছি। বাংলাদেশ সরকার সীমান্তহত্যা বিরোধী ৭ জানুয়ারী ফেলানী দিবস পালনে জাতিসংঘে প্রস্তাব আনার আহ্বান জানাই।
আজ ২০২০ সালের ৭ জানুয়ারী ফেলানী দিবসে আমরা দাবী করি:
 ৭ জানুয়ারী বাংলাদেশসহ সারবিশ্বে ফেলানী দিবস পালন করুন।
 ফেলানীর পরিবারকে কমপক্ষে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
 ফেলানী হত্যাকারী বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের ফাঁসি ও ফেলানী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
 ঢাকা কূটনৈতিক এলাকায় পার্ক রোড অথবা যেকোন একটি রাস্তার নাম ফেলানী সরণী করতে হবে।
 সার্বভৌমত্বের লংঘন বন্ধ করতে হবে।
 কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তের নাম ফেলানী সীমান্ত নামকরণ করতে হবে।
 বাংলাদেশকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
 সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, ২০০১ সালের ১৮ই এপ্রিল রৌমারীর বড়াইবাড়ী সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশ ঢুকে বিডিআর ক্যাম্প আক্রমণের চেষ্টা প্রতিরোধকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়া, দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক মোঃ হারুন অর রশীদ খান, কমান্ডার কাজী সামসুল করিম সেলিম, লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান ইরান, স্বদেশ পার্টির নেতা রফিকুল ইসলাম মন্টু, হাসান মঞ্জু পিডিপি’র নেতা, গণশিল্পী নূরুন্নেছা শান্তা, এনইউ আহম্মেদ নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব হিফজুর রহমান, নাগরিক পরিষদের ঢাকা মহানগরের নেতা এয়াকুব শরীফ,  দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতা নূরুল ইসলাম বিপ্লব সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।